ধর্মযুদ্ধ: ধর্মের নামে অধর্মের বিরুদ্ধে পৃথিবীতে সচেতন মানুষ ও নেতৃত্ব লড়াই শুরু করে দিয়েছেন। আশা করি এতদিনে বিশ্বের মানুষ সন্ত্রাসবাদের ধর্ম খুঁজে পেয়েছে। সেইজন্যই “খান” টাইটেল দেখলেই আমেরিকায় এয়ারপোর্ট গুলোতে প্রায় উলঙ্গ করে সিকিউরিটি চেক করছে। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকেও প্যান্ট খুলতে হয়েছে।

চীনের সরকার একটা গোটা প্রদেশের লোককে জবরদস্তি ক্যাম্পে রেখে তাদের মগজ থেকে ইসলামিক ধর্মান্ধতা সাফ করে স্বাভাবিক মানুষ বানানোর চেষ্টা করছে। গোটা বিশ্ব ব্যাপী আরো বহুরকম চেষ্টা রাষ্ট্রনেতা, চিন্তাবিদরা এই কাজ করছেন। কতটা সফল হবেন এবং কতদিনে তা ভবিষ্যতই বলবে।

কিন্তু জিহাদের নামে যে সারা বিশ্বে অসংখ্য নির্দোষ মানুষের প্রাণহানি ও রক্তপাত হচ্ছে তার সঠিক কারণ খোঁজা দরকার। আর এড়িয়ে যাওয়া উচিত হবে না।

অনেক বিদ্বান ও ইসলাম বিশেষজ্ঞের  মত, ইসলামের স্পষ্ট আদর্শ ও চিন্তাধারার জন্যই এই প্রাণহানি ও রক্তপাত হচ্ছে। মোমিনরা গত ১৪০০ বছর ধরে যে কাফের হত্যা করছে, তা তারা মনে কোন পাপবোধ নিয়ে করছে না।

তারা এটাকেই ধর্ম বুঝে, পুণ্যলোভে, মনে পবিত্র ধার্মিক ভাব নিয়ে কাফের ও মুরতাদ মারছে। তাই শুধু তাদের সঙ্গে লড়াই করলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, একটা আদর্শ নিয়ে চলা মানুষদেরকে হত্যা করে সেই আদর্শকে হত্যা করা যায় না।

সেই আদর্শকে নিরস্ত করতে হয়। তাই শুধু মুসলমানের সঙ্গে লড়লে চলবে না। তাদের আদর্শ ওই ইসলামের বিরুদ্ধে তাত্ত্বিক লড়াই লড়তে হবে। আমার দীর্ঘ সংঘ জীবনে এই লড়াই আমি খুব কমই দেখেছি। ভারতবর্ষে এই লড়াইয়ের পথিকৃৎ স্বামী বিবেকানন্দ, সাভারকর, আম্বেদকর, রামস্বরূপ, সীতারাম গোয়েল, শিবপ্রসাদ রায়, অরুণ শৌরী, রাধেশ্যাম ব্রহ্মচারী, সুহাস মজুমদার, ফ্রাঁসোয়া গতিয়ে এবং আরো কয়েকজন। সেই লড়াইয়ে আমিও কিছুটা ভূমিকা পালন করেছি।

আরব-সাম্রাজ্যবাদ ধর্মযুদ্ধ
আরব-সাম্রাজ্যবাদ ধর্মযুদ্ধ

উপরের এই তালিকায় আমি আর এস এস প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার হেডগেওয়ার এর নাম রাখিনি বলে অনেকেই আমার উপর খড়্গহস্ত হবেন।

ভারতে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াইতে ডাক্তার হেডগেওয়ার এর বিশাল ভূমিকা আছে। কিন্তু তাত্ত্বিক লড়াইয়ে তাঁর ভূমিকা সম্বন্ধে প্রশ্ন উঠবে।

আমার ধারণায়, ডাক্তারজী মনে করেছিলেন যে ইসলামের বিরুদ্ধে ভারতের তাত্ত্বিক লড়াইয়ের কোনো দরকার নেই। কারণ, ইসলাম সোজাসুজি বিদেশী আক্রমণকারীরূপে ভারতে ঢুকেছে, এবং লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণ, দেবমূর্তি ও মন্দির ধ্বংস, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ – এসব প্রকাশ্যে করেছে।

সুতরাং ইসলাম ও তার ধারক বাহকরা শুধু একটা অন্য ধর্মের নয়, তারা ভারতের উপর আক্রমণকারী বিদেশী শত্রু, এটা মানুষকে আলাদা করে বোঝানোর কোন দরকার নেই। যা দরকার তা হল, এই বিদেশী আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও শারীরিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি করা। সেই কাজই ডাক্তারজী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত করেছেন, সোজাসুজি মুসলিমদেরকে হিন্দু ও হিন্দুস্থানের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে, তাত্ত্বিক লড়াইয়ের দিকে না গিয়েই।

কিন্তু আজকে সংঘ নেতৃত্ব বোধহয় অন্য কিছু ভাবছেন। তাঁরা মুসলিম সমাজেরই একটা অংশকে নিজেদের দিকে টেনে আনতে চাইছেন। এটা তাঁরা আন্তরিকভাবে করছেন না কৌশল হিসাবে করছেন, তা আমি বলতে পারবো না। কিন্তু মনে হয়, ডাক্তারজী জীবিত থাকলে এটা বোধহয় অনুমোদন করতেন না। ডাক্তারজীর জীবনে প্রত্যক্ষ এরকম ঘটনা আছে যা ‘নানা পালকর’ রচিত ডাক্তারজীর বড় ও পূর্ণাঙ্গ জীবনী গ্রন্থে পাওয়া যায়।

ইসলামের বিরুদ্ধে এই তাত্ত্বিক লড়াইয়ে পূজনীয় শ্রীগুরুজীও সামান্যই মনোযোগ দিতে পেরেছেন। তাঁর মনোযোগের বেশিরভাগটাই ব্যয় হত, হিন্দুর ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে যা কিছু ভাল সেগুলোকে কিভাবে রক্ষা করা যায় সেই প্রচেষ্টায়।

এছাড়াও সদ্য স্বাধীন দেশের আরো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁকে লিপ্ত হতে হয়েছিল। যেমন, কাশ্মীরে পাক হানাদার বাহিনীর মোকাবিলা, মহারাজা হরি সিং কে ভারতভুক্তিতে রাজী করানো, হায়দ্রাবাদ ও গোয়া মুক্তি অভিযানে কেন্দ্র সরকারকে সাহায্য করা, পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত শরণার্থী সমস্যায় সহযোগিতা, কমিউনিস্টদের প্রসার আটকানো, কন্যাকুমারী বিবেকানন্দ স্মৃতি মন্দির, বিভিন্ন মঠ ও পন্থের হিন্দু ধর্মগুরুদেরকে রাষ্ট্রমুখী করা, ১৯৬২ র ভারত চীন যুদ্ধে শাস্ত্রীজীকে সাহায্য করা, ইত্যাদি অসংখ্য সমস্যা ও বিষয়ে গুরুজী গোলওয়ালকরজী কে মন দিতে হয়েছিল।

তাই ইসলামের বিরুদ্ধে তাত্ত্বিক লড়াইয়ে তাঁর তেমন ভূমিকা আমার নজরে পড়ে নি।
আমিও যখন বর্ধমানের পূর্বস্থলী থেকে আশির দশকে প্রথম এই লড়াই শুরু করি তখন তা তাত্ত্বিক ছিল না। তারপর তো দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছি। ইসলামিক ধর্মান্ধতা, হিংস্রতা ও দখলদারি প্রবণতার বিরুদ্ধে সোজাসুজি সংঘর্ষ করতে করতে তাত্ত্বিক লড়াইয়েরও প্রয়োজনীয়তা আমি অনুভব করেছি। এবং বেশ কয়েকবার বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে লক্ষ্য করেছি যে সারা পৃথিবীতে সচেতন মানুষ ও নেতৃত্ব এই লড়াই শুরু করে দিয়েছেন।

এই লড়াইয়ের অন্যতম পুরোধা ড্যানিয়েল পাইপস সুদূর আমেরিকা থেকে আমার সঙ্গে দেখা করতে কলকাতা এসেছেন। আমেরিকার বিখ্যাত সাংবাদিক ফিলিস চেসলার, লন্ডনের টমি রবিনসন ও আরো অনেকে আমার কাজকে স্বীকৃতি ও উৎসাহ দিয়েছেন। এসবের ফলে আমিও প্রেরণা পেয়েছি এই লড়াইয়ে যোগ দিতে। সেই প্রেরণা নিয়ে যেটুকু পারছি ইসলামের বিরুদ্ধে এই তাত্ত্বিক লড়াই লড়ছি।

Tapon ghosh

আর পড়ুন….