মায়ানমার গণমাধ্যমে উঠে এসেছে হিন্দুদের উপর চলা বর্বরতার সংবাদ। মায়ানমার সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬ হিন্দুকে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন। কিন্তু বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম বলছে, ৮৬ হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। আরাকান থেকে প্রাণ বাঁচাতে হিন্দুরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা নির্যাতিত হিন্দুদের ভাষ্য অনুযায়ী মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা হিন্দুদের ঘেরাও করে হামলা চালিয়েছে। এখন আপনারাই বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কখনোও কি দেখেছেন সেনাবাহিনী মুখোশ পরিহিত অবস্হায় মানুষ হত্যা করতে। আসলে রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনের উদ্দেশ্য ভারত ও হিন্দুদেরকে তাদের দলে ডেকে নিয়ে, তাদের ইমোশনালকে কাজে লাগানো। তবে আনন্দের সংবাদ, মায়ানমার হিন্দু সংগঠনগুলি আরাকান হিন্দুদের রক্ষায় যথেষ্ট কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৪২ হিন্দুকে আরাকান থেকে ইয়াঙ্গুন শহরের হনুমান মন্দিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের হাত থেকে ৪ শতাধিক হিন্দুকে রক্ষা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এছাড়া রোহিঙ্গাদের কবলে জিম্মি থাকা লাথা ও মংডু শহরে ৩০০ হিন্দুকে রক্ষা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এটাই মায়ানমার হিন্দুদের থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য। তাহলে বুঝতেই পারছেন আরাকান হিন্দুদের উপর কারা হামলা চালিয়েছে, এর জন্য আপনাকে বুদ্ধিজীবি না হলেও চলবে। আরাকান হিন্দুরা বাঙ্গালি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তারা আরাকান পালিয়ে যায়। মায়ানমার সরকার তাদের আশ্রয় দিয়েছে। আরাকানে রাখাইনদের হাতে হিন্দু নিধন কোনো দিনই হয়নি, এবারই প্রথম। তাও হামলা চালিয়েছে মুখোশধারীরা। উল্লেখ্য, ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  মায়ানমার সফরে যাচ্ছেন। এই অবস্হায় মায়ানমার সেনাবাহিনী কখনো হিন্দু নিধন চালিয়ে নিজেদের উপর বাড়তি চাপ ডেকে আনবে না। মায়ানমারে হিন্দু জনসংখ্যা ০.৫%,  বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ বেশ কিছু স্হানীয় হিন্দু সংগঠন রয়েছে। ইসকন রয়েছে, সরকারি উদ্যেগে রামায়ণ পাঠ হয়, দিপাবলীতে সরকারি ছুটিও আছে। কিন্তু তাই বলে যে, বৌদ্ধদের হাতে মায়ানমারের হিন্দুরা মাঝে মধ্যে নির্যাতিত হয় না, তাও কিন্তু নয়। আসলে কি বলুন তো, পৃথিবীর কোনো দেশই ধোঁয়া তুলসী পাতা নয়। প্রত্যেক দেশেই সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়। তবে অমুসলিম দেশগুলিতে মুসলিমরা রাজার হালে আছে, বরং সংখ্যালঘু মুসলিমরাই সংখ্যাগুরুদের হত্যা করছে। যেমন- ভারতে মুসলিমদের হাতে হিন্দুরা নির্যাতিত। সবশেষ এটাই প্রমাণিত হয় আরাকান হিন্দুদের রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনই হত্যা করছে। এখন মায়ানমার সরকারের কাছে দাবি থাকবে, দয়া করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা হিন্দুদেরকে মায়ানমারে ফিরিয়ে নিন। বাংলাদেশে তাদের নিরাপত্তার বড়ই অভাব।