#ঘড়ি_সাহেব_ও_রামতনু_লাহিড়ী

লোকে তাকে একসময় ঘড়ি সাহেব বলত ।সে সব এখন অতীতের কথা । তার ঘড়ির ব্যবসা ছিল রমরমা। বেশ মোটা টাকা কামিয়েছিল সে।

বেটে খাটো মোটা মোটা চেহারায় তাকে অপদস্ত নিরীক্ষণ করছেন । রামতনু জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে।………..

রাজা রামমোহন রায়ের “আত্মীয় সভা ” স্থাপন করেছিলেন । আত্মীয় সভার একজন অন্যতম সদস্য ছিলেন বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় । তিনি ছিলেন হুগলি জেলার ভাঙ্গামোরা গ্রামের মানুষ । দেওয়ানি করে প্রচুর সম্পত্তি করেছিলেন।  সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার হাইড ইস্টের কাছে দেখা করতে গিয়েছিলেন বৈদ্যনাথ বাবু।  তাঁর পরিচয় পত্র লিখে দিয়েছিলেন রাজা রামমোহন রায়। বৈদ্যনাথ বাবু ইংরেজি শেখার জন্য একটি স্কুল খোলার প্রস্তাব দেন স্যার হাইড ইস্ট কে।

এর ফলে 1817 সালে পত্তন হয় হিন্দু কলেজের। বৈদ্যনাথ বাবু এদেশীয় প্রথম সম্পাদক হন, কলেজ পরিচালন সমিতির।  ডেভিড হেয়ার ও সে বছর পরিচালন সমিতির সদস্য নির্বাচিত হন । হিন্দু কলেজের হাত ধরেই জন্মলাভ করে স্কুল বুক সোসাইটি এবং স্কুল সোসাইটির।

হেয়ার সাহেব ছাত্র জোগাড় করতে গিয়ে ঘড়ি ব্যবসা লাটে তুলে দিলেন  । হেয়ার শেষমেষ বন্ধুবর গ্রে সাহেবের এর কাছে বিক্রি করে দেয় তাঁর ঘড়ি ব্যবসা । 

একদিন সুপ্রভাত এ শহর কলকাতার জনৈক গৌড়মোহন বাবু র সঙ্গে রামতনু এলেন চেতলার হেয়ার সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে।

“মি পুওর বয়। হ্যাভ পিটি ওন মি। টেক ইন ইওর স্কুল।” হেয়ার সাহেবের পালকির পিছনে ছুটতে ছুটতে শেখানো বুলি বলতে লাগল বালক রামতনু ।

এরকম কয়েকদিন ছোটাছুটি করলেই সাহেবের মন গলে যেতে পারে। একথা সে শুনেছিল। তাই নাওয়া খাওয়া ভুলে এরম ছোটাছুটি করল বেশ কয়েক দিন। একদিন অভুক্ত রামতনুকে দেখতে পেয়ে দয়া হল সাহেবের।

তিনি পালকি থামিয়ে রামতনু কে জিজ্ঞেস করলেন , “তোমার কি খুব ক্ষুধা পাইয়াছে বালক? “
খেরেস্তান ম্লেছ সাহেব , রামতনু ছিটকে সরে গিয়ে বলল , “না সাহেব”

“বাবা সটটি কঠা বলিতে হয়। নাহলে ঠাকুর পাপ দেয়।  টুমাকে হামার বাড়িটে খাইতে হইবে না। মিঠাইওয়ালার দোকানে টুমাকে খাইতে দিবে ।”ধরা পড়ে গেল বালক ।কিন্তু পেট ভরে মিঠাই খেতে গিয়ে হেয়ার সাহেবের পালকি গেল চলে । এরম ভাবে দুই মাস কেটে যাওয়ার পর নাছোড়বান্ধা রামতনু কে হেয়ার সাহেব স্কুলে ভর্তি নিলেন ।

স্কুলে ভর্তির সময় রামতনু বয়স তিনি লিখলেন আট বছর।  রামতনু বলল” আমার বয়স নয় বছর । ” হেয়ার বললেন ” না বালক টুমার আমার বয়স 8 বছর । টুমি উহাই লিখিবিয়ে।”

তথ্যঃ

ধর্মান্তর