মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নারীদের বেচাকেনার কথা শোনা যাচ্ছে। এর আগে সিরিয়ান শরণার্থী ক্যাম্পে সৌদি আরব, আমিরাতের ধনী শেখরা মেয়ে শিশুদের কেনার কথা আমরা জেনেছি। মাত্র ১০০ দিনারে একটি ১২ থেকে ১৩ বছরের কন্যা শিশুকে কিনে নিতো আরবরা। এটাকে বলে দাসী ক্রয়। এই দাসীর সঙ্গে সেক্স করাই মূখ্য উদ্দেশ্য। এটি ইসলাম সম্মত একটি হালাল কর্ম। বরং দাসীদের বিয়ে করাই হারাম করা হয়েছে। বিয়ে ছাড়াই দাসী সম্ভগ ইসলামের একটি উপহার!

মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিসান্স শাইখ মুহা: আব্দুল্লাহ আল কাফী এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘স্ত্রীদের সাথে যৌন সহবাস যেমন বৈধ, অনুরূপ মালিকানাভুক্ত দাসীদের সাথেও। সকল বিদ্বান একমত যে বিনা বিবাহে, বিনা মোহরে ও স্বাক্ষ্যে দাসীদের সাথে সহবাসে লিপ্ত হওয়া তার মালিকদের জন্যে জায়েয। এতে কারো কোন মতবিরোধ নেই’। শাইখ সাহেব নিজের মতামত এখানে চাপিয়ে দেননি। তিনি সুরা মু’মিনূন’র বাইরে কিছু বলেননি। সেখানে বলা আছে, ‘আর যারা তাদের (ব্যভিচার থেকে) যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না’ (সূরা মু’মিনূন, ৫-৬)।

সৌদিসহ আরবরা অসহায় সিরিয়ান মেয়েদের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে দাসী হিসেবেই ক্রয় করেছিলো। ইসলামে দাস-দাসী ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ হালাল কাজ। যেহেতু কুরআনের কোন আয়াত এই বিধানকে বাতিল করেনি তাই এই প্রথা আজো ইসলাম সম্মত রয়ে গেছে। এ কারণেই শাইখ মুহা: আব্দুল্লাহ আল কাফী বলেছেন, ‘এখনও যদি ইসলামী আমীর বা খলীফার তত্বাবধানে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ বা ধর্ম যুদ্ধ হয়, আর যুদ্ধে মুসলিম মুজাহিদগণ জয়লাভ করেন, তবে কাফেরদের থেকে প্রাপ্ত ধন-সম্পদ যা মুজাহিদদের করতলগত হবে তার নাম ‘গীণমত’। নির্দিষ্ট নিয়মে যা তাদের মাঝে বন্টন করে দেয়া হবে। আরিনি যাকাফেরদের মধ্যে থেকে যারা বন্দী হবে তাদের পুরুষরা হবে মুজাহিদদের ‘দাস’ আর নারীরা হবে তাদের ‘দাসী’। এটা আল্লাহর দ্বীনকে গালেব করার জন্যে জান বাজি রেখে মুজাহিদদের জিহাদে অংশ নেয়ার জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার যা তিনি তাদেরকে দুনিয়াতে প্রদান করেছেন। আর আখেরাতে তো তাদের জন্যে অসংখ্য পুরস্কার রয়েছেই। আর কাফেরদের জন্যে এ দুনিয়াতে বিশেষ লাঞ্ছনা ও অপমান’।

ইসলাম কি চিজ তা এই শাইখ স্পষ্টবাদিতায় প্রকাশ করে দিয়েছেন। এরকম একটি মতবাদ এখনো কি করে পৃথিবীতে মানব সভ্যতার পরিপন্থি হয়েও বহাল তবিয়তে প্রচার হয়ে আসছে ভাবতেই অবাক লাগে! কেবল মাত্র ইহুদী নিধন আর বিদ্বেষের কারণে যদি ন্যাৎসিবাদ ঘৃণ্য পরিত্যাক্ত হতে পারে তাহলে ইসলামের মানব সভ্যতাকে (অমুসলিম আখ্যা দিয়ে) তাদের দাসে পরিণত করার আখাংকাকে কেন ঘৃণ্য বলা যাবে না? সিরিয়াতে যুদ্ধ পিড়িত, ক্ষুধা, আশ্রয়হীন নারী ও শিশুদের কিনে নিয়ে তাদের যৌনদাসী করতে এইসব আরবদের মনে কোন অনুশোচনা ছিলো না কারণ তারা জানে এসব ইসলাম স্বীকৃত কাজই। রোহিঙ্গা থেকে পালিয়ে আসা নারীদের কোন চক্র তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে তাদের বিক্রি করে দিলেও মনে মনে তারা হয়ত একটা ধর্মীয় মাসালা পেয়ে নিজেদের কাজকে জায়েজ করে নেয়।

মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী শাস্ত্রের উপর উচ্চতর লেখাপড়ার কারণে এখান থেকে বের হওয়া আলেমদের মুসলিম বিশ্বে অধিক মান্য করা হয়। ইসলামের দাসীদের অবাধে সেক্স, অমুসলিম নারীদের গণিমতের মালে পরিণত করা, অবিশ্বাসীদের হত্যা করার বিধান কোন বোধযুক্তি সম্পন্ন ব্যক্তির কাছেই ঘৃণ্য বলে মনে হবে। ইসলামপন্থিরা এটা জানেন বলেই তারা বলেন, ‘যারা যুক্তি ও বিবেক দিয়ে ইসলাম বুঝতে চায়, তারা বেশীর ভাগ সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে’। শাইখ মুহা: আব্দুল্লাহ আল কাফী কোন রকম রাখঢাক না রেখেই বলেছেন ইবলিশ পৃথিবীর প্রথম যুক্তিবাদী ছিলো তাই সে পথভ্রষ্ট হয়েছিলো! তিনি ধর্ম বিশ্বাসের একদম মূল সূত্রটা দেখিয়ে দিয়েছেন এই বলে, ‘ইসলামের প্রমাণিত বিষয়গুলো সাধারণ যুক্তির সাথে যদি মেলে তো ভাল কথা, অন্যথা না মিললেও মাথা নত করে মেনে নিতে হবে। তাহলেই ঈমানদার হওয়া যাবে। কেননা ঈমানদার হওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে যারা গায়েবী বা অদৃশ্য বিষয়গুলোকে বিশ্বাস করে’।

মুফতি সাহেব নিজে থেকে কিন্তু এইসব কথা বানিয়ে বলেননি। এটা তার ব্যক্তিগত মতও না। তিনি এই শিক্ষা পেয়েছে সরাসরি কুরআন থেকে। দেখুন সুরা আহযাবে কি বলা আছে, ‘আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল কোন আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করার কোন অধিকার নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করবে, সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে’ (সূরা আহযাবঃ ৩৬)। অর্থ্যাৎ আল্লার হুকুম বলে বিপক্ষ দলের নারীদের যৌনদাসী করলে এটা অমান্য করার কোন সুযোগ নেই। বিবেকবোধ মানবিকতা দিয়ে বিবেচনা করারও কোন সুযোগ নেই। যদি করেন তো আপনি ‘পথভ্রষ্ট’ হবেন! আপনি হবেন আল্লাহ আর রসূলের অবাধ্য। মুরতাদ! আর মুরতাদকে হত্যা করা ওয়াজিব!

এই হচ্ছে ধর্মের নৈতিকতা! এইসব মহান নৈতিকতা থেকে পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মগুলোও কম-বেশি খুবই সক্রিয়!