মুসলমান মাদ্রাসা শিক্ষার বিরোধীতা করতে পারে না কেন?

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বিডিনিউজ২৪ডটমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে দেশের আনাচে কানাচে এত মাদরাসা হয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে আমাদের বক্তব্য নাই, কিন্তু সেই শিক্ষা থেকে আগে কারা বের হতো? মাদরাসা থেকে বের হয়েছেন ওবাইদুল্লাহ আল উবাইদী, সোহরাওয়ার্দী সাহেবের নানা। ….আমাদের শওকত ওসমান, মাদরাসার। আমাদের আবু জাফর শামসুদ্দীন, তিনিও মাদরাসার। আমাদের জহির রায়হান এবং শহীদুল্লাহ কায়সার, তারাও মাদরাসার। আমাদের কুদরৎ-ই-খোদা মাদরাসার। ইনারা কেউ কি ধর্মান্ধ ছিলেন? কেউ কি মৌলবাদি ছিলেন? ছিলেন না’।

খেয়াল করুন, শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের সবলসিংহপুর গ্রামে জুনিয়র মাদ্রাসায় লেখাপড়া শুরু করেন। এখানে ক্লাশ সিক্স পর্যন্ত পড়েন। তারপর তিনি কোলকাতার আলীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিলেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি বাংলা, ইংরেজি, আরবী, ফার্সি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। সেযুগের স্যার সৈয়দ আহমদের আলীয়া মাদ্রাসা সনাতন মাদ্রাসার ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে জেনারেল শিক্ষা মুসলমানদের মধ্যে প্রসারে কাজ করে। জহির রায়হান, শহীদুল্লাহ কায়সার, কুদরত-ই খোদা তারা সকলেই এই ঘরনোর মাদ্রাসাতে লেখাপড়া করেছিলেন, আহমদ শফী-বাবুনাগরিদের কওমি মাদ্রাসাতে নয়। সেযুগের মুসলমানরা নিজেদের বাঙালী হিন্দুদের চেয়ে ভিন্ন জাতি মত করত। মুসলমানরা ‘মাদ্রাসাতে’ পড়বে এমনটাই ছিলো বদ্ধমূল বিশ্বাস। সে কারণেই সৈয়দ আহমদ কলার ভেতরে তিতা বড়ি ভরার মত করে মুসলমানের ধর্মীয় শিক্ষার ছলে ইংরেজি বিজ্ঞান দর্শন পড়ানোর ব্যবস্থা করেন। কালক্রমে আলীয়া মাদ্রাসাও এখন সেই ‘তিতা বড়ি’ ফেলে দিয়ে কওমির মতই শুধু কলা বেচছে। তাই এখনকার সময় কওমী আলীয়া দুটোই অপশিক্ষার স্থান। এই শিক্ষা ব্যবস্থায় মানুষকে কেবল মুসলমান করে তোলে। এই মুসলমানদের কাছে জ্ঞান হচ্ছে অচ্ছুৎ। অমুসলমান মানেই শত্রু। রাষ্ট্র ব্যবস্থা বলতে এরা ফ্যাসিস্ট শরীয়াতন্ত্রকেই বুঝে। এখান থেকে কুদরত-ই খোদা, শওকত ওসমানদের মত মানুষ জন্মাতে পারবে না।

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দুদের কুসংস্কার অশিক্ষা থেকে মুক্তি দিতে সরাসরি শাস্ত্র শিক্ষার বিরোধীতা করে বলেছিলেন, এইসব বেদ-বেদান্ত উপনিষেদ পড়ে কোন লাভ হবে না আজকের যুগে। আমাদের শিখতে হবে পাশ্চত্যের জ্ঞান বিজ্ঞান বস্তুবাদী দর্শনকে…। অথচ মুসলমানরা এই একুশ শতকে এসেও বলতে পারছে না, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা উঠিয়ে দিতে হবে। বরং উল্টো মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় আগে কত সক্রেটিস জন্মগ্রহণ করত তার বিকৃত তথ্য দিচ্ছে! বলছে ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য নেই। বাংলাদেশের তথাকথিত মার্কামারা বা স্বঘোষিত এইসব অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ‘মুসলমানদের’ স্বরূপটা আসলে প্রকাশিত হয় বিশেষ বিশেষ কিছু মুহূর্তে। যেমন ব-দ্বীপ প্রকাশনীর একটি অনুবাদ বই নিয়ে ইসলামপন্থিরা বইমেলায় হামলার হুমকি দিলে শামসুজ্জমান খান সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, ‘তুমি আসো, তোমাকে দেখাবো যে নারী সম্পর্ক বিষয়টা নিয়ে ওই বইটাতে (ব-দ্বীপ প্রকাশনীর প্রকাশিত বই) হযরত মোহাম্মদ (স.) কে কী কুৎসিত চরিত্রে অংকন করেছে। আমি এটা সবটা বললে তাকে (প্রকাশককে) মেরে ফেলবে’।

বুঝা গেছে আগরতলা আর চকিরতলার তফাত?