আচ্ছা কেউ যদি হিন্দু রাজাদের শাসনকাল নিয়ে গর্ব করে তাকে আমরা কি বলতে পারি? 
হিন্দু স্থাপত্য নাম দিয়ে মন্দির দুর্গ মঠের প্রামাণ্যচিত্র বানিয়ে বিশেষ পুজার মৌসুমে সেটা প্রচারের ব্যবস্থা করে সেটা নিশ্চিত করেই হিন্দুদের হিন্দুত্বকে সুরসুরি দেয়ার চেষ্টা হবে?  
যেমন সেন রাজাদের নিয়ে দুর্গা পুজার সময় হিন্দুদের বিজয়ী ইতিহাস শোনানোর চেষ্টাকে এক কথায় আমরা কি বলব? শালা একটা হিন্দুত্ববাদী! সাম্প্রদায়িক হিন্দু!…
বাংলাদেশের একজন নির্মাতা ও লেখক পোস্ট দিলেন তিনি মাছরাঙ্গা টিভির জন্য ইসলামিক স্থাপত্য নিয়ে রমজান মাস উপলক্ষ্যে একটা অনুষ্ঠান বানিয়েছেন যা ইফতারের আগে ও সেহরির সময় দুবার করে প্রচারিত হয়। 
আমার এক বন্ধু সেখানে কমেন্ট করল, ইসলামে কি ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে কিছু আছে? আরবী তুর্কি আফগানদের গড়া স্থাপত্য শিল্পকে ইসলামিক স্থাপত্য নাম দেয়ার কারণ কি? তাছাড়া এগুলো রমজান মাসে প্রচার করে মানুষের মধ্যে মুসলিম জাতি হিসেবে গর্ব তৈরি করে বাকী ১১ মাস রবীন্দ্র জয়ন্তী পহেলা বৈশাখ বাঙালী সংস্কৃতি জপ করাটা কি সাংঘর্ষিক নয়? 
লেখক সাহেব উত্তর করলেন, ‘ইসলামিক স্থাপত্য’ বলার যৌক্তিকতা আছে এবং এসব বুঝতে আপনাকে পড়াশোনা করে আসতে হবে…। 
আসলেই তাই! আরবী তুর্কি জাতির গর্বে কেন আমরা গর্বিত হবো আমাদের সেটা পড়াশোনা করে শিখে আসতে হবে! কিন্তু কোথায় কি পড়তে হবে তা কিন্তু কেউ বলে দেয় না!…
আজকে জানলাম অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর ছেলের নাম ‘শৈশব রোদ্দুর শুদ্ধ’। নামটা শুনেই ভালো লাগায় মনটা ভরে উঠল। ধর্মীয় কোন পদবী নেই নামের সঙ্গে। তথাকথিত ট্রেডিশনের দোহাই দিয়ে নামের সঙ্গে হিন্দু মুসলমান পরিচয় বহন করে তেমন কিছু নেই…। 
আমাদের দেশে বহু নাস্তিক মুক্তমনা দাবীদারই নিজেদের সন্তানদের নাম আরবীতে রাখেন। নানা রকম উদ্ভট যুক্তি দিয়ে সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতেও পিছ পা হন না। …
মুসলমানদের আরবী নাম রাখারও মহান সব যৌক্তিকতা আছে এবং আমাদের সেসব পড়াশোনা নেই বলে আমরা মূর্খের মত তার বিরোধীতা করি! 
কিছুদিন আগে চঞ্চল চৌধুরী ইরফান খানের মৃত্যুতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যে  পোস্ট করেছিলেন সেখানে চঞ্চল চৌধুরীকে বাংলাদেশী মুসলমানরা ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যাবার পরামর্শ দেয়। এই যে চঞ্চল চৌধুরীকে মুসলমান হয়ে যেতে বলা, ক্রিকেটার লিটন আর সৌম্য দাসকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া জেনারেশন কি এমনি এমনি পয়দা হয়েছে? 
বাউলদের খাতাপত্র বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া জেনারেশন শুধু মাদ্রাসার হুজুরদের ওয়াজ শুনেই পয়দা হয় না। চারপাশে ‘মুসলিম জাতি চেতনা’ জাগিয়ে দেয়ার প্রতিযোগীতা কি একটা আবহ তৈরি করে দেয় না? 
বাংলাদেশের টিভিতে তুর্কি সিরিয়ালগুলো বাংলায় ডাবিং করে প্রচারিত হয়। ইসলামী খিলাফতের শাসকদের নিয়ে নির্মিত এইসব সিরিয়াল মূলত ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদী’ চেতনায় নির্মিত। 
মুসলমানরা কেন বিশ্বব্যাপী খিলাফত হারালো, কাদের ষড়যন্ত্রে, মুসলমানদের কোন ভুলে এসবই উপজিব্য। এই সিরিয়ালগুলো পাকিস্তানেও উর্দুতে ডাবিং করে প্রচার করা হয়। ইমরান খান এই সিরিয়ালগুলো দেখে তার মুসলিম জাতি চেতনার আপ্লুত হওয়ার উচ্ছ্বাস নিজেই জানিয়েছেন।  
ইসলামী স্থাপত্য, মুসলিম শাসন ইহা সাম্প্রদায়িকতা নহে!  তবে একই কাজ বঙ্কিমচন্দ্র করায় তিনি সাম্প্রদায়িক! নরেন্দ্র মোদি ভারতকে নতুন করে হিন্দু বিভাজন করায় সে হিন্দু সাম্প্রদায়িক!  কিন্তু রমজান মাসে বেশি বেশি করে আরবী মিউজিকের তালে তালে “ইসলামিক শাসন” “ইসলামিক স্থাপত্য” চর্চা করেও বাংলাদেশী মুসলিমরা অসাম্প্রদায়িক! 
রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে নিশ্চয় বলে ফেলতেন, যে বছর রমজান মাসে পহেলা বৈশাখ কিংবা  ২৫ শে বৈশাখ পড়ে যায় তখন ঠিক বুঝতে পারি তোমরা ‘বাঙালী’ নাকি ‘মুসলমান’!