হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রীষ্টানদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু।

Collected Post from the Wall of fb friend রাজর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় |

বাংলাদেশের দাদাবাবু ১ :
——————————-
বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই এক জগাখিচুড়ি ইসলামী “কর্পোরেট কালচার” বা “মডারেট ইসলাম” চালু হয়েছে ! এই কালচারের অনুসারী মুসলিমরা অকৃতিম ইসলামকে নতুন মোড়কে পেশ করছে । মেয়েদের আপাদমস্তক পর্দা না করে শালীনভাবে শাড়ী বা সালোয়ার কামিজ পরলেই হবে । ভিন্ন ধর্মের বন্ধুদের সাথে তাদের আচার-অনুষ্ঠানে যোগদান করা । তারা ধর্মের চেয়ে মানবতা বড় টাইপের বুলি মুখে! এরা সাধারণত দিনে হয়তো একবার নামাজ পড়ে, শুক্রবার দুপুরে-শবে বরাত-শবে মেরাজের রাতে খুব গম্ভীরমুখে নামাজ পড়তে যায় । জাকির নায়েক-হারুন ইয়াহিয়া’দের ব্যাপারে আপাত উদাসীন । তাদের কথা : ইসলাম খুবই শান্তির ধর্ম কিন্তু আধুনিকভাবে মানতে হবে । “আধুনিক” মানে পুরোনো মদ নতুন বোতলে। সবশেষে “ধর্মীয় মৌলবাদ” ইসলামের মূল শত্রু !! গুটিকয় পথভ্রষ্ট “কট্টর” মুসলিমের জন্য পুরো ইসলামকে দোষারোপ করা ঠিক না !

কিন্তু ব্যাপারটা আদতেই তা নয় । অকৃতিম ইসলামের বৈজ্ঞানিক কিতাব কোরান বলে:
১.’হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রীষ্টানদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদের (ইহুদি ও খ্রীষ্টানদের) অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ যালিমদের পথ দেখান না। (আল কোরআন, ৫ : ৫১)’।
২.’মুমিনগণ যেন মুমিন ব্যাতিরেকে অন্য কোনো অমুসলিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এমন করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবেনা। (আল কোরআন, ৩ : ২৮)।
৩.’আর তাদেরকে হত্যা করো যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে… (আল কোরআন, ২ : ১৯১)’।
৪.’আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই করো, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। (আল কোরআন, ২ : ১৯৩)’।

জিন্নাহ’র দ্বি-জাতি তত্ত্ব অনু্যায়ী বাংলাদেশ তো হিন্দুদের দেশই না ! মুক্তিযুদ্ধকে সামনে রেখে এই ধারণা থেকে বাংলাদেশ তৈরী হয়নি, তবে “আদিরূপ” পাকিস্তান কিন্তু এই তত্ত্বেরই সন্তান। হিন্দুরা বাংলাদেশে বহুলক্ষেত্রে মানসিক কষ্টে থাকতে থাকতে অনেক সময় বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে । ধর্মনিরপেক্ষ এইদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম!! তার মানে কি হিন্দুরা এদেশের মুসলিমদের সমান না ? সংবিধানের শুরুতে আছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”। একজন হিন্দু বা ভিন্নধর্মী কেন এই সংবিধানকে মেনে নেবে ? সরকারী টিভি’তে অধিবেশনের শুরুতে আল কোরআন’এর তর্জমা হয়; অথচ বাকি ধর্মগ্রন্থের আলোচনা হয় তিনদিনে একবার। সরকারী বাংলা বইয়ে কেন “মরূ ভাস্কর” বা হযরত মুহাম্মদ (সা)’এর জীবনীসহ অন্যান্য ইসলামী কাহিনী থাকবে ? একটা ক্লাস ফোরের হিন্দু ছাত্র তার বাংলা পরীক্ষায় কেন “পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কে ?” প্রশ্নের উত্তরে “হযরত মুহাম্মদ ” উত্তর দেবে ?

হিন্দুরা খুব খারাপ কারন তারা বাংলাদেশকে নয় বরং ভারতকে কে নিজের দেশ ভাবে । বেশ, মেনে নিলাম ! স্কুল পোষাকের একটি জরুরী অংশ টুপি । হিন্দুরা মাথায় টুপি দেয়না সমাবেশে’র জন্য যখন মাঠে একসাথে দাড়ায় ছাত্ররা তখন হাতে গোনা হিন্দু ছাত্রদের খুব সহজেই আলাদা করা যায় ! কিছু শিক্ষক নামে কলংক প্রতিদিনই তাদের অপমান করে: “কিরে তুই হিন্দু নাকি? টুপি কই?” বা “তোদের জন্য আলাদা লাইন লাগবে”। হয়তো বা খেলার মাঠে শুনতে হয়:“দাদাবাবু বা ড্যাডা এদেশ ছাড়।  এটা তোদের দেশ না !!”

ছোটবেলা থেকে এরকম ব্যাবহার পেলে কিভাবে একটি জন্মসূত্রে হিন্দু শিশু নিজেকে এদেশের মানুষ ভাববে?