জ্ঞানী VS জ্ঞানপাপী……………………………..!!!!

একটা লাইন দিয়ে জ্ঞানপাপী আর জ্ঞানীর সঙ্গাহিত করা যায় কি? মাঝে, মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে কত GB জ্ঞান থাকলে বুদ্ধিজীবী হওয়া যায়। আজ সমাজে বিবেক প্রতিবন্ধী বুদ্ধিজীবী সংখ্যা দিন,দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বস্তুত এরা কোন জ্ঞানী নয়, বরং এদেরকে বলা যেতে পারে জ্ঞানপাপী ডেড়ামাত্র। কথায় আছে প্রশ্নই, জ্ঞানের জননী। আর এই প্রশ্ন থেকে মানুষ তার ইন্দ্রিয় দ্বারা যে সকল অনুভূতি লাভ করে, তার বৈশিষ্ট্যসমূহ মন দ্বারা শনাক্ত হয়। এই অনুভূতি থেকে জ্ঞানের উদ্ভব ঘটে। অনুভূতিগুলো প্রাথমিকভাবে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জ্ঞ (জানা)-এর জন্ম দেয়, তাকে বলা হয় অভিজ্ঞা। আর একাধিক অভিজ্ঞার সূত্রে উৎপন্ন হয় জ্ঞান। কিন্তু সেই জ্ঞান যদি সমাজ, দেশ, জাতির বিরুদ্ধচারীত হয়, তবে সেই জ্ঞান ধারণ কারীকে বলা হয় জ্ঞানপাপী।

সময় গড়িয়ে যায়, সময়ের ধারাবাহিক ঘুরন্ত চক্র তার নির্দিষ্ট গোলাকার কক্ষপথে সদা ঘুর্ণায়মান। অনেকেই আমরা জ্ঞানী আর শিক্ষিত লোককে এক সাথে গুলিযে ফেলি, যাহা পুরটাই ভূল। যিনি লেখা পড়া জানেন তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষিত । তিনি যে বিষয়ে জানেন তিনি সেই বিষয়ে শিক্ষিত । আর যিনি জেনে বা না জেনে উপলব্ধি করতে পারেন তিনি জ্ঞানী । শিক্ষার পরিমাপ করা যায়,কিন্তু জ্ঞানের পরিমাপ করা যায় না। এখন প্রশ্ন হলো, জ্ঞানপাপী কারা? যারা  জ্ঞানকে পুঁজি করে নিরপেক্ষতার আইল ঠেলে, চোখ বুজে মানবতা বিরোধী একপেশে গীত গেয়ে যায়, তারাই মূলত: জ্ঞানপাপী। তাদের সেই জ্ঞানের আলো আর যাইহোক;  মানব কল্যাণের বার্তাবাহী হতে পারেনা।

আমাদের সমাজে শিক্ষিত ও বিদ্বান বলে পরিচিত কিছু লেখক-বুদ্ধিজীবী; যারা নিজেদেরকে ভাবে সম্মানিত ও ধর্তব্য নাগরিক এবং সমাজ-চিন্তক ও মুক্ত-স্বাধীন চিন্তাধারার ধারক-বাহক। অথচ তাদের বক্তব্য-বিবৃতিতে পবিত্রতা ও সততার উপস্থিতি একেবারে শুণ্যের কোঠায়! “তোমার সাথে আমি একমত না হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের পথ সুগম করতে প্রয়োজনে আমি নিজের জীবনবাজি লাগাতে পারি” এই মনোভাবের সুঘ্রাণ জ্ঞানীর কলমের কালি থেকে নির্গত হবার কথা। জ্ঞানীর চোখে “ধর্মীয়,সামাজীক, বিভাজন” বলতে কিছু থাকেনা। সব ধর্মের, বর্ণের অত্যাচারিতরা জ্ঞানীর জ্ঞানের মোহনীয় স্পর্শে সিক্ত ও আমোদিত। অথচ আমাদের সমাজের কতিপয় “স্ব-স্বীকৃত” জ্ঞানী, মত প্রকাশের নামে দেশ, সভ্যতা, সংষ্কৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরাই“ বিবেক প্রতিবন্ধী বুদ্ধি-ব্যবসায়ী”, জ্ঞানের পসরা সাজিয়ে, রমরমা ব্যবসায় ব্যস্ত! এরা অত্যচারীর সাফাই গায়। পীড়িত কণ্ঠকে চেঁপে ধরে। সমাজের কর্তৃত্ব যেন আজ এদেরই হাতে। তদ্রুপ গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী,বিবেকান্ধরা মুখে গণতন্ত্রের খৈ ফুটালেও তা কেবল গ্রন্থবদ্ধ ভাবেই নীরবে ছটফট করছে।

লেখক,
জয় বন্দ্যোপাধ্যায়