বিগত দশকে পশ্চিমবঙ্গে কিছু মানুষের জন্মরহস্য পার্টি অফিসের বন্ধ দরজায় ভেতর লুকিয়ে আছে, এইসব বামচোদ জারজদের এখন তেমন দেখা যায়না, তবে হিন্দু সংস্কৃতি কিছু অনুষ্ঠান হলে এরা নিজের জন্মপরিচয় জানান দিয়ে যায়।

আর্য সভ্যতায় ঈশ্বর আরাধনার দুটি দিক ছিল একদল ছিল আদিত্যবাদী যারা প্রজ্ঞার পূজারি, এরা প্রত্যক্ষ দেব আরাধনা করতেন, যেমন আদিত্যরূপি সর্বব্যাপক ঈশ্বরকে যা বেদে বিষ্ণুরূপ বোঝানো হয়, সূর্য অগ্নিরূপে প্রত্যক্ষ করে আরাধনা করা হয়।এরা আদিত্যবাদী যাজ্ঞিক আর্য।

আরেক দল আর্য যারা মুখ্যপ্রাণের উপাসনা করতেন, যারা অন্তর অধিষ্ঠিত দেবসত্ত্বার পূজারি, প্রাণ বায়ুর পূজারি, রুদ্রই এখানে প্রধান আরাধ্য এরা যোগবাদী। রুদ্রের পরিচয়, রুদ্র এবং শিব একই তত্ত্বের এপিঠ ওপিঠ,  রুদ্র বা শিব উপাসনায় যে লিঙ্গোপাসনা দেখতে পাই সেইনিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

শিব লিঙ্গ দেখলেই কিছু মানুষের বিকৃতি যেন অন্যমাত্রায় পৌঁছে যায়, লিঙ্গ একটি কুৎসিত আরাধনা পদ্ধতি যা হিন্দুরা পালন করে ইত্যাদি ইত্যাদি, আবার অনেক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির মতামত এইযে লিঙ্গ আরাধনা একটি অনার্য পদ্ধতি যা পরবর্তীকালে হিন্দু ধর্ম সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

প্রথম মতামত প্রদানকারীদের প্রসঙ্গে বলি, এরা সেইসব প্রজাতির বিকৃত জীব যাদের কাছে জনস্বার্থে প্রচারিত জন্মনিয়ন্ত্রণের বিজ্ঞাপন বা মহিলাদের মাসিক কালীন সুরক্ষা ব্যবস্থার বিজ্ঞাপন দেখলেও যৌনবিকৃতি চরমে পৌঁছে যায়।

দ্বিতীয় মতামত প্রদানকারীদের প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে তাদের জ্ঞান বিক্ষিপ্ত। তাদের আর্য সভ্যতা এবং সাহিত্য নিয়ে তেমন জ্ঞান নেই বা তাদের উদ্দেশ্য অসৎ।

লিঙ্গ কথার অর্থ প্রতীক,  তো কিসের প্রতীক? প্রথম সূত্র অনুসারে ধরেই নিই, লিঙ্গ প্রজননের প্রতীক। এটা ধ্রুবসত্য প্রজনন প্রাণের একটি মৌল ব্যাপার, তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া চলে না, আর সভ্যতার ঊষালগ্নে আর্যরাও তা করেননি।রির্ংসার ঊধ্বায়নই হল ব্রহ্মচর্য, যা আর্যসাধনার মূল স্তম্ভ।ঊধ্বায়নের সাধনায় নিরোধ আর আপ্যায়ন দুইই অপরিহার্য, দুয়ের সমন্বয়েই সাধনায় সিদ্ধি।এর মধ্যে নিরোধের দিকে স্বভাবতই বেশী জোর পড়েছে মুনিধারায় বা শৈবভাবনায়, আর আপ্যায়নের দিকে পড়েছে ঋষিধারায়।

চলতি কথায় মদন দহনের দ্বারা কামজয় করেন শিব, আর মদনমোহনের দ্বারা বিষ্ণু, তবে সংযম উভয়ক্ষেত্রেই একান্ত প্রয়োজন।

ঋকসংহিতায়”শিপিবিষ্ট” বিষ্ণুর বিশেষণ এবং নামটি যে নিন্দনীয় সে ইঙ্গিতও আছে, আবার বাজসনেয়সংহিতায় এই নামটি রুদ্রেরও।নিঘন্টুতে শিপিবিষ্ট এবং বিষ্ণু দুটি নাম পাশাপাশি আছে।যাস্ক বলেন নামটি কুৎসিতার্থীয় কেননা তাতে উদীয়মান সূর্যকে অপ্রতিপন্নরশ্মি বলে অনাচ্ছাদিত পুংপ্রজননে সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, ভগের প্রতীক আমাদের সুপরিচিত শালগ্রাম শিলায়।বৈষ্ণবের শালগ্রাম আর শৈবের শিবলিঙ্গ দুইই শিপিবিষ্ট, স্থূলভাবে নিলে কুৎসিত, আর্যচেতনায় কিন্তু এটা প্রজননের প্রতীক চিহ্ন।

বাজসনেয়সংহিতায় রুদ্রের আর দুটি নাম জঘন্য এবং বুধন্য, প্রথমটার মানে বোঝায়ায়, দ্বিতীয়টি স্মরণ করিয়ে দেয় “ঊধ্বাবুধন অর্বাগবিল চমস” বা ওলটানো হাঁড়ির কথা।সমুদ্রতল হতে সূর্যোদয়ের ঠিক এইরকম। দেখা যাচ্ছে বৈদিক আর্যেরা সাক্ষাৎভাবে লিঙ্গোপাসক হয়তো ছিলেননা, তাহলেও তারা লিঙ্গ রহস্য সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং তাকে স্বীকারও করেছেন, কিন্তু আর্য ব্রাত্যরা এই ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন।আর সংহিতায় এবং ব্রাহ্মণে প্রজনন নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা আছে।সৃষ্টির এই মুখ্য বৃত্তিটিকে আর্যরা উন্নাসিক অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখবার ভণ্ডামি করেননি, বরং মদন দহন এবং মদনমোহন এই দুই পৃথক দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছিলেন, কালক্রমে যা এক হয়ে অন্যমাত্রায় আরাধ্য হয়ে উঠেছে।

এইবার বলা যেতেই পারে যৌনতা একটা নিকৃষ্ট বিষয় তার সঙ্গে বৈদিক দেবসত্ত্বার সম্পর্ক লজ্জার বিষয়। সেইক্ষেত্রে বলি এই ধারনাই বিকৃত। রুদ্র বিষ্ণু এই নামগুলি আদতে ঈশ্বরের গুণগত নাম, আর ঈশ্বরের প্ররোচনাতেই সৃষ্টি সম্ভব, আর লিঙ্গ হল সেই প্ররোচনার প্রতীক মাত্র, এই ক্ষেত্রে বিকৃতিটা ধারনাকারীর মানসিক ত্রুটি আর ব্যক্তিগত বিকৃতি।

যজুঃসংহিতায় শতরুদ্রীয় হোমমন্ত্রে রুদ্রের বিশ্বরূপের বর্ণনা আছে, তিনি সহস্রাক্ষ জগতের চেতন অচেতন সব কিছুই রুদ্র, পৃথিবীতে তিনি শিব,তিনিই দেবতারদের হৃদয়, মানুষের মধ্যে ঋষি ও কবি,চোর ডাকাত,নিশাচর, কামার,কুমার, নিষাদ,তিনি পশু, তিনিই সূক্ষ্ম কৃমি কীটও,মেঘ, আকাশ,জন্ম মৃত্যু সব তিনিই, তিনি ছাড়া বিশ্বভুবনে দ্বিতীয় আর কিছুই তিনিই সবার ঈশান বা ঈশ্বর।আর তিনিই প্রাণ প্রজননের স্থূল প্রতীক লিঙ্গ।

আর সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে অথর্ববেদে উল্লেখিত অধ্যায় দেখলে লিঙ্গ মাহাত্ম্য আরও ভালো ভাবে স্পষ্ট হবে।

রুদ্র অথর্ববেদে মহাদেব, জনসাধারণের সঙ্গে তার যোগ ঘনিষ্ঠ।এই বেদে রুদ্র ব্রাত্যদের দেবতা একব্রাত্য মহাদেব, যিনি আদিতেও ছিলেন তবে কিনা চরিষ্ণু সৃষ্টিবাদী আলোক স্তম্ভ হয়ে, তিনি প্রজাপতি কে বায়ুর মত চঞ্চল করলেন, সেই প্রজাপতি নিজের মধ্য দেখলেন এক সুবর্ণ জ্যোতি তারই আলোকে।তাই তিনি টিকলি হল, তাই মহৎ হল,তাই জ্যেষ্ঠ হল, তাই ব্রহ্ম হল,তাই তপ হল,ব্রাত্য বেড়ে চললেন তিনি মহান হলেন,তাইতে তিনি মহাদেব, তিনি দেবতাদের ঈশ্বরত্ব লাভ করলেন (সংঘবদ্ধ শক্তি হলেন) তাই তিনি ঈশান, তিনি একব্রাত্য হলেন, তিনি একটা ধনু নিলেন।তাই ইন্দ্রধনু, নীল তাঁর উদর, আর লোহিত পৃষ্ঠ, নীল দিয়েই অপ্রিয় আত্মাকে তিনি একেবারে ঢেকে ফেলেন, তারপর দিকে দিকে চরিষ্ণুরূপে তিনি ছড়িয়ে পড়লেন, তার বর্ণনা,,, তার শেষে আছে, তিনি টলটলে মহিমা হয়ে পৃথিবীর প্রান্তেপ্রাণে গেলেন, তাতেই তিনি সমুদ্র হলেন।

এই বর্ণনার সারকথা হল, একব্রাত্য মহাদেবই এই যাকিছু সব হলেন,হলেন তাঁর প্রাজাপত্যশক্তির বিচ্ছুরণে, সে শক্তি হিরণ্যগর্ভ,তাতেই সৃষ্টির মূলতত্ত্বেগুলি উৎপন্ন হল, তাহতে বিরাটের জ্যোতির আবির্ভাব হল, এ আবির্ভাব তাঁরই আত্মবিবর্ধন,,,,,তাঁর বৃহৎ হওয়া, সমস্ত দেবতার ঐশ্বর্য নিয়ে ঈশান মহাদেব হওয়া।

আর স্থূল ভাবে আমাদের কাছে আলোকিত বিরাট প্রাণশক্তি, যার প্রতীক এই লিঙ্গ।

সারমেয়কামী জানোয়ারের দল যতই চিৎকার করুক ভারতভূমি শিবের মাথায় জল মানুষ ঢালবেই, যতদিন ভারত থাকবে, বিবেকানন্দের ভাষায় বলতে গেলে ” ‘…ঐ যে হিমালয় পাহাড় দেখছ, ওরই উত্তরে কৈলাস, সেথা বুড়ো শিবের প্রধান আড্ডা। ও কৈলাস দশমুণ্ড-কুড়িহাত রাবণ নাড়াতে পারেননি, ও কি এখন পাদ্রী ফাদ্রীর কর্ম!! (বাম্বাচ্চা বামৈস্লামিক ক্ষেত্রেও)
      ঐ বুড়ো শিব ডমরু বাজাবেন, মা কালী পাঁঠা খাবেন, আর কৃষ্ণ বাঁশী বাজাবেন,—এ দেশে চিরকাল। যদি না পছন্দ হয়, সরে পড় না কেন? তোমাদের দু-চারজনের জন্য দেশসুদ্ধ লোককে হাড়-জ্বালাতন হ’তে হবে বুঝি? চরে খাওগে না কেন?—এত বড় দুনিয়াটা পড়ে তো রয়েছে ! তা নয়। মুরদ কোথায়? ঐ বুড়ো শিবের অন্ন খাবেন, আর নিমকহারামি করবেন, …’
                                       (প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য)