ঈশ্বরের যদি জাত না থাকে, তাহলে হিন্দুদের মধ্যে জাতিভেদ থাকবে কেন ? ধরা যাক, একটি লোক বাস-ড্রাইভার। কোন পণ্ডিত লোক এসে তাকে বললো, “বাসটা তোমার অস্থায়ী ঠিকানা। তোমার আসল ঠিকানা হচ্ছে, তোমার বাড়ি। যেখানে তোমার পিতা-মাতা-ভাই-বোন-স্ত্রী-সন্তানরা বসবাস করে। তুমি সারাদিন এই বাসটির চিন্তায় বিভোর ; বাসটা তো তোমার না,মালিকের। অন‍্যের অস্থায়ী জিনিসের জন্য এত চিন্তা না করে, তোমার উচিত সর্বক্ষণ বাড়ির সবার কথা চিন্তা করা।”

ঐ পণ্ডিতের পরামর্শ অনুযায়ী ড্রাইভার সাহেব যদি বাসটির চিন্তা বাদ দিয়ে, শুধু তার পরিবার-পরিজনের কথা ভাবতে থাকে – তাহলে চলন্ত অবস্থায় খোদ ড্রাইভার সহ ঐ বাসের ৪০ জন যাত্রীর জীবন কি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে না ? হিন্দু ধর্মগুরুদের কাণ্ডজ্ঞানহীনতাও ঠিক তেমনি। তারা বললো, এত অর্থ-সম্পদ, ইহজাগতিক বিষয় নিয়ে ভাবছো কেন ! তোমরা পরকাল নিয়ে ভাবো। তোমরা সমাজ-সংসার-রাষ্ট্রের ভাবনা ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দাও।”

কালাজ্বরের প্রতিষেধক আবিষ্কারক উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী-দূরর্ম

বিপ্লবী নেতা যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন)

 

হিন্দুরা ধর্মগুরুদের কথা কি ফেলতে পারে ; তারা জগত-সংসারের সমস্ত বৈষয়িক ভাবনা বাদ দিয়ে, সম্পূর্ণ পরকাল-মুখী হয়ে পড়ল। ফলাফল কি হলো ! বিদেশিরা এসে তাদের রাষ্ট্র কেড়ে নিলো, সম্পদ কেড়ে নিলো ; কূল নারীদের যৌন-দাসী হিসেবে এবং হিন্দু পুরুষদের পুরুষাঙ্গ কর্তণ করে শ্রম-দাস হিসেবে বিদেশে রফতানি করতে লাগলো ; দেশে দেশে হিন্দুরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।

এই ইতিহাস কোন কল্পকাহিনী নয়। কিছুদিন আগেও   সিরিয়া ও ইরাকে, সনাতন ধর্মের ধ্বংসাবশেষ  নীরিহ  ইয়াজিদিদের, কত নৃশংস ভাবে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে , শিশু বৃদ্ধা নির্বিশেষে ধর্ষণ করে – যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ― সেই স্মৃতি নিশ্চয়ই সবার মনে আছে।

ভারতে ইরাক-সিরিয়ার মতো শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না, তাই ধর্মনিরপেক্ষতার ছলনা-জাল পাতা হয়েছে। ঐ প্রতারণা-ফাঁদে পা দিলে সর্বনাশ। কাশ্মীর-নর্থইস্ট-মুর্শিদাবাদ-মালদা-বশিরহাট প্রভৃতি স্থানে – যেখানে হিন্দু সংখ্যালঘু, সেই হব এলাকায়, হিন্দুদের জীবনে নরকের অন্ধকার নেমে এসেছে। কথায় কথায় হিন্দুদের হত্যা করা হয়, হিন্দু নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়, হিন্দুদের বাড়িঘর-দোকানপাট লুটপাট করে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

কোন সেক‍্যুলার বুদ্ধিজীবী তখন প্রতিবাদ করে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ এসে উল্টো হিন্দুদের ধরে নিয়ে যায়। এই তো সেদিন, দত্তপুকুরে লোকনাথ-মেলায় একটি হিন্দু কিশোরীকে রেপ করতে ব‍্যর্থ হওয়ায় – প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে, সংঘবদ্ধ ভাবে গোটা হিন্দু জনপদ মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী চারজন হিন্দুর অমূল্য জীবন অকালে নির্বাপিত হয়েছে।

 

বেদ- একটা গল্প ও তার কাটাছেঁড়া, শ্রেণীসংগ্রাম অর্থাৎ ইতিহাস কিন্ত থেমে নেই, থেমে নেই পথ…

চাড্ডি শব্দ অর্থ কি? অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি অবশেষে স্থান করে নিলো চাড্ডি।-দুরর্ম

হিন্দুদের সমস্যাগুলো কোথায় – তার নির্মোহ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। গতবছর কয়েকটি বাচ্চা ছেলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ‘রাম’-নাম নিচ্ছিলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঐ পথ দিয়ে গাড়ি হাকিয়ে যেতে যতে ‘রাম’- নাম শুনে এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন – তিনি গাড়ি থেকে নেমে বাচ্চাদের ধাওয়া করলেন এবং পুলিশ দিয়ে ঐ ছেলেদের গ্রেফতার করালেন। ঐ বাচ্চাদের অপরাধ কি ? তারা ‘রাম’-নাম নিচ্ছিল ― এই তো! বাচ্চারা কি তাদের ভগবানের নাম নিতে পারবে না ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আল্লাহর নাম নিচ্ছেন – তাকে তো কেউ বাধা দিচ্ছে না ; তাহলে তিনি  ‘রাম’-নাম নেওয়ার জন্য বাচ্চাদের জেলে ঢুকালেন কেন ?

 

ভারত এখনো হিন্দু সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ; তা সত্ত্বেও ‘রাম’-নাম নিয়ে জেলে যেতে হয় ― এরচেয়ে দুর্ভাগ্য আর কি থাকতে পারে ! সমাধানের একটাই পথ – সেটা হচ্ছে হিন্দুরা যদি একত্রিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোট দেয় ― তাহলে তৃণমূল গং আর হিন্দুদের এত ক্ষতি করতে পারবে না। অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কতিপয় দালাল ধর্মগুরু  হিন্দু-ঐক্যে ফাটল ধরাতে, জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা অস্ত্র ব‍্যবহার করবে।

 

ঐ সমস্ত ইতর ধর্মগুরুদের বললেন,” ঈশ্বরের যদি জাত না থাকে, তাহলে হিন্দুদের মধ্যে জাতিভেদ থাকবে কেন ? একজন ঈশ্বর-সন্তানকে অস্পৃশ্য ঘোষণা করার তুমি কে ? তুমি কি ঈশ্বরের থেকেও শক্তিমান ! হাজার হাজার বছর ধরে জাতির অনেক সর্বনাশ করেছ তোমরা। এখন তোমরা নিবৃত্ত হও। নাহলে লাথি মেরে পথে আনবো।”

 

আরো পড়ুন……

রাজা রামমোহন রায় : ভারতীয় রেনেসাঁর জনক

সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক আদি শংকরাচার্য…….।।।

রাষ্ট্রভাবনা রবীন্দ্রনাথ ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ।-দুরর্ম

বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের সেই মর্মান্তিক কাহিনী