নেতাজী এবং উপমহাদেশের এক লম্পট রাজনৈতিক নেহরুর মিথ্যাচার  :
——————————————————————————

উপমহাদেশীয় মহালম্পট জ্বারজ নেহেরু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে এক চিঠি লেখে, যার বয়ানটা ছিল:
“Dear Mr Attlee,
I understand from reliable sources that Subhas Chandra Bose, your war criminal, has been allowed to enter Russian territory by Stalin. This is a clear treachery and betrayal of faith by the Russians as Russia has been an ally of the British-Americans, which she should not have done. Please take note of it and do what you consider proper and fit.”
Your’s Sincerely,
Jawaharlal Nehru

সুভাষ বসুর অন্তর্ধানের পেছনে নেহরুর কিছু ষড়যন্ত্র আছে এই অভিযোগ অসত্য প্রমান করতেই ভারতের সরকারের কি সর্ব সময় এত টালবাহানা ? এই চিঠির প্রথম উল্লেখ রয়েছে শ্রী রুদ্রজ্যোতি ভট্টাচার্য্যের ১৯৯২ সালে করা কলকাতা হাই কোর্টে একটি পিটিশনে | ১৯৭০-এ গঠিত খোসলা কমিশন, যার কাজ ছিলো নেতাজীর অন্তর্ধান রহস্যভেদ, সেই কমিশনের সামনে নেহরুর ব্যক্তিগত স্টেনোগ্রাফার শ্যামলাল জৈন এইরম একটা চিঠি টাইপ করার কথা বলেছিলো । যে বয়ানটা ওপরে দিলাম নেহেরু সেই বয়ানটি প্যাডের পাতায় হাতে লিখে শ্যামলালকে দেন এবং তিনি সেটা টাইপ করে নেহরুকে ফেরৎ দিয়েছিলেন ।

দ্বিতীয়বার এই চিঠির উল্লেখ রয়েছে একসময়ের ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীকে লেখা নেতাজীর ভাই সুরেশ চন্দ্র বসুর ছেলে প্রদীপ বসুর ‘৯৮ সালের একটি চিঠিতে |

তৃতীয়বার এই চিঠির উল্লেখ রয়েছে আবার শ্রী রুদ্রজ্যোতি ভট্টাচার্য্যের করা ২০১৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টে একটি পিটিশনে। নেতাজীর অন্তর্ধান রহস্যের কি কিনারা হলো তা জানতে চেয়ে সেই পিটিশন। এখানেও সেই শ্যামলাল জৈনের বয়ানকেই উধৃত করা হয়েছে যদিও শ্যামলাল জৈনের ওই বয়ান কোথায় পাওয়া গেছে তার কোনো উল্লেখ এখানেও নেই ।

ভারত সরকার একাধিকবার জাতিসংঘ এবং মার্কিন ও ব্রিটিশ সরকারকে চিঠি লিখেছে জানতে চেয়ে যে আদৌ যুদ্ধ অপরাধীর তালিকায় সুভাষ বসুর নাম আছে কিনা এবং প্রত্যেকবারই তারা জানিয়েছে যে এরকম কোনো তালিকায় সুভাষ বসুর নাম নেই । এইসব বেশ কয়েকটা ফাইলেও আছে । এমন কি ফাইলের মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক চিঠিপত্রও ফাইলগুলির মধ্যে রয়েছে যেগুলো সুভাষ বোস বেঁচে থাকতে লেখা ! এগুলোতে লক্ষণীয়  তাদের মধ্যে আলোচনা যেখানে দেখা যাচ্ছে তারা বলছেন যে কোনো আইনেই সুভাষ বসুকে যুদ্ধ অপরাধী হিসেবে ধরা যাবে না, ধরা পরলে তার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরোধিতা করবার কনস্পিরেসির কেস দেওয়া যেতে পারতো কিন্তু সেরকম কোনো কেসের ট্রায়াল মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে সেই নিয়ে তারা চিন্তিত ছিল ।

অনেক হয়েছে, নেতাজীকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ব্যবহার করা বন্ধ করা হোক এবার !! তাঁর কাজকর্ম , আদর্শ নিয়ে আলোচনা হলে সেটা অনেক বেশি লাভজনক।

রেফারেন্স:

১. http://netajipapers.gov.in/pdfjs /web/viewer.html…)
২. http://subhaschandrabose.org/report- one-man-commission
৩.http://netajipapers.gov.in/pdfjs /web/viewer.html
৪. http://indiankanoon.org/doc/176710997/
৫. http://netajipapers.gov.in/pdfjs /web/viewer.html