পাকা পায়খানা তালুকদারের জীবনানন্দ চুলকানির জবাবে…
…………………………………………
মুসলমান নিজেকে বাঙালি বলে স্বীকার না করলেও সে বাঙালি। অন্যরাও তাকে বাঙালি বলে স্বীকার না করলেও সে বাঙালি। তাই মূল পয়েন্ট হচ্ছে বাঙালি মুসলমানের নিজেকে বাঙালি বলে স্বীকার না করা নিয়ে।
উদাহরণ দেই হোসেন শহীদ সহরাওয়ার্দী পারিবারিক ভাষা ছিলো উর্দু!  মাওলানা আকরাম খাঁর পূর্ব পুরুষরা ছিলেন পীরালী বামুন। মুসলমান হওয়ার পর তাদের ভাষা হয়ে গেলো উর্দু। স্বয়ং আকরাম খাঁ মনে করতেন তাদের পূর্ব পুরুষ আরব দেশ থেকে এসেছে!
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় হিন্দু মুসলিম রাখি বাধতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ যখন নাখোদা মসজিদের ইমামের হাতে রাখি বাধতে গেলেন ইমাম সাহেব পিছিয়ে গিয়ে বলেছিলেন, বাবু, আমি মুসলমান…।
তারপর গঙ্গা যমুনায় অনেক জল গড়ালো। দেশভাগের সময় চলে আসল। মুসলিম লীগের একচেটিয়া সমর্থক পূর্ব বঙ্গের একজনও কি তখন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল যিনি তখন নিজেকে বাঙালি বলে মনে করতেন? মুসলমানদের প্রতিবেশী একই জাতিসত্তার মানুষ হয়েও হিন্দুরা দেখেছে মুসলমানরা এদেশে শুধুই মুসলমান! বাঙালির সব কিছুই তাদের কাছে “হিন্দুয়ানি” বলে পরিত্যাজ্য। বহু হিন্দু যে বাঙালি মুসলমানকে কেবলই মুসলমান মনে করে তা কোন বিদ্বেষ থেকে নয়। হিন্দুরা মুসলমানদের “শেখ” বলে অভিহিত করত। এটি ছিলো ভারতের বাইরে মুসলমানদের একটি অভিজাত বংশ। প্রায় সব মুসলমানই মনে করত তাদের পূর্ব পুরুষ এসেছে আরবদেশ থেকে।
‘হাতমে বিড়ি মুখমে পান লড়কে ল্যাঙ্গে পাকিস্তান’ বলেও বাঙালি মুসলমান ৫২ সালে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন করেছিল। যদিও তখনও একটি খবরের কাগজের নামও বাংলা ছিলো না। হয় উর্দু নয়ত আরবিতে রাখা হত। শ্মশানকে গোরস্থান পরিবর্তন করে বই ছাপা হচ্ছিল। হিন্দুদের লেখা পাঠ্য থেকে উঠিয়ে নিতে সাহিত্যিকরা চাপ দিচ্ছেন। আরবি হরফেও বাংলা লেখার দাবী উঠছে। অন্ততপক্ষে সেসময় বাঙালি মুসলমানের মুসলমানিত্ব নিয়ে যে জোশ চলছিল তার মধ্যে ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে দেয়াটা এক প্রকার অবাস্তবই। বদরুদ্দীন উমারও বলেছেন ভাষা আন্দোলন শিক্ষিত মুসলমানদের চাকরি হারানোর ভয় থেকে জেগে উঠেছিল। এখন সেটাই পাকা পায়খানা তালুকদার বাংলা ভাষা প্রেম বলে চালাতে চায়!
দেশভাগের আগে বাঙালি মুসলমানের মুসলমানিত্বের দম্ভোক্তি দেখে গিয়েছিল পূর্ববঙ্গ ফেরত পশ্চিমবঙ্গের লেখক শিল্পী বুদ্ধিজীবীরা। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অর্ধেক জীবন বইতে আছে কমল কুমার মজুমদার ৫২-এ ঢাকার ভাষা আন্দোলন নিয়ে ঠাট্টা করে বলছেন, মুসলমানরা আবার বাঙালি হতে চাচ্ছে নাকি?
নিজের সুদীর্ঘকাল মুসলমান হিসেবে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থাকার পর, আজকের বাংলাদেশে পর্যন্ত আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা জেনারেশন, আগে বাঙালি নাকি আগে মুসলমান যারা আজো ঠিক করে উঠতে পারে নাই, তাদেরকে নিয়ে জীবনানন্দ দাস যদি ১৯৫১ সালে প্রবন্ধ লিখে বলেন, একসময় পর্ব বঙ্গের মানুষ নিজেকে বাঙালি বললেও এখন তারা পাকিস্তানী হিসেবে স্বীকৃত – তাহলে তিনি কোথায় বিদ্বেষ দেখিয়েছেন? আহমদ ছফা যে পরিমাণ মুসলমানিত্ব ফলিয়েছেন তার সঙ্গে শুধু বঙ্কিমচন্দ্রের হিন্দুত্বের তুলনা চলে। এখন ছফার চ্যালারাই জীবনানন্দকে সাম্প্রদায়িক বানানোর চেষ্টা করছে!  যারা বলে “আমরা বাঙালি মুসলমান” তারাই তো বিভেদ করল! মীর মুশারফ হোসেনও মুসলমানদের হিন্দুয়ানী নাম রাখার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বাংলা ও বাঙালি সত্ত্ব নিয়ে যদি এতই আগ্রহ তাহলে ছেলেমেয়েগুলির নাম আরবিতে রাখো কেন?
রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দকে এবার রেহাই দেন জনাব মুসলমান! তাঁরা পূর্ববঙ্গ বিদ্বেষী মুসলমান বিদ্বেষী – এইবার হইল তো!