কুলাঙ্গার রাজ্জাক বিন ইউসুফ : এপার বাংলা ‘বাংলাস্তান’ হবেনা
——————————————————————–
ওয়াজ ব্যাপারটা শতকরা ৯০% মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় । জায়গায়, জায়গায় মঞ্চ করে, মাইক লাগিয়ে ফ্রি তে অকাতরে ইসলামিক জ্ঞান বিতরণ করা হয় এই ওয়াজে । পাঠক, আদতে অধিকাংশ ওয়াজে যেটা করা হয়, সেটা হলো লাইসেন্স বিহীনভাবে ইসলামে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের প্রতি যে আক্রোশ, ঘৃণা, হিংসার আদর্শ আছে, তাকে আম-জনতার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া । আল্টিমেট উদ্দেশ্য হলো অশিক্ষা আর কুশিক্ষায় আচ্ছন্ন মুসলমানকে মোটিভেট করা, বাংলাদেশকে ভিন্নধর্মী মুক্ত করে শতকরা ১০০% মুসলমানের দেশে পরিণত করা । পাঠক, আপনাদের মনে থাকবে ২০১৬ সালে বিটিআরসি, ইন্টারনেটে ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যক্তির কিছু ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিল । সেই বেক্তিদের মধ্যে ছিল তিন প্রধান খোলসে মোড়ানো ইসলামী জঙ্গি : জসিমউদ্দীন রাহমানী, তারিক মনোয়ার আর কুলাঙ্গার রাজ্জাক বিন ইউসুফ । এই রাজ্জাক বিন ইউসুফকে নিয়ে দুকথা আজ না বললেই নয় :

শোনা যাচ্ছে আগামী মাসে নাকি ভারতের বর্ধমানে ওয়াজ করতে আসবে এই কুলাঙ্গার রাজ্জাক বিন ইউসুফ । পাঠক, কে এই রাজ্জাক বিন ইউসুফ ? এ হলো পাক্কা ইসলামী জিহাদি বেজন্মা, চট্টগ্রামভিত্তিক একজন ইসলামপন্থী নেতা, অধিকাংশ সময়েই যে দুবাইতে অবস্থান করে । আপনি ইন্টারনেট ঘাঁটলেই এই কুলাঙ্গারের বিধর্মীদের প্রতি জ্বলন্ত বিদ্বেষ ছড়ানো অসংখ্য ভিডিও পাবেন । পাঠক, আপনাদের নিশ্চই খেয়াল থাকবে, ২০১৫-১৬ তে সিঙ্গাপুর সরকার ৩৭ বাংলাদেশী কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি’ সনাক্ত করে । এই ৩৭ জনের একজন মহিউদ্দিনের কাছ থেকে আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ লিখিত ‘উপদেশ’ নামে একটি বই পাওয়া গেছিলো । জঙ্গি আদর্শে উদ্ভুদ্ধ করতে এই বইয়ের নিশ্চিত ভূমিকা ছিল, নয়তো কেনই বা এই বই তার কাছ থেকে উদ্ধার করে সিজ করা হয়েছিল ? অতঃএব, কুলাঙ্গার রাজ্জাক বিন ইউসুফ যে খোলসে মোড়ানো ইসলামী জঙ্গি, সেটা আলাদা করে বলতে হবেনা । পাঠক, এবারে আমরা দেখবো, এই কুলাঙ্গারের হঠাৎ এপার বাংলায় বর্ধমানে এসে ওয়াজ করার খোয়াইশ কেন :

এবাংলায় বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে ‘আইইডি’ বিষ্ফোরণ কান্ডে ঘটনাস্থলেই যে দুজন মারা যায় [শাকিল গাজি ও সুবহান সেখ] তারা ছিল বাংলাদেশের ‘জামাতুল মুজাহিদিন বংলাদেশ’ [জেএমবি]-র সদস্য । এই ঘটনার সঙ্গে জেএমবি’ই শুধু নয়, এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিলো ভারতের নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী জেহাদি সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান মুজাহিদ’ ও ‘জমিয়ত-উল-মুজাহিদিন’এর । তদন্তে মারাত্মক যে তথ্যটি উঠে এসেছিল যে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠেছে কিছু মাদ্রাসা যেখানে মূলতঃ জেহাদি তৈরী করা হয় । এ রকম দুটি মাদ্রসাকে চিহ্নিত করা গেছিল- বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের ‘শিমুলিয়া মাদ্রাসা’ ও মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলার ‘মকিমনগর মাদ্রাসা’। মুসলিম সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গকে তাদের একটা ঘাঁটিতে পরিণত করে তুলতে সক্ষম হয়েছে, একথা এখনের এবাংলার বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের পরিপ্রেক্ষিতে আলাদা করে বলতে হয়না । ভারতে ঢুকে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম করার জন্যে পশ্চিমবঙ্গকে তাদের সেফ করিডর হিসেবে ব্যবহার করে । ভারতের সলিম মৌলবাদীরা সরকারকে সর্বদা চাপে রাখে আর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জেহাদি সন্ত্রাসবাদীরা পশ্চিমবঙ্গে প্রায় অবাধে ঢুকে সারা দেশে তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেয়। ব্যাপারটা কি নেহাতই কাকতালীয় ? না কি রাজ্যের মুসলিম মৌলবাদীদের সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদীদের গূঢ় সম্পর্ক আছে ? তাদেরই আমন্ত্রণে কি কুলাঙ্গার রাজ্জাক বিন ইউসুফের এবাংলায় বর্ধমানে এসে ওয়াজ করার পরিকল্পনা ? ‘জামাত-ই-ইসলাম’ আর পশ্চিমবঙ্গের সরকার মহলের কিছু মাথার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা জানতেও পারতাম না যদি জঙ্গিদের ক্ষণেকের ভুলে বা অসতর্কতায় খাগড়াগড় বিষ্ফোরণ কান্ডটি না ঘটতো ! এপার বাংলার মোল্লা-মুফতি-ইমামরা বিষ্ফোরোণ কান্ড ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিন্দা না করে , ঘুরিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও মিডিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল যে এটা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আর তাঁদের এই ষড়যন্ত্রের গল্প প্রচারিত হয়েছিলো আহমেদ হাসান ইমরানের ‘কলম’ পত্রিকায় । সিদ্দিকুল্লাহর বক্তব্য ছিল : ‘মাদ্রাসা কোনও দিন সন্ত্রাসের শিক্ষা দেয় না । … মাদ্রাসায় যারা কুরআন-হাদিস পড়ছে তারা শান্ত । কুরআন-হাদিসের কোথাও সন্ত্রাসবাদীদের স্থান নেই । … ধর্মের সঙ্গে জেহাদকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ’ । ত্বহা সিদ্দিকির বক্তব্য ছিল :’আজকে মুসলিম সমাজের উপর মিডিয়া আক্রমণ শুরু করেছে । আমাদের হয়ে কথা বলার মতো কোনও শক্তিশালী মিডিয়া নেই । রয়েছে একমাত্র ‘কলম’। এই কলমকে বন্ধ করার জন্য সম্ভবত চক্রান্ত ।’ আহমেদ হাসান ইমরান : “হঠাৎ আমাদের মাদ্রাসাগুলি সম্পর্কে অপপ্রচার শুরু হয়েছে । … হঠাৎ সন্ত্রাসবাদের তকমা দেওয়া হচ্ছে মাদ্রাসাগুলোর উপর ।” বিষ্ফোরণ কান্ডের ১৭ দিন পর ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সংগঠন সভা করে খাগড়াগড় বিষ্ফোরণ ও জিহাদি কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করেছিল আর সেটা করেছিল মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর শহরের অখ্যাত একটি জায়গা বরজে ।

পাঠক, তাহলে কি এই জঙ্গি যোগসাজ আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে ? এপার বাংলায় তাদেরই জিহাদি পরিকল্পনাকে জোরদার করতে বর্ধমানে এসে ওয়াজ-মেহফিল করার খোয়াইশ জেগেছে কুলাঙ্গার রাজ্জাক বিন ইউসুফের ? এটা হতে দেওয়া যাবেনা………………………!