বাঙালির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবেঃ ( প্রথম অংশ )

বাঙালি হিন্দু বাঁচবে কি বলা কঠিন। তবে মনে হয় বাঁচবে না। মানুষগুলো মরবে না। কিন্তু বাঙালি থাকবে না।

অনেকগুলো কথা আছে।

প্রথমত, বাঙালি হিন্দু কথাটা পুনরুক্তি। হিন্দু ছাড়া বাঙালি হয় না, বাঙালি মানেই হিন্দু। যাদের মাতৃভাষা, সংস্কৃতি, পরম্পরা, খাওয়াদাওয়া এই বাংলার মাটিতে অনেকদিন ধরে একইরকমভাবে চলে আসছে, তারাই বাঙালি। গোসল করে গোস্ত খেলে বাঙালি থাকা যায় না, তেমনি ইরফান হয়ে ফুফু, খালা বলেও বাঙালি থাকা যায় না। বাংলাদেশে কিছু ভীতু হিন্দু ও নাস্তিক মুসলমান এই একটা বাঙালি জাতি তৈরির চেষ্টা করছেন বটে, কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হবে না; বড় জোর একটা নতুন বাংলাদেশি গোষ্ঠী তৈরী হবে, যারা আদ্যন্ত মুসলমান। সুতরাং বাঙালি মানেই হিন্দু, আর বাংলাদেশি মানেই মুসলমান-এই জায়গায় এসে শেষ হবে। বাঙালি মানেই তো হিন্দু, কিন্তু সেই বাঙালি থাকবে কি? টিকবে কি? মনে হচ্ছে টিকবে না। শুধু বাঙালি নয়, আরো দুটি গোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে-কাশ্মীরি হিন্দু ও মালয়ালি হিন্দু। আশ্চর্যের কথা, এই তিনটি প্রজাতির মধ্যেই ভীষণরকম মিল। এই তিনটি প্রজাতিই তর্কবাগীশ, আড্ডা দিতে ও কথা বলতে খুব ভালবাসে। এরপর আসা যাক একটু পরিসংখ্যানে। সারা বিশ্বে মোট বাংলাভাষীর মধ্যে ত্রিশ শতাংশ হিন্দু, কাশ্মীরিভাষীদের মধ্যে পনেরো শতাংশ হিন্দু এবং মালয়ালিভাষীদের মধ্যে প্রায় পয়তাল্লিশ শতাংশ হিন্দু। অদ্ভূত মিল না! ভারতের আর কোন ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে এই অবস্থা হয় নি, অর্থাৎ সেই ভাষায় কথা বলা লোকের মধ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়া। কী করে এই তিনটি ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে গেল, সেটা অত্যন্ত গভীর গবেষণার বিষয়। এই লেখা সেই গবেষণার পরিধির বাইরে। এই লেখার উদ্দেশ্য শুধু বর্তমান ঘটনাবলী, লক্ষণ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভবিষ্যতে পরিণতি বোঝার চেষ্টা করা।

(ক্রমশঃ)

সৌজন্যেঃ স্বদেশ সংহতি সংবাদ। পূজা সংখ্যা; ২০১৭, পৃষ্ঠা – ৬
লেখকঃ শ্রী তপন ঘোষ