প্রত্যেক হিন্দুকে আবেদন করছি একটু সময় নষ্ট করে পোষ্টটা পড়ার জন্য….

কয়েক বছর আগে আমাদের পাড়ায় সাজিদ মিঞা নিজের পরিবারকে নিয়ে এসে বসবাস করতে লাগল । আমাদের পাড়াতে ৪০ টি ঘর ছিল যার মধ্যে ৩৯টি ঘর হিন্দুদের ছিল । কাশফুল ফুটতে শুরু করল মানেই দুর্গাপুজো এলো, আমাদের পাড়ার ৩৯ টি ঘর রং করা হল, বাড়ির উঠোন সবাই পরিস্কার করল, সব হিন্দুদের বাড়িতে রং করা দেখে সাজিদ মিঞাও ভাবল সবার বাড়িতে রং হচ্ছে তাহলে আমার বাড়িটা কেন খারাপ দেখায় তাই সাজিদ মিঞাও বাজার থেকে রং কিনে এনে তার বাড়িটাও রং করল ।
দুর্গাপুজোর পর দীপাবলী এলো, আমাদের পাড়ার ৩৯ টি বাড়িতে সবাই রংবেরং এর লাইট লাগালো, সাজিদ মিঞাও সেটা দেখে তার বাড়িতে লাইট লাগালো, এরপর যখন হিন্দুদের ছেলে-মেয়েরা বাজী পোড়াতে লাগল তখন সাজিদের বাচ্চারাও জেদ করল বাজী ফাটানোর, সাজিদ মিঞা বাজার থেকে ছেলে-মেয়ের জন্য বাজী কিনে আনল, এরপর হোলীর সময়ও একই ঘটনা ঘটল সাজিদ মিঞা রং কিনে আনতে বাধ্য হল তার ছেলে-মেয়ের আনন্দের জন্য ।

যখন আমি প্রথম প্রথম ফেসবুকে আসি তখন ফেসবুকে হিন্দুদের উৎসবের খুব মজা ওড়ানো হত । যখনই কোনো হিন্দুদের উৎসব সামনে আসত তখনই জিহাদীরা হামলা শুরু করে দিত, হিন্দুদের রীতি, সংস্কৃতি নিয়ে খুব মজা করা শুরু হত, মিমস তৈরী হত, কার্টুন তৈরী হত হিন্দুদের উৎসবকে ছোটো করার জন্য ।
এখন এসবের জন্য হিন্দুরাও একজোট হয়ে যাচ্ছে যখনই কোনো শান্তিপ্রিয় সম্প্রদায়ের উৎসব আসছে তখন আমরাও জয় শ্রী রাম বলে ফেসবুকে আক্রমণ শুরু করছি যেটা ওরা আগে করত ।

এটা ফেসবুকের কথা গেল, এবার আসুন ময়দানের কথায়…

মোমিনরা ফেসবুকে এবং ফেসবুকের বাইরে হিন্দুদের উৎসবকে নিয়ে যতই মজা করুক না কেন হিন্দুদের উৎসবে যে আনন্দ উপভোগ হয় তার ধারে পাশে কোনো ধর্মীয় উৎসব নেই ।
মোমিনদের উৎসবে আপনারা রক্ত, মাংস, নিজেকে নিজে কষ্ট দেওয়ার হিংসা দেখতে পাবেন কিন্তু হিন্দুদের উৎসবে রং, আলো,  উল্লাস দেখতে পাবেন । হিন্দুদের উৎসব শুধু একটা দেশে নয় পুরো বিশ্বের বাচ্চা থেকে বুড়োদের আকর্ষিত করে । হোলী হোক কিংবা দীপাবলী এখন সাত সমুদ্রে পেরিয়ে আমেরিকা, ইংল্যান্ডে পালন করা হচ্ছে এবং যদি কোনো বিদেশী ভারতে আসে তখন তারাও আনন্দের জন্য হিন্দুদের উৎসবে সামিল হয়ে যায় ।

আপনারা কখনও কি দেখেছেন একজন রাশিয়ান কে চাকু হাতে বকরী ঈদ পালন করতে, নাকি একজন জার্মানকে দেখেছেন ছাতি পিটে হায় হুসেন বলে মহরম পালন করতে?

রং, আলো, উল্লাস, প্রেমের জন্য আজ হিন্দুদের উৎসব বিশ্ব শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠছে । আমেরিকা থেকে ফিলিপিন্স সবাই হিন্দুদের উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে পড়েছে তাই দীপাবলী আমেরিকার হোয়াইট হাউসে পালিত হচ্ছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হোলী খেলছে….

গতকাল এক মোমিন ভাই আমাকে বলল- তাদের উৎসব নাকি শান্তি ও খুশীর উৎসব?
আমি বললাম- ভাই গরু, ছাগল, উটকে কেটে তোমরা কি করে বলো যে এটা শান্তি ও খুশীর উৎসব?  যদি সত্যিই শান্তি ও খুশীর দরকার তাহলে হিন্দুদের উৎসবে সামিল হয়ে দ্যাখো ।

রং, আলো, উল্লাস, শান্তি আছে বলেই সাজিদ মিঞার ছেলে-মেয়েরা জেদ করে দীপাবলীতে বাজী ফাটিয়েছে, জেদ করে আনন্দের জন্য হোলী খেলেছে, জেদ করে দুর্গাপুজোতে নতুন জামা-কাপড় কিনেছে হিন্দুদের দেখে, কই আমাদের পাড়ার কোনো হিন্দুর বাচ্চা সাজিদ মিঞার কুরবানী দেখে বাড়িতে এসে বলেনি, বাবা আমি ছাগল কেটে কুরবানী পালন করব, কই কোনো হিন্দুর বাচ্চারা বলেনি যে আমরাও সাজিদ মিঞার মত হায় হুসেন করে মহরমে নিজের রক্ত ঝরাবো?

যখন কোনো মোমিন হিন্দুদের উৎসবের নামে খিল্লি উড়ায় তখন একটা কথায় ভাবি রক্ত, মাংস, হিংসা যাদের উৎসবের মূল উৎস্ তখন আর হিন্দুদের উৎসব নিয়ে মজা করা মানায় না….

দুর্গাপুজো, দীপাবলী, হোলীতে মোমিন বাচ্চারাও আনন্দ করে কিন্তু মোমিন দের উৎসবে হিন্দুদের বাচ্চাদের সাথে মোমিনদের বাচ্চারাও লুকিয়ে থাকে ভয়ে কারন একটা শিশু কখনই রক্ত, মাংস, হিংসা দেখে আনন্দ উপভোগ করতে পারে না….