লেখাটি বড় দেখে এড়িয়ে যাবেন না,দাদা।

অামাকে যারা বেশ কয়েক বছর ধরে ফেসবুকে দেখছেন তারা সকলেই জানেন,অামি কতটা অজ্ঞানী ও মূর্খ। বিদ্যে বুদ্ধি ঘটে নেই তেমন। তারপরেও যেহেতু অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী হয়,তাই মনের অজান্তেই দু”কলম লিখে জ্ঞান ঝাড়ি,বুঝলেন তো। অাজ ভারতীয় Z News এ একটি সংবাদ দেখে ভীষন মর্মাহত ও উদ্বেগান্বিত হয়ে পড়াতেই লিখছি। ভারতের কেরালায় তিন মাসে সাড়ে তিন হাজার হিন্দু মেয়ের ধর্মান্তরিত হওয়ার খবরটি সত্যি অামাকে কয়েকটি প্রশ্নের সম্মূখীন করে ফেলেছে। নিজ জাত ও হিন্দু ধর্ম নিয়ে সংশয় জাগছে মনে। এ পৃথিবীতে নারী পুরুষের প্রেম ভালবাসা সৃষ্টির উষালগ্ন থেকেই অাছে এবং তা যতদিন পৃথিবীর অস্তিত্ব অাছে এবং পৃথিবীতে জীব অাছে,মানুষ অাছে ততোদিন এটা থাকবেই। কিন্তু বাস্তবতা,সামাজিকতা,ধর্মের অনুভূতি ও নিয়ম নীতি,জাতী বা গোষ্ঠীর কালচার এই নারী পূরুষের ভালবাসার পাত্র পাত্রী নির্ধারনে ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে অাসছে হাজার হাজার বছর ধরে। বিশেষ করে মানুষ যখন থেকে সামাজিকভাবে ও দলগতভাবে বাসবাস শুরু করে সেই অাদি যুগ থেকেই।যখন ধর্ম ও তার মতাদর্শ প্রকট হল তখন এই নারী পূরুষ নির্বাচন ধর্মীয় অনুশাষন ও নিদ্দিষ্ট জাতীগোষ্ঠীর গন্ডিতে বাঁধা পড়ল অারও কঠোরভাবে। যাহোক,জ্ঞান ঝাড়তে না গিয়ে অাসল কথায় ফিরে অাসি। কথা হচ্ছিল মাত্র ৩ মাসে কেরালায় ৩৫০০ হিন্দু মেয়ে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয় নিয়ে। এই ঘটনা যে শুধু ভারতের কেরালা রাজ্যেই ঘটছে তাই নয়। হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সহ অনেক রাজ্যে প্রতিনিয়তই ঘটছে। বাংলাদেশ,পাকিস্তানের কথা না হয় বাদই দিলাম। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হিন্দু মেয়েরা ধর্মান্তরিত হওয়ার পিছনে যুক্তসংগত ও পারিপার্শ্বিকতা,সামাজিকতা ও মুসলিমদের অাধিক্য, জোর জুলুম অনেকাংশে দ্বায়ী। এবং এই দেশ দুটিতে হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষগুলো তাদের স্বধর্মের জ্ঞান চর্চা ও ধর্মাচারন করার সুযোগ কম পায় বিধায় হিন্দুর সন্তান স্বধর্ম ঠিক মত জানতে না পারার কারনে এবং বিধর্মীদের প্ররোচনায় ধর্মান্তরিত বেশী হচ্ছে। তা মেনে নেয়া গেলেও ভারতের মত হিন্দু প্রধান দেশে কেন এমন হয়?পৃথিবীর একটি মাত্র দেশ ভারতেই হিন্দুর যত কালচার ও ধর্মাচারন,ধর্মজ্ঞান চর্চা বেশী হয়। ভারতের হিন্দুরাই তো স্বধর্মের কালচার ও ধর্ম পালনে সাড়া পৃথিবীর হিন্দুর প্রতিনিধিত্ব করে থাকে।পৃথিবীর সমস্ত হিন্দুরা ভারতকে অাদর্শ হিসাবে মানে। অার সেই ভারতেই যদি হিন্দুর সন্তান বিধর্ম গ্রহন করে,তবে হিন্দুর ধর্মের অসাড়ত্ব বা দেউলিয়াত্বের প্রকাশ কি পায় না? ভারতে তো মুসলিম ধর্মালম্বীগনের সংখ্যা অনেক কম। সমাজে তাদের প্রাধান্য তো অতটা নয়,যতটা অাছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে।এবং ভারতীয় মুসলিমদের ধর্মাচারন তো অতটা প্রকটও নয়। তারা তো হিন্দুর মেয়েকে প্ররোচিত ও জোড় জুলুম করে ধর্মান্তরিত করতে পারে না। এবং তা করা সহজও নয়। তাহলে এই ধর্মান্তরিতের কারন কি? প্রেম ভালবাসা?নাকি স্বধর্মের অসাড়তা ও অজ্ঞতা বা স্বধর্মের বিশ্বাসহীনতা? নাকি হিন্দু সমাজের ব্যার্থতা? এই প্রশ্নগুলোই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকেই বলবন, এটা হিন্দু পরিবারের ব্যার্থতা। হিন্দু সমাজের উদাসীনতা বা ধর্মজ্ঞানহীনতা। কিন্তু তা যদি খোদ হিন্দুর দেশ ভারতেই হয়,তবে বাকী দেশের হিন্দুদের কি অবস্থা হবে তা তো সহজেই অনুমেয়। অামার কাছে এই ধর্মান্তরিতের বিষয়টি শুধু হিন্দুর ব্যার্থতা বলে মনে হয় না। এখানে অন্য কিছু কারন থাকতে পারে। তা হয়ত হিন্দুর স্বার্থপরতা ও হিন্দু ধর্মের অসাড়তা। কারন, হিন্দুরা যতটা স্বধর্ম চর্চা করে,তার চেয়ে অনেক কম ধর্ম চর্চা করে খ্রীষ্টান,বৌদ্ধ ও ইহুদীরা। কিন্তু তারা তো এত ধর্মান্তরিত হয় না। কোন মুসলিম তো জীবন গেলেও স্বধর্মচ্যুত হয় না। এমনি কি অমুসলিম দেশেও কোন মুসলিম সহসা বিধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করে না। অথচ বেকুব জাত হিন্দু? হাজার হাজার বছর ধরে শুধু ধর্মান্তরিত হচ্ছে। অার তা কারনে অকারনেই হচ্ছে। বড় ঘৃনা হয় হিন্দু জাতের উপর। অাজ যে ভাবে হিন্দুর মেয়েরা প্রেম পিরীতির নায়ক পছন্দে মোল্লাকে প্রাধান্য দিচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে হিন্দু সমাজের পূরুষগন পৌরষত্ব  হারিয়ে ফেলেছে।নয়তো হিন্দু মেয়েদের কামুকতার অাধিক্যত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অার যে ভাবে ভারতীয় মিডিয়ায় সেকুলার নামক মোল্লার বীর্যে জন্মান হিন্দুগুলো লাভ জিহাদের নাটক,গল্প, উপন্যাস ও চলচ্চিত্র নির্মান করছে তাতে হিন্দুর মেয়েরা বিধর্ম গ্রহন না করে কোথায় যাবে?এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের নাশ হবে।