ভারতে যত দিন যাচ্ছে, ততই ভারতীয় কাপুরুষ প্রশাসনের মুসলমান তোষণ বেড়ে চলেছে, ফলে ভারতীয় মুসলমানরা আরো বেশি সহিংস জিহাদী হয়ে উঠেছে। এখন ভারতীয় মুসলমানরা বাংলাদেশের জিহাদী মুসলমানদের মতই পশ্চিম বাংলায় দুর্গা পুজোতে মাইক বন্ধ রাখার কথা বলতে সাহস পায়। কাশ্মীরকে সহিংস মুসলমানরা পাকিস্তানের অন্তভূক্ত করার প্রকাশ্যে দাবি জানাতে সাহস পায়। আর ওদিকে এক বাপের ব্যাটা চাইনাতে মুসলমানদের শায়েস্তা করা চলছে মহা উদ্দীপনা সাথে। এখন আরও কোণঠাসা হয়ে হয়ে ক্রমশ সভ্য হচ্ছে সংখ্যালঘু জিহাদী মুসলমান উইঘুর সম্প্রদায়৷ কোরআন বিরোধী উচিৎ শিক্ষা দেওয়ার নামে তাঁদের ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে’ নিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সুমধুর ইসলাম বিরোধী অত্যাচার চালাচ্ছে চিনা প্রশাসন৷ শুয়োরের গোস্ত আর মদ খাওয়ানো হচ্ছে সহি মুসলমানদের। চিনা প্রশাসনের উদ্দেশ্য কোরআনের জিহাদী অভিশাপ থেকে মুসলমানদের মুক্ত করে সভ্য মানুষ বানানো। এই জন্য ডিটেনশন ক্যাম্প গুলিকে মহান ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ আখ্যা দিয়ে, এদেরকে যথাযথ স্বীকৃতিও দিয়েছে বেজিং৷ এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাল চিনের হালাল-বিরোধী অভিযান৷ মুসলমান তুমি শুয়োরের গোস্ত খাও, মদ খাও আর সেই সাথে মুসলমানিত্ব ছেড়ে প্রকৃত মানুষের মতো সভ্য হও।

#সাবাশ চিন! এই তো চাই! ভারত যা পারে না, তা পারে চিন। আসুন চিনকে সালাম/প্রনাম জানাই!

তবে আশ্চর্যজনক ভাবে এই ইস্যুতে মুখে কুলুপ এঁটেছে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো ইসলামিক রাষ্ট্রগুলি৷ চিনের বিরুদ্ধে মুখ খোলেনি অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কর্পোরেশনের মতো সংগঠনগুলিও৷ যাকে দু’মুখো নীতি বলে ব্যাখ্যা করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

চিনা প্রশাসনের দাবি, মূলত জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী উইঘুর মুসলিমদের মধ্যে হালালের ধারনা কার্যত গোঁড়ামিতে পরিণত হয়েছে৷ তাঁদের সেই ধারনা থেকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন৷ ওই সংখ্যালঘু জিহাদী মুসলিমদের যথাযথ উচিৎ শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে চিনের দাবি৷ অভিযোগ, সেই কারণেই মহান শিক্ষা ক্ষেত্রের নামে ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ গুলিতে ওই চিনা মুসলিমদের উপরে মগজ ধোলাইয়ের নামে সুমধুর অত্যাচার চালাচ্ছে জিনপিং প্রশাসন৷ এখানেই শেষ নয়, প্রশাসনের টার্গেট হতে হয়েছে শিনজিয়াং প্রদেশের ইমামদেরও৷ এই বাঞ্চোৎরা ছিল মুসলমানদের জিহাদী শিক্ষাদাতা। কোরআনের জিহাদী আয়াত সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা করে করে মুসলমানদের জিহাদী বানাতো। এমনও হয়েছে, প্রশাসনের নির্দেশে প্রকাশ্যে নাচ করতে বাধ্য করা হয়েছে তাদের৷ সেই ছবিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ জানা গিয়েছে, বর্তমানে চিনে এক মিলিয়ন তুর্কি ভাষী মুসলমান বসবাস করেন৷ যাঁরা উইঘুরস মুসলমান সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত৷ বলপূর্বক তাঁদের শিনজিয়াং প্রদেশের বিশেষ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে চিনা প্রশাসন এবং সেখান তাদের ইসলাম বিরোধী মগজ ধোলাই করা হচ্ছে৷ খাওয়ানো হচ্ছে পবিত্র শুয়োরের গোস্ত এবং মদ। এই ভাবেই চলছে চৈনিক রাষ্ট্রীয় পবিত্র অত্যাচার৷ রাষ্ট্রসংঘে পেশ হয়েছে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট৷ যার পরেই চিনের বিরুদ্ধে সুর চড়ায় মুসলমানদের হাতে টুইন টাওয়ার হারানো হতভাগ্য মার্কিন প্রশাসন৷ সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর এই চিনা আগ্রাসনের প্রতিবাদ করে বিভিন্ন সময়ে ইসলামিক জিহাদী সন্ত্রাসের শিকার আর এক হতভাগ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধিকারিকরাও৷

#এদের এখনো শিক্ষা হয়নি, লজ্জাও নেই। কোনদিন হবেও না। যাইহোক, যেহেতু তারা তাদের দেশে মুসলমান রিফিউজি ঢুকিয়েছে, সুতরাং, সেখানে জিহাদ হবেই। সবই সময়ের ব্যাপার।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, মুসলিমদের উপর চিনের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত মুখ খুলতে দেখা যায়নি কোনও সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলামিক রাষ্ট্রকে৷ তাঁদের মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব৷ এমনকি তুর্কি নাগরিকদের উপর অত্যাচার চললেও, বেজিং-এর বিরুদ্ধে মুখ বুঁজে রয়েছে তুরস্ক৷ এমনকি কাশ্মীর, বা, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মতামত দিলেও এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কর্পোরেশন৷ ইসলামিক রাষ্ট্রগুলির এই দ্বিচারিতার কারণ বুঝতে না পারলেও তা অনুমান করতে পারছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের মতে, চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সু-সম্পর্ক বজায় রয়েছে উল্লেখিত ইসলামির রাষ্ট্র গুলির৷ আর পাকিস্তানের সব ঋতুর বন্ধু চিন৷ চিনা সাহায্য না পেলে পাকিস্তান খাবে কি? আন্তর্জাতিক মহলে একাধিক বিষয়ে চিনের ভরসাতেই অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে ইসলামাবাদ৷ ফলে এই মুহূর্তে চিনের চোখে চোখ রেখে কতটা কথা বলতে পারবে মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলি সেই বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের৷

রেজাউল মানিক