পুরোপুরি ইসলামী শাসনই পৃথিবী থেকে ইসলামের বিলুপ্তি ঘটাবে। মডারেট বা মধ্যমপন্থি বাংলাদেশ গণতন্ত্রের সঙ্গে ইসলাম চটকিয়ে, তারপর রবীন্দ্র সংগীত সহযোগে মুসলিম উম্মাহর জয়গান গেয়ে শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর দেখতে বসে ইজতেমার আয়োজন নিশ্চিত করে আহমদ শফী প্রেমে পড়ে বেগম রোকেয়া নামে বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে ইসলামকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। ইসলামী শাসনের আসল মজা না পেলে তো মুসলমানরা ইসলামকে ত্যাগ করবে না। মডারেট ঈমানদার মুসলমান টেলিভিশনে যেমন রবীন্দ্র সংগীতের অনুরোধ জানিয়ে ফোন লাগায় তেমনি জেলায় জেলায় মসজিদ নির্মাণ করে। এই ভারসাম্যতাই ইসলামকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়…।

এই যে বাংলাদেশের পুলিশ ইসলামী রাষ্ট্রের ‘ধর্মীয় পুলিশের’ ভূমিকা নিয়েছে, অথচ দোহাই দিচ্ছে নিরাপত্তার- অর্থ্যাৎ গণতন্ত্র আর ইসলামের ঘ্যাট পাকিয়ে এখন সরাসরি বলতে পারছে না- থার্টিফাস্ট পালন করা হারাম। এই দিনে নারী-পুরুষের মিলিত বেয়াল্লাপনা চলবে না। এই কথাগুলো বলেই ইসলামপন্থিরা হুমকি-ধামকি দিচ্ছিল ৯০-এর দশকের পর থেকে। তখন আফগান যুদ্ধ থেকে মাদ্রাসার ছাত্ররা ফেরা শুরু করেছে মাত্র।

মডারেটরা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কুরআনের ভাস্কর্য জনগণকে সুরসুর দিতে থাকবে। পাছায় যখন কুরআনের দোররা শুরু হবে তখনই এইসব ভাস্কর্যকে জনগণ প্রকৃত ঘৃণা করতে থাকবে। যে বইটা নারীদের স্বামীর বহুবিবাহের অনুমতি দেয়, মানুষের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে, শরীয়ার নামে সব রকম স্বাভাবিক মানবিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে সেটি জনগণের উপর পুরোপুরি প্রয়োগ না ঘটলে এরকম ভাস্কর্য দেখে ‘সুবাহান্নাল্লাহ’ বলতে ইচ্ছে হবেই। ইরানী-সৌদি নারীদের কতজন এই ধরণের ভাস্কর্য দেখে ঘৃণায় মুখ লুকায় তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান জানা না গেলেও আমাদের কাছে তথ্য আছে সংখ্যাটা দিনকে দিন উর্ধমুখী। এইসমস্ত দেশে মুসলিম তরুণ যুবকদের ইসলাম বিরোধী মনোভাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ হঠাৎ ঝলসে উঠতে দেখা যায়। সেইদিন বেশিদূরে নয় যেদিন এইসমস্ত তারুণ্য শক্তি কুরানি শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে উঠবে।

বাংলাদেশে নিজের বাড়ির চার দেয়ালের ভেতরও ইংরেজি নববর্ষ পালন করতে হলে পুলিশের অনুমতি নেয়া লাগবে। এর অর্থ হচ্ছে কার্যত ইংরেজি নববর্ষ পালন করা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ পুলিশ ইসলামী রাষ্ট্রের ধর্মীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েছে। তারা বইমেলাতে ইসলাম বিরোধী বই আছে কিনা তার নজরদারী করে। বাংলা নববর্ষে বিকেলের মধ্যে মেয়েদের উৎসব স্থল থেকে চলে যাবার ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেয়াসহ বিগত বছরগুলো সংগীত, মেলা, প্রদর্শনীর অনুমতি বন্ধ করে দিয়ে দেশে ইসলামী অনুশাসন নিশ্চিত করছে। পুলিশ অবশ্যই কারোর নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। সেই মডারেট শক্তি এসব করার পিছনে দোষ চাপাচ্ছে নিরাপত্তার। মডারেটরা অন্যের কাছে বন্দুক রেখে ইসলামের জন্য শিকার করে। এটাই ইসলামকে বেশ সুবিধাজনক স্থানে রেখে দেয়…।