স্থান – কাল – পাত্র ভেদে নিজের ভূমিকা/ কর্তব্য  সঠিক ভাবে পালন করার নামই ধর্ম। ধর্মের পথ বড়ই কঠিন। এই কঠিন পথে নিজেকে ধরে রাখার জন্য শক্তি দরকার। ঈশ্বরোপাসনা মানুষকে এই শক্তি  হয়তো দিতে পারে। কিন্তু ধর্ম আর উপাসনা কখনোই এক নয়। পূজাপাঠ মানেই ধর্ম নয়। মনে করুন আপনার বাবার হার্ট অ্যাটাক হল। সেই সময় তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে যদি আপনি পূজাপাঠে ব্যস্ত থাকেন, এক্ষেত্রে আপনার সেই পূজাপাঠ কি অধর্ম নয়?

হিন্দুদের এই ধর্মবোধের অভাবের কারণেই হিন্দু আজ অস্তিত্বের সংকটে। একদিকে হরিনাম সংকীর্তন চলছে, সাথে সাথে সেই হরিভক্তদের উদ্বাস্তু হয়ে পালিয়ে আসতে হচ্ছে। তাদের মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট হচ্ছে। আর রিফিউজি ক্যাম্পে এসেও তারা সেই হরিনাম করে মনে করছে আমরা খুব ধর্ম করছি! এ কি করে ধর্ম হতে পারে? এ তো চরম অধর্ম। এই অধর্মাচারীরা নরকে যাবে।  বরং একজন নাস্তিক যদি দিনে দশবার ভগবানকে খিস্তি করেও নিজের মাটি বাঁচাতে, মা-বোনের সম্ভ্রম বাঁচাতে, সমাজ-সংস্কৃতি রক্ষা করতে লড়াই করে – তার থেকে বড় ধার্মিক আর কাকে বলবো?