“বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে ছিলেন…?”

– নিশ্চই সবাই একবাক্যে বলবেন, কেন?…  আলীবর্দি’র নাতি সিরাজউদ্দৌলা…।।

কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো, নবাব আবার “স্বাধীন” হতে পারেন কি ভাবে…??

এখন যদি বলা হয় “স্বাধীন গভর্নর”!  – কথাটা কেমন শোনায়? গভর্নর যেমন স্বাধীন হতে পারেন না, তবে নবাব কি আর স্বাধীন হতে পারেন?…  উভয়ের মানেই তো এক, – প্রাদেশিক শাসনকর্তা।

…. আর যিনি প্রাদেশিক শাসনকর্তা হন, তিনি তো অবশ্যই দিল্লী’র বাদশা’র পদানত।

আর একটা কথা উল্লেখ্য। সিরাজ’কে তো প্রকৃত পক্ষে নবাব বলাই উচিৎ নয়। কারন তার কাছে দিল্লী’র বাদশাহেরও কোন নবাবী ফর্মান ছিল না।

তবে আলীবর্দি’র কাছে সে ফর্মান থাকায়, তাকে নবাব বলা যেতেই পারে।

আলিবর্দি’র মৃত্যুর পর তার বড় মেয়ে ঘসেটি বেগমের ছেলে তথা বিহারের পূর্নিয়ার শাসনকর্তা সৌকতজঙ্গ যখন দিল্লী’র দিকে ফর্মান আনতে ছোটেন, পথেই সিরাজের চর তাকে গুপ্তহত্যা করে।

এই ভাবে সিংহাসনকে নিষ্কণ্টক করে সিরাজ তা দখল করলেও দিল্লীর বাদশাহের কাছে তার কোন আদৌ বৈধতা ছিল না।

…. ওদিকে বাদশাহের সিপাহশালার ছিলেন মিরজাফর। অর্থাৎ মিরজাফর ছিলেন আজকের প্রেসিডেন্টের অধীন, কলকাতা ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার ইন কমান্ড (GOC)….। খুব স্বাভাবিক ভাবেই যেখানে সিরাজের কাছে নবাবী করারই কোন বৈধ সিলমোহর ছিল না, তাই তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি মিরজাফর। বরং দিল্লীর বাদশাহের (ফারুখশায়ার) দুর্বলতার সুযোগে চেয়েছিলেন ইংরেজদের সাহায্য নিয়ে কি ভাবে বাংলার শাহেনশা হওয়া যায়।

ধরুন,… আজ যদি শ্রীমতি মমতা ব্যানার্জী কোন যুদ্ধ লড়তে চান, আর তার জন্য তিনি সেনাবাহিনী’র ইস্টার্ন কমান্ডের GOC’র কাছে সর্বোত সাহায্য চান, তবে কি ফল হতে পারে? প্রেসিডেন্ট বা দিল্লী’কে এড়িয়ে সেই ব্রিগেডিয়ার সাহেব কি তার অনুরোধ রাখতে এগিয়ে আসবেন?

হা…  ইতিহাস…!
সিরাজ নাকি বাংলা বিহার উড়িষ্যা’র শেষ স্বাধীন নবাব…!!
– আর যত দোষ, সব মিরজাফরের…!!!