পোশাক পরার সময় যে নরকযন্ত্রণা অনুভূত হয়।

Spread the love

পোশাক পরার সময় যে নরকযন্ত্রণা অনুভূত হয়, তা থেকেই উপলব্ধি করা সম্ভব আর যাই হোক জামাকাপড়ের সভ্যতা এ দেশের জন্য নয়। গামছা, বড় জোর লুঙ্গি — হ্যাঁ এ দেশের পক্ষে এ দুটিই যথেষ্ট। 

গামছাবাঁধা দই এবং গামছাবাঁধা মানুষ — এদেশের দুটি উল্লেখযোগ্য অবদান।  আর লুঙ্গি?  সে বস্তুটি তো দিন দিন বেড়েই চলেছে। নগ্ননগরী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আচার্য রজনীশ ওরফে ওশোকে যে কেন সুদূর ওরেগনে দৌড়তে হয়েছিল বুঝিনা। এদেশেও ওই রকম কয়েক ডজন বানিয়ে ফেলা উচিত।

গরমে যে দেশে মরমে পর্যন্ত মরতে হয়, সে দেশের ভাগ্যে যে কী আছে সহজেই অনুমেয়!  রবি ঠাকুরকে পর্যন্ত এদিক সেদিক, এদেশ ওদেশ পালিয়ে থুড়ি ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল। ইউরোপ থেকে শুরু করে হিমালয়ের বিভিন্ন শৈল শহর, শিলাইদহের নৌকা, 

শ্যামলীর নির্মাণ —তালিকাটি দীর্ঘ!  ওঁর জন্মদিন মানে পঁচিশে বৈশাখ পর্যন্ত শান্তিনিকেতনে  পালিত হত না। কবি তার আগেই পগার পার!  কিন্তু দোলযাত্রা অথবা পৌষমেলা!  কী প্রেম কী প্রেম! 

শান্তিনিকেতনের উৎসব বলতে তো এ দুটিকেই বোঝায়!  তবে ভাবুন কতটা ভয় পেলে নিজের জন্মদিনের মায়াটাও এমন করে কাটানো যায়! 

জলবায়ুর সঙ্গে পশ্চাৎ গামিতার অথবা অগ্রগতির একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে বলে মনে হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত এবং সমৃদ্ধ দেশগুলির প্রায় সবই শীতপ্রধান।  ফ্রান্স জার্মানিই বলুন অথবা স্ক্যান্ডিনেভিয়া। কী বললেন?  জাপান?  সে তো অনেকাংশেই আমেরিকার প্রায়শ্চিত্ত।  সে ইতিহাস পরে বলব।

গ্রীষ্মপ্রধান দেশ মানেই অত্যধিক জনসংখ্যা, ( এটা এখনও মাথায় ঢোকে না!  এত গরমে এসব ভাল লাগে!)  অশিক্ষা, দারিদ্র্য এবং দুর্নীতি।  বেশ ভালই বুঝি প্রেম করার আবহাওয়া ছিল না বলেই সাততাড়াতাড়ি বিয়ে করে indoor games এর ব্যবস্থা!  outdoor এ যে আগুন জ্বলছে! 

 

অবাক হই এই ভেবে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলির জন্ম গ্রীষ্মমণ্ডলের দেশগুলিতেই হয়েছিল। সে সিন্ধুসভ্যতাই বলুন, আর মেসোপটেমিয়াই বলুন। আর মিশরীয় সভ্যতা তো আফ্রিকায়! 

কী গরম!  কী গরম! অথচ দেখুন সেই দেশগুলিই এখন তৃতীয় বিশ্বের অন্তর্গত। ইজিপ্ট,  ইরাক, ( মেসোপটেমিয়া), ভারত, পাকিস্তান  ( সিন্ধু সভ্যতা), চীন ( ইয়াং সি নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চাইনিজ সভ্যতা) সব দেশগুলির এখন কী দশা কম বেশি সবারই জানা। কেন এই পরিণতি! 

উত্তর কিন্তু আমার কাছে আছে। ওই যে হকি খেলার মত!  কী বুঝলেন না?  ভারত যখন হকি খেলত, তখন এশিয়ার দেশগুলিই পৃথিবী কাঁপাত। ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলি হকি শুরু করার পর ধ্যানচাঁদের ভারতের যে কী দশা তা আপনারা জানেন! 

মস্কো অলিম্পিকস -এর পর বেচারা আর হালেই পানি পেল না। তবু মার্কিন লবির দেশগুলি সেই গেমস বর্জন করেছিল বলে!  আর ক্রিকেট!  প্রথম বিশ্বের দু একটা দেশই সিরিয়াসলি খেলে!  তাতেই অস্ট্রেলিয়ার নাম শুনলেই — থাক আর নাই বা বললাম।

শুধু প্রার্থনা করুন। সময় অপচয়কারি বলে কুখ্যাত এই খেলাটি ভাগ্যিস ওরা খেলে না।

দেখুন  গ্লোবাল ওয়ার্মিং – এর গল্পটা আবার শোনাবেন না।  কলকাতার অদ্যাবধি র সর্বোচ্চ উষ্ণতা ৪৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই পারদ ১৯৪৫ সালে চড়েছিল। এই গালভরা শব্দটির তখন জন্মই হয়নি।

এদেশে অনেক বহিরাক্রমণকারী এসেছিল। শক, হূণ, পাঠান, মোগল, ওলন্দাজ ইংরেজ!  সবাই পালিয়েছে। গুটিকতক ইংরেজ যারা এদেশে থাকত তাঁদের বেশিরভাগই ওদেশের স্ট্যানডার্ডে ভদ্রলোক নয়। আপনারাও তা জানেন।

উপনিবেশগুলিতে সাধারণত চোর ডাকাত,  ইত্যাদিকেই পাঠানো হত। তাঁরাও আবার গরমকালে পাহাড়ে পালাতেন।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস ইংরেজরা নিজে থেকেই পালাতেন। আর কয়েকটা বছর অপেক্ষা করলেই সেটা ঘটত। বহিরাগতদের মধ্যে একটি জনগোষ্ঠীই খুব আনন্দের সঙ্গে এদেশে থেকে গিয়েছেন। কারা?  অবশ্যই মুসলমান আক্রমণকারীরা।

আর যাই হোক আরবের মরুভূমির চেয়ে এদেশের জলবায়ু অনেক অনেক আরামদায়ক।  এটাই একমাত্র সান্ত্বনা। 

নইলে শিক্ষা দীক্ষা বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে  তাঁদের অমূল্য অবদান থেকে আমরা বঞ্চিত হতাম।

(বি দ্র : ভারতকে নাতিশীতোষ্ণ পরিমণ্ডলের অন্তভুর্ক্ত করা ভদ্রলোকটিকের নাম আর ঠিকানা যদি পান, আমাকে জানান। মে মাসের দুপুরে রেললাইনে দাঁড়িয়ে মোকাবিলা হবে। একমাসও ঠিকঠাক শীত থাকে না। তার জন্য নাতিশীতোষ্ণ! )