Saturday, September 18, 2021
Home Bangla Blog ভালো লাগছে আস্তে আস্তে বাংলাদেশ প্রগতিশীলতার ছাল খু্লে শেয়ালগুলো হুক্কাহুয়া ডেকে উঠছে।

ভালো লাগছে আস্তে আস্তে বাংলাদেশ প্রগতিশীলতার ছাল খু্লে শেয়ালগুলো হুক্কাহুয়া ডেকে উঠছে।

বাংলাদেশের সলিমুল্লাহ খান ডয়েচ ভেলে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন যেখানে তিনি দাবী করেছেন, ‘অখন্ড ভারত’ হচ্ছে বিজেপির পুরোনো রাজনীতির অংশ। তার কথা সিরিয়াসলি ধরলে মনে হতে পারে কেবলমাত্র হিন্দুত্ববাদীরাই অখন্ড ভারত চায়। এটা নাকি অনেক পুরোনো খেলা, এ কারণেই লড়াই হয়েছিলো ৪৭ সালে। এবার নাকি কাশ্মিরকে অখন্ড ভারতে যুক্ত করায় ভারত ভেঙ্গে যাবে এবং এ জন্য নরেন্দ মোদি নন্দিত হবেন স্বাধীনতাকামীদের কাছে। তারপর যে কথাটি তিনি বলেছেন সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তিনি দাবী করেছেন ‘অখন্ড ভারত’ মানে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ভারতের অঙ্গরাজ্য করার সুদূরপ্রসারি একটি পরিকল্পনা। তার কথাতে কোন রাখঢাগ নেই। তিনি পরিস্কার করে দ্বিজাতি তত্ত্বকে সমর্থন করলেন এবং পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটিকে মেনে নিলেন যারা কিনা ভারতের ষড়যন্ত্রের শিকার। সলিমুল্লাহ খানের ভাষ্য হলো, ভারতীয় বলতে কোন জাতি কোনকালেই ছিলো না। ইউরোপ বলতে যা বুঝায় ভারতীয় বলতে সেরকমই কিছু বুঝায়। ভারতের রাজ্যগুলো আসলে একেকটা দেশ। ইউরোপের মতই এগুলোর স্বাধীনতা দরকার।

জনাব সলিমুল্লাহ খান, ‘বাংলাদেশী’ কিংবা ‘পাকিস্তানী’ বলতে কোন জাতি কিংবা দেশ কি এখানে ছিলো? বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এতগুলো জাতি সম্প্রদায় মিলে তাহলে কেমন করে থাকছে? ভারতে পাঞ্জাবি, বাঙালি,  তামিল, তেলুগু, মারাঠি, মালায়ালমসহ অন্যান্য জাতি সম্প্রদায় যে অখন্ড ভারত রচিত করেছে আপনার কি কেবল তাতেই সমস্যা? ভারত ভেঙ্গে মুসলমানরা পাকিস্তান করল। আপনার তত্ত্ব হলো এদেশগুলো কখনই ভারত নামের কোন কিছুর অঙ্গ ছিলো না। তাই ভাগ হয়েছে। শ্রীলংকা, ভুটান, নেপালের উদাহরণ দিয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তান কেন হলো তার ব্যাখ্যা এখানে দেননি। কেন কেবল মুসলমানদের সমস্যা ঘটে ভারতে? কাশ্মির ভারতের মূলধারায় মিশে গেলে বা মেশানোর চেষ্টা করলে ভারত ভেঙ্গে যাবে অথচ ভারতে এতগুলো জাতি একসঙ্গে ইউনিয়ন করে থাকছে তাদের কোন সমস্যা নেই কেন?

জনাব সলিমুল্লাহ খান, তাহলে বেলুচ পাঞ্জাবী আর পাঠানরা কিসের ভিত্তিকে ‘পাকিস্তানী’ হয়ে একত্রে বাস করবে? ‘পাকিস্তান’ এই নামটি ভূগোল খুলে পাওয়া গিয়েছিলো নাকি কবির কবিতার উপমা থেকে এই নামটি ধার করা? আপনি ও আপনার মত যারা কাশ্মির নিয়ে ব্যখিত এবং ভারত ভাঙ্গার আশায় গোঁফে তেল মেখে বসে আছেন তারা কেউ কিন্তু বলেন না বেলুচ পাঞ্জাবী পাঠানদের উচিত নিজেদের আলাদা আলাদাভাবে স্বাধীন হবার চিন্তা করা। পশ্চিমবঙ্গের একজন বাঙালী ভারতে নিজেকে পরাধীন মনে করবে কেন? যদি সেরকম করাই উচিত তাহলে কি পার্বত্র চট্টগ্রামের একজন চাকমা মারমা’র কি একই রকমভাবে নিজেকে পরাধীন মনে হওয়া উচিত নয়? কাশ্মিরের উপর নাকি ভারতকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। একইভাবে কি বাংলাদেশকে চাকমা মারমাদের উপর চাপানো হয়নি? তাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো ‘বাঙালী রাষ্ট্র’ তারা চায় কিনা। মুক্তিযুদ্ধ যদি বাঙালী জাতীয়তাবাদের উপর হয়ে থাকে তাহলে সেই রাষ্ট্র কি আদিবাসী পাহাড়ী জাতিগোষ্ঠির উপর চাপানো হলো না? তবু তাদের ‘বাংলাদেশী’ হয়ে বাস করতে কোন আপত্তি নেই। তাহলে পাঞ্জাবি, বাঙালি, তামিল, তেলুগু, মারাঠিসহ ভারতের শখানেক জাতির ‘ভারতীয়’ হয়ে থাকতে কেন সমস্যা হবে? একজন মাঠাটা, কিংবা তেলুগু কি বলেছে ভারতে তারা পরাধীন জাতি?

আসল কথা হচ্ছে মুসলমানদের আলাদা হতে হয়। কারণ সুলিমুল্লাহ খানরাও মনে করেন তারা মুসলমান হিসেবে হিন্দুদের চাইতে আলাদা জাতি। সমস্যা তাই কাশ্মিরের মুসলমানদের। সমস্যা ছিলো পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের। কাশ্মিরের অপর একটি অংশ পাকিস্তান দখল করে রেখেছে। সেখানে স্বাধীনতার প্রশ্ন আসে না। সুলিমুল্লাহ খান কিংবা বাংলাদেশী কবি দাউদ হায়দারের কিন্তু সেই কাশ্মির নিয়ে কোন ব্যথাবেদনা নেই। চীনের হাতে দখলকৃত কাশ্মির, তিব্বত, উইঘুর নিয়ে কারোর কোন মাথাব্যথা নেই। হংকংয়ে এতদিন ধরে চীনের দখলদারীর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে অরুন্ধতীর তাতে কোন সমস্যা নেই। চীনের ৫০০০ সৈন্য হংকংয়ে থাকে তাতে হংকংয়ের সর্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয় না। হংকংয়ের প্রশাসকরা হংকংবাসীর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নয়, কাঠামোগতভাবে তাদের চীনের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়। কাশ্মিরে এতদিন তো এরকম কোন অবস্থা ছিলো না। তাদের আলাদা আইন সংবিধান ছিলো। তারপরও কবি দাউদ হায়দারের কাছে বিশ পঁচিশ বছর আগে সেখানকার মুসলিম অধ্যাপক বুদ্ধিজীবীরা কেন আক্ষেপ করে পরাধীনতার গল্প বলতেন? কারণ দ্বিজাতি তত্ত্ব আকাশ ফুড়ে বেরয়নি, এই তত্ত্ব্ মুসলমানদের ধর্মে আছে। এই তত্ত্ব সব মুসলমানের মনস্তত্বে আছে। হংকং, তিব্বত, বেলুচদের মত উপনিবেশ শাসন কাশ্মিরীদের ভোগ করতে হয়নি। এখন ৩৭০ উঠে যাবার পর তারা ভারতের পাঞ্জাবি, বাঙালি, তামিল, তেলুগু, মারাঠিসহ আরো শ’খানেক জাতি সম্প্রদায়ের মত একই সংবিধান আইনে ভারতবাসী হয়ে বাস করবে। ‘বাংলাদেশী’ ‘পাকিস্তানী’ বলতে যদি কিছু না থেকেও বিনি সুতার মালায় নানা জাতি সম্প্রদায় এক রাষ্ট্রে বাস করতে পারে- তাহলে ভারতে সমস্যা কোথায়?

সমস্যাটা মনে। হিংসায় আর ঘৃণায় এই উপমহাদেশের মুসলমানরা ভারতকে অভিশাপ দেয়। ৪৭ সালের দেশভাগ থেকে রেষারেষি কারণ প্রতিযোগীতায় টিকতে না পারা। পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে এ যাবতকালের সবগুলো যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। সলিমুল্লাহ খানদের মত ছদ্মবেশী মুসলিম জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবীরা পাকিস্তানের এই পরাজয়ে ক্ষুব্ধ। আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের প্রভাবে তারা সাম্রাজ্যবাদ দেখতে পেলেও চীনের ব্যাপারে কবি দাউদ হায়দার নিরব! এই নিরবতার মানে অন্য রকম। যেমন দুনিয়ার এত স্বাধীনতাকামী জাতি থাকতে আহমদ ছফা ৯৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের উচিত স্বাধীনতা যুদ্ধ করা ভারতের বিরুদ্ধে আর এরকম কিছু হলে বাংলাদেশের উচিত তাদের সাহায্য করা। একজন ভারতীয় বাঙালী কেন ভারতে নিজেকে পরাধীন মনে করবে? আহমদ ছফারা কি পূর্ব পাকিস্তানে পরাধীন ছিলেন? তাদের এই রকম ইতিহাস রচনা মিথ্যা অসম্পূর্ণ। পূর্ব পাকিস্তানীরা পরাধীন ছিলো না। পাকিস্তানে বাঙালীদের প্রতি চরম বৈষম্য চালানো হত। তাদের প্রকৃত মুসলমান মনে করা হতো না। তাদের হাফ হিন্দু মনে করা হত। বাঙালীরা ৪৭ সালে ঘোষণা দিয়ে মুসলমান হতে চাইল কিন্তু সেখানেও তাদের অপমান করা হলো। এই অপমানই তাদের সম্ভবত বাঙালী সংস্কৃতিতে সাময়িক সময়ের জন্য ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো। নইলে বড় শখ করে, ভালোবেসে, রক্ত দিয়ে তারা ‘মুসলমানের নিজস্ব দেশ পাকিস্তান’ গড়েছিলো। ‘পরাধীন পাকিস্তান’ বলাটা তাই এখানে অন্যের উপর দোষ চাপানো। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে ‘হানাদার বাহিনী’ বলাটাও যৌক্তিক নয় কারণ তারা বাইরে থেকে এসে আঘাত করেনি। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান একই দেশ ছিলো।

যাই হোক, এটা জেনে ভালো লাগছে আস্তে আস্তে প্রগতিশীলতার ছাল খু্লে শেয়ালগুলো হুক্কাহুয়া ডেকে উঠছে। তারা এখন দৃঢ়ভাবে বলছে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার লড়াই হয়েছিলো ‘অখন্ড ভারত’ করার ষড়যন্ত্র রুখতে। সম্ভবত আনিসুজ্জামান, হায়াৎ মামুদরাই হচ্ছেন বাংলাদেশী সেক্যুলার প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের শেষ প্রতিনিধি। বাকী যারা এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা সকলেই তাদের চিন্তা ও লেখায় ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদ’ প্রতিষ্ঠায় অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ হবার পর আহমদ ছফা, আবদুর রাজ্জাকদের চেষ্টা এখন ফরহাদ মজহার. সলিমুল্লাহ, রাইসু, সাজ্জাদ শরীফদের হাতে প্রপাগন্ডা পাচ্ছে। কারণ তাদের হাতে মিডিয়া আছে, কাগজ আছে। তাদের বক্তব্য প্রচার পায়। আর আমাদের হাতে কেবল ফেইসবুক। তাতেই মুখোশ খোলা অব্যাহত থাকুক…।https://m.dw.com/bn/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%A6%E0%A7%80/a-50046358

RELATED ARTICLES

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন!

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন! সবচেয়ে বড় কথা হল আইএসআইয়ের এই সম্পূর্ণ...

আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।

শরণার্থী : আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে ইসলামী মৌলবাদিদের জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।নিউজিল্যান্ড ইসলামী জিহাদিদের ছুরি হামলা, হামলাকারী একজন শ্রীলংকান মুসলিম শরণার্থী। অন্য দিকে জার্মানিতে...

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে।

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে। কেরালার হিন্দুদের কাছ থেকে ভারতের অনেক কিছু শেখার আছে। কাশ্মীরি...

Most Popular

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন!

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন! সবচেয়ে বড় কথা হল আইএসআইয়ের এই সম্পূর্ণ...

আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।

শরণার্থী : আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে ইসলামী মৌলবাদিদের জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।নিউজিল্যান্ড ইসলামী জিহাদিদের ছুরি হামলা, হামলাকারী একজন শ্রীলংকান মুসলিম শরণার্থী। অন্য দিকে জার্মানিতে...

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে।

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে। কেরালার হিন্দুদের কাছ থেকে ভারতের অনেক কিছু শেখার আছে। কাশ্মীরি...

মন্দির-মসজিদ সহাবস্থান যতগুলি ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিজ্ঞাপন দেখেন তার সবগুলিই মন্দির আগে প্রতিষ্ঠা হয়েছে তারপর মসজিদ।

মন্দির-মসজিদ সহাবস্থান যতগুলি ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিজ্ঞাপন দেখেন তার সবগুলিই মন্দির আগে প্রতিষ্ঠা হয়েছে তারপর মসজিদ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একজন মুসলিম যুবক চন্দ্রনাথ ধামে...

Recent Comments

%d bloggers like this: