ইসলাম নারীকে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে গণ্য করে শুনলে অনেকে অবাক হন এবং হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন৷ বিষয়ট সম্পূর্ণ সত্য,  যুক্তিযুক্ত এবং বিজ্ঞানসম্মত। নিছক ইসলাম নয়, যে ধর্ম নারীকে যত অমূল্য সম্পদ ভাবতে পেরেছে সে তত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কারণ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের উপরই সামগ্রিক বৃদ্ধি নির্ভর করে। সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মই (  religion)  তাই নারীকে সাত রাজার ধন এক মানিক বলে আগলে রাখতে চেয়েছে। নারীই হল এ বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ যা কেবল ভূমির সঙ্গেই তুলনীয়। বস্তুত নারী এবং ভূমি পরস্পরের পরিপূরক।  স্ত্রী সম্পদ অধিকারে থাকা মানেই ভূ সম্পদ হাতে থাকা। কিন্তু নারী এমন অনন্য সম্পদ হয়ে উঠল কেন?  দুটি কারণে।  ১) সে সর্বোচ্চ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সুখ তথা ভোগের উপাদান৷ এ ব্যাপারে ধারের কাছে কেউ নেই, কিছু নেই। ২) একমাত্র সে-ই সৃষ্টির আধার। সে যা সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে, পুরুষ কল্পনাও করতে পারেনা। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলি নারীকে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে গণ্য করে?  খুব সহজ উত্তর।

১) সম্পদকে আপনি কখনও অরক্ষিত রাখেন না। বাড়িতে দামি মিউজিক সিস্টেম থাকলেও থাকে সযত্নে ঢেকে রাখেন। যাতে ধুলো বালি, ঈর্ষাকাতর চোখের নজর না পড়ে। এই কারণেই বোরখা, হিজাব, নিকাব,  হিন্দুদের পর্দা,  অন্তঃপুরের প্রচলন।  যদিও প্রথমদিকে হিন্দুদের মধ্যে নারীকে এত বড় সম্পদ হিসেবে দেখার প্রচলন ছিল না। মহাভারতের নারীর পোশাক বর্তমানের সাহসী মডেলকেও চ্যালেঞ্জ দিতে পারে। ইসলাম ধর্মের অনুশীলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই হিন্দুদের মধ্যেও নারীকে সম্পদ হিসেবে দেখার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

২) সম্পদের একটি লক্ষণ হল তার সঠিক ব্যবহার। উর্বর জমিকে ফেলে রাখা মানে বিপুল অপচয়৷ যতটা ফলন সম্ভব ততটাই কাজে লাগানো কর্তব্য৷ তাই ফলন ধরার উপযুক্ত হওয়া মাত্র অর্থাৎ  ঋতুমতী হওয়ামাত্র বিয়ের জন্য তোড়জোড় করা উচিত৷ ইসলামে নারীদের সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয় বলেই শীঘ্র বিবাহের প্রচলন। হিন্দুরাও দশ বছরে গৌরীদানের প্রথা একই যুক্তিতে অনুসরণ করেছে। যদিও বৈদিক যুগের নারীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটেনি। অপালা, ঘোষা, বিশ্ববারাদের মত বেদজ্ঞানী নারীর
উপস্থিতিই তার প্রমাণ৷ জওহরব্রত নামক আত্মহত্যার প্রচলনও তখন ছিল না। এটিও ইসলামের প্রভাব হিসেবেই গণ্য করা হয়। আমার সম্পদ যদি আমারই না থাকল, তবে পুড়িয়ে দেওয়াই ভাল। শত্রুকে কেন নিজের সম্পদ ভোগ করতে দেব? 

৩) নারীকে সম্পদ মনে করা হয় বলেই তাকে শিক্ষিত করার বিরুদ্ধে যুক্তিযুক্ত মত আছে। নারী শিক্ষিত হলেই স্বাবলম্বী হতে চাইবে,প্রশ্ন করবে। প্রসবের যন্ত্রনা বার বার গ্রহণ করতে অস্বীকারও করতে পারে৷ অর্থাৎ ইচ্ছেমতো ফলন সম্ভব হবে না। আর জন ফলন না ঘটলে ভূমি হরণ অসম্ভব।

৪) নারী সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ বলেই তাকে অত্যন্ত যত্ন করে আগলে রাখা হয়। অন্য ধর্মের পুরুষের হাতে সেই সম্পদটি চলে গেলে তার উৎপাদিত ফসলটিতে সেই ধর্মের পুরুষের স্বাক্ষরই থাকবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ হওয়ার কারণে সেই নারীর ফলন ( সন্তানসন্ততি)  অন্য ধর্মের সম্পদ বৃদ্ধি করবে। ফলত প্রথম ধর্মটির ( যে ধর্ম ছেড়ে সে চলে গেল) সম্পদ, ফলন দুই-ই কমবে। এর প্রভাব ভূমির দখলের উপরও অবধারিতভাবেই পড়বে৷

৫) অশিক্ষিত নারী মাত্রেই সম্পদ ; শিক্ষিত, স্বাবলম্বী  হয়ে উঠলে বিপদ। কারণ সে স্বাধীনচেতা হয়ে উঠবে। নিজের পছন্দমতো চলতে চাইবে। অন্য ধর্মে বিবাহ করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে৷ অর্থাৎ প্রভূত সম্পদহানির আশংকা। আপনি কি কখনও চাইবেন আপনার সদ্য কেনা হীরের আংটিটি একা একা প্রাতভ্রমণে বেরোক?

Debasis Laha র টাইমলাইন থেকে