৬২৬ সালে কুরাইজা গোত্রের ইহুদিদের গণহত্যা :

এই ঘটনাটা একটু বিস্তারিত বলা দরকার। তাহলে মুহম্মদ যে কী পরিমান নৃশংস ছিলো তা উপলব্ধি করা যাবে।

মদীনা সনদে সকল ধর্মের লোকেদের মদীনায় বসবাসের সমান অধিকার দিয়ে সকলের সম্মতিতে চুক্তি হওয়ার পরও তুচ্ছ সব ঘটনা নিয়ে মুহম্মদ শুধু ইহুদি কবিদের হত্যাই নয়, কানুইকা ও নাজির গোত্রের ইহুদিদেরকে, তাদের সকল সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে মদীনা থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরই প্রেক্ষাপটে, খন্দকের যুদ্ধে, কুরাইজা গোত্রের ইহুদিরা মক্কার কুরাইশদের পক্ষ নেয়। কিন্তু এই যুদ্ধেও কুরাইশরা, মুসলমানদের ছল-চাতুরি ও ধোঁকাবাজির জন্য জিততে না পেরে অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করে এবং মুহম্মদ তার বাহিনী নিয়ে কুরাইজাদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য মদীনা থেকে ৩ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে কুরাইজাদের দূর্গ অবরোধ করে।

প্রায় দেড় মাস অবরুদ্ধ থাকার পর কুরাইজারা ব’লে পাঠায়, তাদেরকে ছেড়ে দিলে, তারাও কানুইকা ও নাজির গোত্রের মতো সকল সম্পত্তি ফেলে খালি হাতে মদীনা ছেড়ে চলে ইচ্ছুক। এরপর কুরাইজারা যখন দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসে তখন মুহম্মদের ইচ্ছা অনুসারে তাদের মহিলা-শিশুদের ও পুরুষদের আলাদা করা হয় এবং পুরুষদের পিঠ মোড়া করে বেঁধে ফেলা হয়। মহিলাদের মধ্যে মুহম্মদের চোখ সুন্দরী রিহানার উপর পড়ে এবং মুহম্মদ তাকে তার জন্য আলাদা করে রাখে।

আত্মসমর্পনের আগেই কুরাইজারা মুহম্মদের কাছে আবেদন করে জানিয়েছিলো, তারা যদি ভুল করে থাকে তাহলে তাদের বিচারের ভার আউসগোত্রের কাউকে দিয়ে করানো হোক। নবী সঙ্গে সঙ্গে বিচারক হিসেবে আউসগোত্রের ‘সাদ ইবনে মুয়াজ’ এর নাম প্রস্তাব করে। কারণ, সাদ ইতোমধ্যেই ইসলাম গ্রহন করেছিলো এবং খন্দকের যুদ্ধে কুরাইজারা, কুরাইশদের পক্ষ নেওয়ায়, সাদও কুরাইজাদের উপর ক্ষেপে ছিলো, এসব খবর কুরাইজারা জানতো না, কিন্তু মুহম্মদ ঠিকই জানতো।

ইতোমধ্যে কুরাইজাদের সকল অস্থাবর সম্পত্তি দুর্গের বাইরে এনে স্তুপ করে রাখা হয়। একদিকে পিঠমোড়া করে বাঁধা মৃত্যু ভয়ে ভীত ৮০০ পুরুষ, অন্যদিকে ভয়ে ম্লান প্রায় ১২০০ নারী ও শিশু; মাঝখানে গনিমতের মালের স্তুপ, কুরাইজাদের জন্য অত্যন্ত বিষাদময় পরিস্থিতি। কারণ, সবাইকে ঘিরে আছে মুসলমান বাহিনী; তাদের চোখ, নারী শিশু ও গনিমতে মালের উপর। মুহম্মদ, সাদকে তার রায় জানাতে বলে, অন্যদিকে কুরাইজারাও সাদকে, তাদেরকে দয়া করার আবেদন জানিয়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে সাদ কুরাইজাদের উদ্দেশ্যে বললো, “আমি যে রায় দেবো, আল্লার রায় বলে তোমরা কি তা মেনে নেবে?”

কুরাইজারা সম্মতি জানালে সাদ বলে, “আমার রায় হলো, সকল পুরুষদেরকে হত্যা করা হবে, সকল নারী ও শিশুকে ক্রীতদাস হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হবে এবং গনিমতের মাল মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করা হবে।”

মুহম্মদ তৎক্ষণাৎ এই রায়কে সম্পূর্ণ সঠিক বলে ঘোষণা করে বলে, “সপ্তম স্বর্গ থেকে স্বয়ং আল্লাহর বিচারই যে সাদ এর বিচারের মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।”

রায় ঘোষণার পর প্রায় ১২০০ নারী ও শিশুকে আলাদা করে এবং ৮০০ পুরুষকে একটি বড় গুদাম ঘরে বন্দী করে রাখা হয়।

সেই দিন রাতেই মদীনার বাজারে ৮০০ লোককে মাটি চাপা দেবার মতো একটি বিশাল গর্ত খোঁড়া হয় এবং পরদিন ভোর থেকেই শুরু হয় কোতল পর্ব। পিছনে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ৫/৬ জন বন্দীকে সেই গুদাম ঘর থেকে বের করে আনা হতে থাকে এবং আলী ও নবীর আর এক চাচাতো ভাই জুবায়ের তাদের গলা কেটে কেটে সেই গর্তে ফেলতে থাকে। গুদাম ঘরের বন্দীরা প্রথমে বুঝতেই পারেনি যে, ৫/৬ জন করে করে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যে ব্যক্তি তাদের ডেকে নিয়ে যাচ্ছিলো, তাকে একজন বৃদ্ধ ইহুদি জিজ্ঞেস করে, “ডেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?” তখন সে বললে, “এখনও মাথায় ঢোকেনি ? যাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে,তারা কি আর ফিরে আসছে ?” তখন তারা হত্যার বিষয়টি বুঝতে পারে এবং এক অসহায় ক্রন্দনে গুদাম ভরে উঠে।

এই হত্যাকাণ্ড ভোর থেকে শুরু হয়ে সারাদিন চলে। সন্ধ্যার পর অন্ধকার হয়ে এলেও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হয়নি, গর্তের চারপাশে মশাল জ্বালিয়ে এলাকাকে আলোকিত করা হয়, এভাবে মধ্যরাত পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড চলার পর ৮০০ ইহুদির কোতল পর্ব শেষ হয়। এই পুরো ঘটনা মুহম্মদ এক জায়গায় বসে বসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে বলতে প্রত্যক্ষ করে। মুহম্মদ যদি মানব জাতির জন্য আশীর্বাদ হয়, তাহলে তার পক্ষে কি এই ধরণের গণহত্যার ঘটনা ঘটানো সম্ভব ছিলো ?

আমার এই বর্ণনায় কারো যদি সন্দেহ থাকে বুখারি শরীফের ২৬০৩ নং হাদিস এবং মুসলিম শরীফের ৪৩৬৪ নং হাদিস বের করে দেখতে পারেন। আরো সন্দেহ থাকলে কোরানের ৩৩ নং সূরার ২৬ নং আয়াত দেখতে পারেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মুহম্মদ এই আয়াতটি ডাউনলোড করে। এই আয়াতে বলা হয়েছে,

“আহলি কিতাবদের (ইহুদি খ্রিষ্টান) মধ্য যারা এই আক্রমনকারীদের সাহায্য করেছিলো (অর্থাৎ কুরাইশদের) আল্লাহ তাদেরকে তাদের গহ্বর (দুর্গ) হতে উঠিয়ে আনলেন এবং তাদের অন্তরে এমন ভীতির সঞ্চার করে দিলেন যে, আজ তাদের একদলকে (পুরুষদেরকে) তোমরা হত্যা করছো, অপর দলকে ( নারী ও শিশুদেরকে) বন্দী করে নিচ্ছো।”

যা হোক, কোতল পর্ব শেষ হওয়ার পর, পরদিন সকালে গনিমতে মালগুলো চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

১. জমি-জায়গা বা স্থাবর সম্পত্তি,
২. অস্থাবর সম্পত্তি,
৩. গৃহপালিত পশু এবং
৪.নারী ও শিশু অর্থাৎ ক্রীতদাস।

মুহম্মদ সব ভাগ থেকেই তার এক পঞ্চমাংশ অর্থাৎ ২০% কমিশন নেয়। মুহম্মদের ভাগে যেসব নারী পড়ে, তাদের মধ্য থেকে সুন্দরী কয়েক জনকে, মুহম্মদ তার ক্লোজ ফ্রেন্ডদের উপহার দেয়, বাকিদের বিক্রি করার জন্য নেজাদে পাঠিয়ে দেয়। সবচেয়ে সুন্দরী যে মেয়েটি ছিলো, রিহানা, তাকে তো মুহম্মদ আগেই নিজের জন্য আলাদা করে রেখেছিলো। এই রিহানাকে মুহম্মদ বিয়ে করতে চাইলে রিহানা মুসলমান হতে অস্বীকার করে এবং মুহম্মদকে চড় মারে, ফলে তাকে মুহম্মদের যৌনদাসী হিসেবেই জীবন কাটাতে হয় এবং নিজ গোত্রের সমস্ত পুরুষকে খুন হতে দেখা রিহানা, শোক সইতে না পেরে কয়েক বছর পর যুবতী বয়সেই, মুহম্মদের আগেই মারা যায়।

এই ঘটনার সাথে যুক্ত গনিমতের মাল সম্পর্কিত একটি আয়াত দেখতে পারেন কোরানের ৩৩ নং সূরার ২৭নং আয়াতে। সেখানে বলা হয়েছে,

“তিনি তোমাদেরকে তাদের যমীন, ঘর-বাড়ি এবং তাদের ধন মালের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিয়েছেন, আর তাদের সেই সব অঞ্চল তোমাদের দিয়েছেন, যেখানে ইতিপূর্বে তোমরা কখনো পদসঞ্চার করোনি।”

এই সব নারী ও শিশুদেরকে আরবের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাস কারী ইহুদিরা মানবিকতার দায়ে চড়া দামে কিনে তাদেরকে মুক্ত করে। ফলে এই মানুষ বিক্রি থেকেও মুসলমানরা প্রচুর টাকা আয় করে।

এখানে দেখা যাচ্ছে, মুসলমানদের কাছে মানব জাতির জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ মুহম্মদ শুধু গণহত্যার নির্দেশ দাতাই ছিলো না, ছিলো ধর্ষক এবং দাস ব্যবসায়ী, যার ফলে নারী ও শিশুকে ক্রীতদাস হিসেবে বন্দী করে বাজারে বিক্রি করতেও তার বিবেকে বাধেনি!

উপরে যে ঘটনাগুলো বর্ণনা করলাম, সেগুলো ঘটাতে মুহম্মদ নিজে কোনো খুন করেনি, তার দস্যু বাহিনী দিয়ে সে তা করিয়েছে, কিন্তু নিচের এই ঘটনায় মুহম্মদ কয়েক জনকে খুন করে নিজের হাতে, দেখে নিন সেই নৃশংস ঘটনাটি-

একবার উকল গোত্রের ৮ ইহুদি মদীনায় এসে ইসলাম গ্রহন করে। কিন্তু মদীনার আবহাওয়া সহ্য না হওয়ায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে মুহম্মদ তাদের উটের দুধ ও প্রস্রাব খাওয়ার পরামর্শ দেয় এবং উটের আস্তাবলে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। কিছুদিন পর তারা সুস্থ হয়ে উঠলে ঐ আস্তাবলের দারোয়ানকে খুন করে কয়েকটি উট নিয়ে পালিয়ে যায়। কয়েকদিনের মধ্যেই মুহম্মদের বাহিনী তাদেরকে ধরে এনে মুহম্মদের সামনে হাজির করে। এই ৮ জন, একজনকে খুন করে উট নিয়ে পালিয়ে নিশ্চয় অন্যায় করেছিলো। কিন্তু মুহম্মদ, যিনি নাকি দয়ার নবী, যিনি নাকি পৃথিবীর সমগ্র মানব জাতির জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ, সেই মুহম্মদ তাদের নিজের হাতে কী রকম নৃশংস শাস্তি দিয়েছিলো, সেটা একবার সেই সময়ে গিয়ে কল্পনার চোখে দেখুন, উপলব্ধি করতে পারবেন নৃশংসতা কাকে বলে? এই ঘটনাগুলোর বর্ণনা পাওয়া যাবে বুখারী শরীফের প্রথম খ‌ন্ডের ২৩৩ নং হাদিসে।

মুহম্মদ প্রথমে দুটি লোহার রড চেয়ে নেয় এবং সেগুলোকে তাদের সামনেই আগুনে লাল করে গরম করে এবং তারপর ৮ জনের চোখেই একের পর এক ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের অন্ধ করে দেয়। এরপর একটি ধারালো তলোয়ার দিয়ে তাদের প্রত্যেকের হাত পা কেটে আলাদা করে ফেলে এবং মরুভূমির বালির মধ্যে দুপুরের তপ্ত রোদের মধ্যে ফেলে রাখে। তারা জল খেতে চাইলেও মুহম্মদ তা কাউকে দিতে নিষেধ করে, এভাবে পড়ে থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সবাই মারা যায়।

একজন মানুষ কী পরিমান নিষ্ঠুর হলে এরকম শাস্তি কাউকে নিজ হাতে দিতে পারে, সেটা একবার কল্পনা করুন!                         

রেজাউল মানিক সংগ্রহ