আজ আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ শেখাচ্ছেন মেহবুবা মুফতি , গুলাম নবি আজাদরা ।

চলুন না যাই আজ থেকে ঠিক ২৯ বছরের আগের এক ১৯শে জানুয়ারীতে, ক্ষমতায় তখন  ফারুক আবদুল্লা  —

রাহুল পন্ডিতিয়ার লেখা  Our Moon Has Blood Clots বইটি শুরু হয়েছে এই ভাবে

Jammu, 1990

They found the old man dead in his torn tent , with pack of chilled milk pressed against his right cheek . It was our first June in exile , and the heat felt like a blow in the back of the head .His neighbour , who discovered his lifeless body in the refugee camp, recalled later ……..

প্রায় ৫০০০ বছরের পুরোন বাসস্থান ছেড়ে কাশ্মীরের হিন্দুদের উদ্বাস্তু হতে হল কেন সেই প্রশ্ন কিন্তু কোন তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলকে করতে দেখা যাবে না । বিজেপি বা তার পূর্বসুরী জনসংঘ ছাড়া আর কেউ কখনও কাশ্মীরী হিন্দুদের হয়ে লড়েনি ।

একটু পেছনে ফেরা যাক , বেশী নয় আজ থেকে মাত্র ৪৭ বছর আগে । সদ্য বাংলাদেশ যুদ্ধ শেষ হয়েছে । তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জগজীবন রামের কাছে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট চান । জগজীবন রাম যে রিপোর্টটি দিয়েছিলেন তার মধ্যে এই অংশটুকুও ছিল Hindus of the valley have been leading a life of subjugation , denial and deprivation  , of fear and uncertainty,  of unequal opportunities of compromise and religious constraints of persecution of all forms at all levels.’ ছোট করে বললে বোঝায় যে উপত্যকার হিন্দুরা ধর্মীয় থেকে শুরু করে সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধে থেকে বঞ্চিত । তাঁরা একটা ভয়ের পরিবেশের মধ্যে বাস করছে ।

কাশ্মীর উপত্যকার হিন্দুদের অবস্থা দীর্ঘকাল ধরেই খারাপ এমনকি স্বাধীনতার পরেও এর বিন্দুমাত্র উন্নতি হয় নি । খাতায় কলমে ধর্মনিরপেক্ষ থাকলেও কাশ্মীরী  প্রশাসন চিরকাল মুসলিমদের স্বার্থরক্ষা করে এসেছে । ১৯৬৪ পর থেকে একের পর এক এমন আইন পাশ করানো হয়েছে ( Abolition Of Jagirdari Act , Distressed Debtors Relief Act , Agrarian Reforms Act , 1976 ) যাতে শুধুমাত্র মুসলিমদের স্বার্থরক্ষা হয় । চাকরি এবং ব্যবসা দুই ক্ষেত্রেই প্রবল বৈশম্যের স্বীকার হতে হয়েছে হিন্দুদের ।

এরপর এল ১৯৯০ সালের কুখ্যাত জানুয়ারী মাস । ৪ঠা জানুয়ারী তারিখে ‘ আফতাব’ আর ‘ আলসাফা’ দুই স্থানীয় উর্দু সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে সমস্ত হিন্দুদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হল যার অন্যথা মানে মৃত্যু । হিজবুল মুজাহিদিন , JKLF মত সংগঠনগুলো কাশ্মীরি মুসলিমদের কার্ফু অমান্য করে রাস্তায় বেরোনোর ডাক দিল । ঘোষনা হল ‘ জিহাদ’ এর । The Statesman লিখছে , There followed a clarion call to Kashmiri muslims in general — to come ( out of their homes ) to the streets, defying the government -imposed curfew. People came out in their thousands — an estimated 500,000 —- with whatever weapons they had. This surge of disgruntled, rebellious people spontaneously responding to the call of ‘ Jihad’ continued for three consecutive days. And ‘ Jihad’ became the buzzword.’

১৯শে জানুয়ারী রাত থেকে প্রতিটি মসজিদ থেকে প্রশ্নোত্তর সহযোগে টেপরেকোর্ডারে তিনদিন ধরে ক্রমাগত ঘোষনা হতে থাকলো

১) হাম কেয়া চাহেতে হ্যায়
     আজাদি

২) কাশ্মীর মে রহেনা হ্যায় তো কেয়া বলনা চাহিয়ে

আল্লাহো আকবর বোলনা হ্যায় ।

৩) কৌন সে কানুন রাজ করেগা

     কোরান, হাদিশ , শরিয়ত রাজ করেগা

৪) হাম কেয়া চাহেতে হ্যায়

    নিজাম-ই-মুস্তাফা

৫) ফির হাম কেয়া চাহেতে হ্যায়

     পাকিস্তান

৬) হাম পন্ডিতসে কেয়া চাহতে হ্যায়

     স্রিফ পন্ডিত লেড়কিয়া ।

The Statesman দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লিখছে ‘ What do we want of the Pandits ?

We want Pandit girls minus their menfolk ।

তো এই সময়ই সরলা ভট্টকে ৫ দিন ধরে বন্ধক রেখে নির্মম ভাবে ধর্ষন করা হয়েছিল। শুধু ধর্ষন নয়, সরলা ভট্টর স্তন্য কেটে পুরো শরীরের তিন টুকরো করে ফেলে দেওয়া হয় । এক সরলা ভট্টই নয়, শীলা টিক্কু, প্রানা গঞ্জ, তেজা ডার, গিরিজা ডার, রুপাবতী ভট্ট এরকম কয়েকশো পন্ডিত নারীকে অত্যাচারের স্বীকার হতে হয়েছিল । হাজার খানেক হত্যা আর বেশ কয়েকশো ধর্ষনের পর লাখ সাতেক পন্ডিতকে কাশ্মীর ছেড়ে রিফিউজি হতে হল ।

বিজেপি -আরএসএস আর শিবসেনা ছাড়া সেই সময়  কেউ পন্ডিতদের পাশে দাঁড়ায়নি । অপরাধ ছিল পন্ডিতরা ধর্মে হিন্দু । জগমোহন কড়া হাতে দমন করছিলেন বলে রাজ্যপাল পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন রাজীব গান্ধী  আর বামপন্থীরা । কোন বুদ্ধিজীবীদের মিছিল করতে প্রতিবাদ করতে সেদিন দেখা যায় নি ।

সিপিএমের হরকিষেন সিং সুরজিৎ পন্ডিতদের ধর্ষন আর খুন প্রসঙ্গে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিমাই বলেছিলেন ’ এই রকম জিনিস হয়েই থাকে । ’
ঘটনাটির বর্ননা দিয়েছেন রাহুল পন্ডিতিয়া । A veteran communist leader , Reshi Dev , who was a Kashmiri Pandit , apprised Surjeet of the situation and asked him to raise his voice against the brutality that had been unleashed against the Pandit community .’ Aisee baatein chalti rehti hein — such things keep on happening.’,he shot back .

এই ধরনের রাজনৈতিক নেতা আর বুদ্ধিজীবীরা আমাদের চিনিয়ে দেয় যে যোনীরও জাত হয় । এরা বুঝিয়ে দেয় যে ধর্ষিতার নাম সরলা , শীলা বা পূজা আর ধর্ষক যদি একটি বিশেষ ধর্মের হয় তাহলে মেনে নিতে হয় আর জনসাধারণকে মেনে নেওয়া শেখাতে হয় ।

এতদিন পরে মৃত্যুর পরপারের কোন এক নিভৃতাবাস থেকে এদেশে হিন্দু হয়ে জন্মানোর লজ্জা ঝেড়ে ফেলে সেই সরলা , শীলার মত অজস্র পন্ডিত কন্যারা আজ নিশ্চয় চোখের জল মুছছেন , এ জল কান্নার নয় , দীর্ঘ ১৯ বছর পর জয়ের আনন্দাশ্রু । আর একজন মানুষ , যাকে সেই ৬৬ বছর আগে ’ এক দেশ ’ ’ এক নিশান ’ ’ এক বিধান ’ দাবী তোলার  জন্য শ্রীনগরে খুন করা হয়েছিল , সেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আত্মা আজ গর্বিত হলেন তাঁরই দুই উত্তরসুরীর কৃতিত্বে । শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ছিলেন এভারেস্টের চূড়ার মতন । ভোরের প্রথম আলোর মতন কাশ্মীর নিয়ে  ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছিল তাঁরই শীর্ষে । সেখান থেকে ধীরে ধীরে নেমে এসেছে আজকের এই  সমতলে      ।আজ আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ শেখাচ্ছেন মেহবুবা মুফতি , গুলাম নবি আজাদরা ।

চলুন না যাই আজ থেকে ঠিক ২৯ বছরের আগের এক ১৯শে জানুয়ারীতে, ক্ষমতায় তখন  ফারুক আবদুল্লা  —

রাহুল পন্ডিতিয়ার লেখা  Our Moon Has Blood Clots বইটি শুরু হয়েছে এই ভাবে

Jammu, 1990

They found the old man dead in his torn tent , with pack of chilled milk pressed against his right cheek . It was our first June in exile , and the heat felt like a blow in the back of the head .His neighbour , who discovered his lifeless body in the refugee camp, recalled later ……..

প্রায় ৫০০০ বছরের পুরোন বাসস্থান ছেড়ে কাশ্মীরের হিন্দুদের উদ্বাস্তু হতে হল কেন সেই প্রশ্ন কিন্তু কোন তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলকে করতে দেখা যাবে না । বিজেপি বা তার পূর্বসুরী জনসংঘ ছাড়া আর কেউ কখনও কাশ্মীরী হিন্দুদের হয়ে লড়েনি ।

একটু পেছনে ফেরা যাক , বেশী নয় আজ থেকে মাত্র ৪৭ বছর আগে । সদ্য বাংলাদেশ যুদ্ধ শেষ হয়েছে । তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জগজীবন রামের কাছে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট চান । জগজীবন রাম যে রিপোর্টটি দিয়েছিলেন তার মধ্যে এই অংশটুকুও ছিল Hindus of the valley have been leading a life of subjugation , denial and deprivation  , of fear and uncertainty,  of unequal opportunities of compromise and religious constraints of persecution of all forms at all levels.’ ছোট করে বললে বোঝায় যে উপত্যকার হিন্দুরা ধর্মীয় থেকে শুরু করে সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধে থেকে বঞ্চিত । তাঁরা একটা ভয়ের পরিবেশের মধ্যে বাস করছে ।

কাশ্মীর উপত্যকার হিন্দুদের অবস্থা দীর্ঘকাল ধরেই খারাপ এমনকি স্বাধীনতার পরেও এর বিন্দুমাত্র উন্নতি হয় নি । খাতায় কলমে ধর্মনিরপেক্ষ থাকলেও কাশ্মীরী  প্রশাসন চিরকাল মুসলিমদের স্বার্থরক্ষা করে এসেছে । ১৯৬৪ পর থেকে একের পর এক এমন আইন পাশ করানো হয়েছে ( Abolition Of Jagirdari Act , Distressed Debtors Relief Act , Agrarian Reforms Act , 1976 ) যাতে শুধুমাত্র মুসলিমদের স্বার্থরক্ষা হয় । চাকরি এবং ব্যবসা দুই ক্ষেত্রেই প্রবল বৈশম্যের স্বীকার হতে হয়েছে হিন্দুদের ।

এরপর এল ১৯৯০ সালের কুখ্যাত জানুয়ারী মাস । ৪ঠা জানুয়ারী তারিখে ‘ আফতাব’ আর ‘ আলসাফা’ দুই স্থানীয় উর্দু সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে সমস্ত হিন্দুদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হল যার অন্যথা মানে মৃত্যু । হিজবুল মুজাহিদিন , JKLF মত সংগঠনগুলো কাশ্মীরি মুসলিমদের কার্ফু অমান্য করে রাস্তায় বেরোনোর ডাক দিল । ঘোষনা হল ‘ জিহাদ’ এর । The Statesman লিখছে , There followed a clarion call to Kashmiri muslims in general — to come ( out of their homes ) to the streets, defying the government -imposed curfew. People came out in their thousands — an estimated 500,000 —- with whatever weapons they had. This surge of disgruntled, rebellious people spontaneously responding to the call of ‘ Jihad’ continued for three consecutive days. And ‘ Jihad’ became the buzzword.’

১৯শে জানুয়ারী রাত থেকে প্রতিটি মসজিদ থেকে প্রশ্নোত্তর সহযোগে টেপরেকোর্ডারে তিনদিন ধরে ক্রমাগত ঘোষনা হতে থাকলো

১) হাম কেয়া চাহেতে হ্যায়
     আজাদি

২) কাশ্মীর মে রহেনা হ্যায় তো কেয়া বলনা চাহিয়ে

আল্লাহো আকবর বোলনা হ্যায় ।

৩) কৌন সে কানুন রাজ করেগা

     কোরান, হাদিশ , শরিয়ত রাজ করেগা

৪) হাম কেয়া চাহেতে হ্যায়

    নিজাম-ই-মুস্তাফা

৫) ফির হাম কেয়া চাহেতে হ্যায়

     পাকিস্তান

৬) হাম পন্ডিতসে কেয়া চাহতে হ্যায়

     স্রিফ পন্ডিত লেড়কিয়া ।

The Statesman দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লিখছে ‘ What do we want of the Pandits ?

We want Pandit girls minus their menfolk ।

তো এই সময়ই সরলা ভট্টকে ৫ দিন ধরে বন্ধক রেখে নির্মম ভাবে ধর্ষন করা হয়েছিল। শুধু ধর্ষন নয়, সরলা ভট্টর স্তন্য কেটে পুরো শরীরের তিন টুকরো করে ফেলে দেওয়া হয় । এক সরলা ভট্টই নয়, শীলা টিক্কু, প্রানা গঞ্জ, তেজা ডার, গিরিজা ডার, রুপাবতী ভট্ট এরকম কয়েকশো পন্ডিত নারীকে অত্যাচারের স্বীকার হতে হয়েছিল । হাজার খানেক হত্যা আর বেশ কয়েকশো ধর্ষনের পর লাখ সাতেক পন্ডিতকে কাশ্মীর ছেড়ে রিফিউজি হতে হল ।

বিজেপি -আরএসএস আর শিবসেনা ছাড়া সেই সময়  কেউ পন্ডিতদের পাশে দাঁড়ায়নি । অপরাধ ছিল পন্ডিতরা ধর্মে হিন্দু । জগমোহন কড়া হাতে দমন করছিলেন বলে রাজ্যপাল পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন রাজীব গান্ধী  আর বামপন্থীরা । কোন বুদ্ধিজীবীদের মিছিল করতে প্রতিবাদ করতে সেদিন দেখা যায় নি ।

সিপিএমের হরকিষেন সিং সুরজিৎ পন্ডিতদের ধর্ষন আর খুন প্রসঙ্গে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিমাই বলেছিলেন ’ এই রকম জিনিস হয়েই থাকে । ’
ঘটনাটির বর্ননা দিয়েছেন রাহুল পন্ডিতিয়া । A veteran communist leader , Reshi Dev , who was a Kashmiri Pandit , apprised Surjeet of the situation and asked him to raise his voice against the brutality that had been unleashed against the Pandit community .’ Aisee baatein chalti rehti hein — such things keep on happening.’,he shot back .

এই ধরনের রাজনৈতিক নেতা আর বুদ্ধিজীবীরা আমাদের চিনিয়ে দেয় যে যোনীরও জাত হয় । এরা বুঝিয়ে দেয় যে ধর্ষিতার নাম সরলা , শীলা বা পূজা আর ধর্ষক যদি একটি বিশেষ ধর্মের হয় তাহলে মেনে নিতে হয় আর জনসাধারণকে মেনে নেওয়া শেখাতে হয় ।

এতদিন পরে মৃত্যুর পরপারের কোন এক নিভৃতাবাস থেকে এদেশে হিন্দু হয়ে জন্মানোর লজ্জা ঝেড়ে ফেলে সেই সরলা , শীলার মত অজস্র পন্ডিত কন্যারা আজ নিশ্চয় চোখের জল মুছছেন , এ জল কান্নার নয় , দীর্ঘ ১৯ বছর পর জয়ের আনন্দাশ্রু । আর একজন মানুষ , যাকে সেই ৬৬ বছর আগে ’ এক দেশ ’ ’ এক নিশান ’ ’ এক বিধান ’ দাবী তোলার  জন্য শ্রীনগরে খুন করা হয়েছিল , সেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আত্মা আজ গর্বিত হলেন তাঁরই দুই উত্তরসুরীর কৃতিত্বে । শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ছিলেন এভারেস্টের চূড়ার মতন । ভোরের প্রথম আলোর মতন কাশ্মীর নিয়ে  ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছিল তাঁরই শীর্ষে । সেখান থেকে ধীরে ধীরে নেমে এসেছে আজকের এই  সমতলে      ।