বাবাকে বাঁচাতে মোমিন মন্ডলের হাতে তীব্র “সহিষ্ণুতার” বলি ১৪বছরের হিন্দু কিশোরী …. – মিডিয়া নিরব।

Spread the love

বাবাকে বাঁচাতে মোমিন মন্ডলের হাতে তীব্র “সহিষ্ণুতার” বলি ১৪বছরের হিন্দু কিশোরী …. – মিডিয়া নিরব। 

[৬ই নভেম্বর, ২০১৫। অশোকনগর, হিন্দু সংহতি মিডিয়া….,শ্রী অনিন্দ্য নন্দী।] 
দেশজুড়ে ঘটে চলা সাম্প্রতিক তীব্র “অসহিষ্ণুতার” আবহে এ এক উজ্জ্বল ব্যাতিক্রম! প্রতিবেশী মোমিন মণ্ডলের “সহিষ্ণুতার” শিকার “চতুর্দশপল্লী হাইস্কুলের” (উঃমাঃ) নবমশ্রেনীর মেধবী ছাত্রী মৌসুমি সাহা। ঘটনায় মারাত্মক আহত অবস্থায় তার বাবা, মা ও দিদিকে হাঁসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। এবং বর্তমানে তার বাবার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।  

উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগরের ভুরকুন্ডা গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত পুমলিয়া জামাইপাড়ার বাসিন্দা মাঝবয়েসী সুনীল সাহার সঙ্গে একখণ্ড জমি নিয়ে তারই প্রতিবেশী মোমিন মণ্ডলের বিবাদ বেশ কয়েকবছরের। অভিযোগ… মোমিন মন্ডল, সুনীল বাবুর দুইকাঠা জমি জোরপুর্বক দখল করে নেয়। এলাকায় মুসলমানের সংখ্যাধিক্য থাকায় স্বভাবতই সুনীলবাবুর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ধামাচাপা পড়ে যায়। তথাপি হাল না ছেড়ে, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশাসনিক স্তরে ও এলাকার মানুষের কাছে বিচার চান। ফলত, কয়েকটি দফায় পঞ্চায়েত সদস্যের উপস্থিতিতে এমনকি সরকারি আমীন আনিয়ে জমিটি জরীপেরও ব্যবস্থা করা হয়। জমিটি মেপে দেখা যায় যে, সত্যিই সুনীল বাবুর জমিটি বেদখল করা হয়েছে। খবরে প্রকাশ এই সময় জমিটি ফেরত দেবার স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের নির্দেশও পত্রপাঠ খারিজ করে মোমিন। উপরন্তু সেই, দখলী জমিটিতেই বেশ কিছু লম্বু গাছ লাগায় সে। কিন্তু এলাকায় বদমেজাজী ও উছ্রিঙ্খল বলে পরিচিত বখাটে মোমিনকে বিষয়টি নিয়ে আর কেউ ঘাঁটাতে সাহস করেন নি।     

স্থানীয় সুত্র অনুসারে জানা যাচ্ছে যে, এই দিন সকাল ১১টা নাগাদ সুনীল বাবু, একজন সরকারী আমীনসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় বিতর্কিত জমিটিতে মাপজোকের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হতেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়। খবরে প্রকাশ মোমিন, তার তিন ছেলে ও এলাকার অপর কিছু দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে সুনীল বাবুর উপর ভয়ঙ্কর আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাঁশের মারাত্মক আঘাতে তিনি রক্তাপ্লুত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে ছুটে আসে, দুই মেয়ে মিতা ও মৌসুমি এবং তার স্ত্রী সুমিত্রা। অভিযোগ, এই সময়েই অসহায় তিন নারীর উপর বেধড়ক লাঠি চালায় দুষ্কৃতীরা। তাদের শ্লীলতাহানীর চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনার আকস্মিকতায় সরকারী আমীন কোনক্রমে পালিয়ে বাঁচলেও তিন মহিলাই তৎক্ষণাৎ সেই বর্বর “সহিষ্ণুতার” অভিঘাতে সংজ্ঞাহীন হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
এই সময় তাদের আর্ত চিৎকারে স্থানীয় মানুষজন ছুটে এলে, মোমিন ও তার দলবল ছুটে পালায়। 

মারাত্মক আহত অবস্থায় সাহা পরিবারকে স্থানীয় অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাঁসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, সেখানেই চিকিৎসকেরা ছোট মেয়ে মৌসুমিকে নিহত বলে ঘোষণা করেন। সেখান থেকে সুনীলবাবু সহ তিনজনকে পরবর্তীতে বারাসাত সদর হাঁসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় সুনীলবাবুকে পরিশেষে কোলকাতার মেডিকেল কলেজ হাঁসপাতালে তড়িঘড়ি সরিয়ে নিয়ে আসা হয়। তার পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সঙ্কটজনক।
স্থানীয় ভুরকুন্ডা গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান শ্রী বৃন্দাবন বাবু পুরো বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে সুনিশ্চিত করেন।
 
এই ঘটনায় এলাকায় ভীষণ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জায়গাটিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ মোতায়েন করে হিন্দুর উত্তেজনা প্রশমনে, প্রশাসন সর্বতো ভাবে ব্যবস্থা নিয়েছেন। মোমিন মন্ডল সহ তার তিন ছেলেকে পুলিশ আটক করেছেন। এডিশ্যানাল পুলিশ সুপার শ্রী তরুন হালদার, ডি এস পি দূর্বার ব্যানার্জী সহ পুলিশের বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্তা বর্তমানে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। পুরো স্থানটিকে পুলিশ যেন দুর্গে পরিনত করেছেন। 

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, হিন্দু সংহতির নেতৃত্বে, এলাকার হিন্দু যুবকেরা পুলিশের হাজার বাধা অতিক্রম করেও বেশ কয়েকটি গাড়ি বোঝাই হয়ে অশোকনগর থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। সেখানে বাদবাকি দোষীদের গ্রেফতারের দাবীতে ও মোমিনদের ফাঁসির দাবীতে আজ সারারাত থানা অবরোধের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এই ঘৃন্য অপরাধে জড়িতদের শাস্তির দাবীতে আগামীকাল থেকে আরও ব্যাপকভাবে পথে নামার ডাক দিয়েছেন তারা।

যদিও … এখনও পর্যন্ত কোন মেইনস্ট্রিম প্রেশ্যা মিডিয়াকে এই “সহিষ্ণুতার” বিষয়ে একটি শব্দও উচ্চারন করতে শোনা যায় নি ! আশা রাখব … আজ সুমন, রেশমী বা মৌপিয়ার দল শাহরুখের প্রতি দেশব্যাপী চরম “অসহিষ্ণুতায়” যে ভাবে মর্মাহত হয়েছেন, পাশাপাশি এ হেন “সহিষ্ণুতার” বিষয়টিকেও তারা আগামী দিনে নিশ্চয়ই যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতে বাধ্য হবেন।

…. আর ততক্ষন বরং মৌসুমিরা নিথর দেহে মর্গের ঠাণ্ডা লাশকাটা ঘরে অপেক্ষা করুক, … আরও নতুন এক “সহিষ্ণুতার” পরিচয়ে পরিচিত হবার সুমহান লক্ষে…।।