একটা গল্প বলি,
বেশ কিছুদিন ধরেই বাজারে একটা গল্প চলছে, মানে বাংলাদেশের দিকে একটা গল্প চলছে পশ্চিমবঙ্গকে মোটামুটি কয়েক বছরের মধ্যে দখল করে নেওয়া হবে। নেহাত শিশূ সুলভ ভালো গল্প । লাস্ট তিন চারদিন ধরে বেশ কিছু ডিফেন্স ফোরামেও এই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, বেঙ্গল আসাম ত্রিপুরা আর আরাকান স্টেটকে জামাতিরা নিজেদের আন্ডারে নিয়ে একটা বৃহত্তর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। সাধু প্রস্তাব। অতি উত্তম প্রস্তাব। এবং স্বপক্ষে যুক্তিটি আরো মনগ্রাহী, এমনটি যদি হয় তাহলে বাংলাদেশের আয়তন বর্তমান ব্রিটেনের থেকে দেড় গুন বেড়ে যাবে। ভাবা যায়!!!
ওয়েল সাধু উদ্যোগ। কিন্তু আমি একটু বরাবরই আনারকিস্ট আর বড্ড পেসিমিস্টিক পাবলিক। গল্পটা শুনেই মাথায় কিছু স্টাটিটিক্সের হিসেব ঘুর্ঘুর করছিল। গল্পটা বলা যাক-
পশ্চিম বঙ্গের বর্তমান জনসংখ্যা ৯১ মিলিয়নের একটু বেশি। মানে সোজা কথায় ১০ লাখের সাথে ৯১ গুন করে যত হয় তত গুলি কালো কালো মাথা এই বেঙ্গলে এখন বর্তমান। টোটাল 91000000 জন। এবার আসামের হিসেবটি দেখা যাক, আসাম ৩০ মিলিয়ন মানে 30000000 জন, ত্রিপুরা আর আরাকান যথাক্রমে 6000000 ও 3118963 (সরকারি হিসেব)। তো টোটাল কুল মিলাকে হো গেয়া আপকা 130118963 জন।
এখন ব্যাপার হচ্ছে এরা সবাই সুস্থ অসুস্থ মানুষজন। খাই দাই হাগে। মেডিক্যাল সায়েন্স হিসেবে একজন লোকের দৈনিক মুত্রত্যাগের আনুমানিক হিসেব দেড় লিটার। মানে এখন এই 130118963 জন লোক যদি মোতে তাহলে সেই হিসুর পরিমান হবে গিয়ে ধরুন ১৯৩৬৭৮৪৪৪.৫০ লিটারের মত। একদম ঘন নির্জলা আমোনিয়ার গন্ধওয়ালা ফ্রেস হিসু। কি ভাবছেন আমরা সবাই মুতের জলে ভাসিয়ে দিলাম তোমার ঠিকানা গাইবো তো? উহু ওসব না, আমি এইসব চরম্পন্থী ব্যাপার স্যাপার থেকে দূরে।
অঙ্কটা আরে ঠিক করে করা যাক.
এই ১৯৩৬৭৮৪৪৪.৫০ লিটার মুত তো আর কেও বিসলেরি বোতলে বাড়িতে রাখবে না । এবং বের করতেই হবে, কাজেই সেই মুতের টোটাল কিউসেক ভাল্যু হোল গিয়ে ধরুন ৬৯১৭০৮৯ কিউসেকের মত। এইবার হচ্চে গল্প। ফারাক্কার টোটাল ক্যাপাসিটি ৫ লক্ষ কিউসেকের মত যার স্টেক হাফ হাফ বাংলাদেশ আর আমার দেশ বহন করে। এখন বাংলাদেশে ১৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিতেই হাল হয়ে আছে সবাই দেখতে পাচ্ছেন। এরপর ধরুন ৬৯১৭০৮৯ কিউসেক মুত আমরা মানে এই জনগন বর্ডারে দাঁড়িয়ে চ্ছ্যাছেড়িয়ে দিয়ে স্যাট করে চেন লাগিয়ে ট্রেনে চেপে বসলাম। ভাবুন দিকি কি বাজে ব্যাপার টাই না হবে !
এমনিতে তো এখন বন্যা, তারপর বন্যা থেকে সেরে সুরে উঠে এখন কাদা কাদা হয়ে আছে। তারপর এই দিগন্ত প্রসারী মুতের বান যখন হড়হড়িয়ে ঢুকবে তখন কি কেলোটাই না হবে, না আমি বলছি না আমরা কাংলাদেশকে মুতে ভাসিয়ে দেব কিন্তু ভাবুন এতো মুত বাংলার জামাতি আর হেফাজতের মাটি নিতে পারবে না। লোকের ঘর দুয়োরে ছ্যলাত ছল্যাত করবে। তারপর তার থেকে যে আমোনিয়া আর ইউরিয়া তৈরী হবে তাতে কম করেও ৪৮৮৭৪টা মাঝারি মাপের রাসায়নিক বোম তৈরী হয়ে যাবে। এখন বাংলাদেশের যা টোটাল লান্ড প্রপার্টি তা হচ্ছে 36465341একরের মত। এইবার এইসব মাঝারি মাপের বোমা গুলোর টোটাল ডেস্ট্রাকটিভ পাওয়ার হচ্ছে ৪ স্কোয়ার মাইলের মত। মানে ভালো মত গ্রাউন্ডিং করলে ৪ স্কোয়ার মেইল। তো হিসেবে কত দাড়াচ্ছে নিজেরাই ক্যাল্কুলেশন করে দেখে নিন।
এখন কথা হচ্ছে এটা হল গিয়ে পিওর ম্যাথামেটিকসের হিসেব। যাহা সত্য এবং হেব্ব্যি গন্ধ যুক্ত। তো আমরা বাকি যে ওয়ান থার্ড রাসায়নিক বোমা গুলো বাংলাদেশ থেকে এমনিই পাবো সেগুলো আমরা পাকিস্থান বা চীন ফীনের বর্ডারে ধুপের সাথে সুতলি বেঁধে দিব্যি রেখে আসতে পারি। সময় সুযোগ করে দিব্যি ফেটে ফুটে যাবে। আর মুতের তো অভাব নেই, পরের দিনই আবার সেই দেড় লিটার মুত মানে মেন পলিকারবনেট মেটাল তো এমনিই পেয়ে যাবো আবার। কাজেই বাঙ্গালী বেকার বেকার মুত নস্ট না করে সংরক্ষন করুন। মনে রাখবেন আপনার দেড় লিটার মুতের জোরে বাংলাদেশের দেড়শো ফিটের মত এলাকা খালি হয়ে যেতে পারে, নিন শুরু করে দিন। হ্যাশটাগ মুতের জলে ভাসিয়ে দিলাম তোমার ঠিকানা।
এবং ইহা একটি মেক ইন হোম প্রজেক্টের আন্ডারে স্টার্টআপদের জন্য শেল্ফ মোটিভেটেড আন্ট্রাপ্রেনর প্রোগ্রাম।

সমির মন্ডল