মোহাম্মদ বলেছিল, যতদিন পৃথিবীতে দু’জন লোকও অবশিষ্ট থাকবে, ততদিন শাসনভার কুরাইশদের হাতেই থাকবে (বুখারী)।
যে কুরাইশদের অপদস্থ করার ইচ্ছে করবে, আল্লাহ্‌ তাকে অপদস্থ করবেন (তিরমিযী)।
মোহাম্মদ যে কত বড় ভণ্ড ছিল তা কুরাইশরা ও মক্কা মদিনা বাসী তার মৃত্যুর মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে হাড়ে হাড়ে বুঝেছিল। সেনাপতি হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কোরানকে মিথ্যা প্রমাণিত করে কুরাইশ বংশ ধ্বংস করে দেন, কাবা ঘর গুড়িয়ে দেন। কাবার ঘরের প্রাণ হাযরে আসওয়াদ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। কুরাইশদের ক্ষমতা ভোগের সব আশা মাটিতে মিসে যায়। কুরানের আয়াত দ্বারা মোহাম্মদ মালামাল লুটের ১/৫ অংশ তার পরিবারের জন্য বরাদ্দ করে গিয়েছিল, সে অর্থ লাভের ব্যবস্থা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ইহুদী কাফের ও বিধর্মীদের প্রতি মুহাম্মদ যা যা করেছিল, ইতিহাসের নির্মম পরিহাস এই যে, সেনাপতি হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ঠিক তাই তাই করেছিলেন। তিনি কুরাইশদের বন্দি করেন, হত্যা করেন আর মোহাম্মদের বংশের সব নারীদের বাজারে বিক্রি ও ধর্ষণ করেন। তখন ঐ সব অসহায় নারী পুরুষেরা ভেবেছিল, মোহাম্মদ আসমান থেকে ফেরেশতাদের পাঠাবে তাদের রক্ষা করবে কিন্তু মোহাম্মদের ফেরেশতারা আসে নি। তখন মোহাম্মদের উপর তাদের বিশ্বাস ভেঙ্গে খানখান হয়ে গিয়েছিল। তাদের বুঝতে বাকি ছিল না যে মোহাম্মদ ছিল ভণ্ড নবী।
মক্কার খলিফা আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর প্রাণ বাঁচাতে কাবাঘরের মধ্যে লুকিয়ে ছিল। সেনাপতি হাসিন ইবনে নামীর কাবাঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল আর তাকে হত্যা করেছিল। কাবাঘরের ধ্বংশস্তুপের উপর তার দেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তিন মাস ধরে জুবাইরের মরদেহ ঐ ভাবে ঝুলে ছিল। সেনাপতি ইবনে আকবাহ, ক্যারাভান ভরে মক্কা ও মদিনা থেকে কুরাইশ ও অন্যান্য মুসলিম নেতাদের খণ্ডিত মুণ্ডু দামেস্কে পাঠান। ইয়াজিদ মুণ্ডু দেখে বলেন- আমার আফসোস এই যে, আমার পূর্বপুরুষেরা যারা বদরের যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন, তাঁরা বেঁচে থাকলে দেখতে পেতেন, আমি মোহাম্মদ ও তার সহযোগীদের কৃত কর্মের উপযুক্ত প্রতিশোধ নিয়েছি।
কারবালার যুদ্ধক্ষেত্রেও ইয়াজিদ মুহম্মদের বংশের প্রায় সমস্ত পুরুষকে হত্যা করেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তিনি কোন সুন্দরী রমণীকে হত্যা করেননি। ইয়াজিদ তাদের যুদ্ধ বন্দী ও দাসী রূপে নিজ হারেমে অন্তর্ভুক্ত করেন। এই প্রথমবার মোহাম্মদের নিজ বংশের নারীরা গনিমতের মাল হিসাবে ইয়াজিদের আওতায় আসলেন। যে কোরানের ছত্রে ছত্রে মোহাম্মদ দাসী সহবাসের বৈধতা দিয়েছিল, সেই মোহাম্মদের বংশের নারীরাই একদিন ঐ কোরানের বৈধতার ভিত্তিতেই ইয়াজিদের গনিমতের মাল হলেন। একে কি আমরা ইতিহাসের প্রতিশোধ বলে চিহ্নিত করবো? ইয়াজিদের হারেমের জানালা দিয়ে কোন নক্ষত্র খচিত রাতে সংগম অনিচ্ছুক কোন নারী কি সাত আসমানের শেষ আসমান দেখার শপথ নিয়েছিল? শেষ আসমানে গিয়ে কি সে চেয়েছিল মোহাম্মদের মিথ্যাচারের মুখোশ খুলে দিতে? আজ দেড় হাজার বছর আগের সেই রমণীর কান্না ইতিহাসের পারাপার থেকে আজও আমার হৃদয় বিদীর্ণ করে, হোক না সে মোহাম্মদের আত্মীয়! সে তো নারী!!
[Book: Ibn Qutaibah- “Al-Imamah va Siyasah”]।

Rezaul Manik