“পাকিস্তানের শেষ পরিনতি- ‘নাপাকস্তান’
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

শুনতে , জানতে বা মানতে আশ্চর্য্য লাগলেও বা অবাক হবার মতো অনেক ঘটনা ঘটলেও অঘটন আজো ঘটে।

১) ‘ভারত ভাগ হবে আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে’ এই কথাটা যে ভন্ড মহাপুরুষ বলেছিলো,  সেই আবার লিখেছে “My Experiment with the Truth”, সেই ‘জাতির প্রতারক’ জীবিত অবস্থায় সশরীরে ‘ভারত ভাগের সনদ’ এ সর্ব প্রথম দস্তখত করেছিলো।

২) আর এক ‘মহা প্রতারক’ নিজে প্রধান মন্ত্রী হবার জন্য যাদের যাদের প্রতিদ্বন্ধী বলে মনে করেছিলো এবং ব্রিটিশ এর সঙ্গে ‘যৌথ কৌশলে’ তাদের সরিয়ে দিয়েছিলো, সেই আবার খন্ডিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবার পর ভাষনে বলে “ Tryst with destiny”. নিজেকে ‘গনতন্ত্রের পুজারী’ বলে জাহির করা লোকটি প্রতিষ্ঠিত করে গেলো “নিজের পরিবার তন্ত্র’। অঘটনই বটে।

৩) দেশের তিনভাগের এক ভাগ নিয়ে নিয়েও সেই দেশের এক প্রধানমন্ত্রী বলে “আমরা ভারতের সঙ্গে হাজার বছর ধরে যুদ্ধ করবো”।
৪) আরবী ঘোড়ায় চড়ে, উন্মুক্ত তরবারী মানুষের রক্তে রাঙ্গিয়ে, ১৫০০ বছর ধরে সারা পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ মানুষকে মেরে কেটে, তাদের দেশ দখল করে, নারীদের যৌনদাসী বানিয়ে, গরু ছাগলের মতো বাজারে উলং করে বিক্রি করে, তারা এবং তাদের বংশধরেরা ও তাদের ধর্মের সঙ্গী সাথীরা বলে আমাদের ধর্ম “শান্তির ধর্ম”। এটি একটি মহা অঘটন।

৫) পৃথিবীর ১৭৫ টি দেশের শুধু মাত্র একটি দেশে, “একদেশ দুই প্রধান মন্ত্রী, এক দেশ দুই পতাকা, এক দেশ দুই নিয়ম, এই মহা অঘটন আমাদের দেশেই হয়। আর সেটা বন্ধ করে দিলে “দেশের বুদ্ধিজিবীরা” অত্যন্ত অখুশী হন। এটি মহা মহা অঘটন।

৬) যারা, মাত্র কয়েক পুরুষ আগে হিন্দু ছিলো, তারা ধর্ম পরিবর্তন করে ‘পিতৃ পুরুষ’ এর ধর্মকে এবং তাদের অনুসারী দের গালাগাল , হিংসা, দ্বেষ এবং শেষ করে দেবার জন্য নিত্য পদ্ধতি বলে মনে করে।
৭) ভারতের বহু অংশ ( আফগানিস্তান, বাহ্লীক প্রদেশ – উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ইত্যাদি) জোর করে দখল করে শেষ মেশ ‘সনাতনী বৈদিক ধর্মের উৎপত্তিস্থল’ সিন্ধু- সরস্বতী সভ্যতার সুতিকাগার কে কব্জা করে নিয়ে তাদের আশ মেটে না। পুরো ভারত দখল করতে হবে তাই সন্ত্রাসীদের তৈরী করে পাঠায়।

৮) দ্বিতীয় যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে বেশ কিছু দেশ খন্ডীত হয়েছিলো। জার্মানী এক হয়ে গেছে, ভিয়েতনাম এক হয়ে গেছে। কিন্তু ভারত আর আগের ভারত হতে পারলো না। তার একমাত্র কারন, ভাষা ভাষী, পোশাক আষাক, খাবার এক হলেও ধর্ম, জীবন ধারন প্রনালী, জীবন দর্শন এক নয়। বৈদিক ভারত আর আরবীয় “জেহাদ” দুই বিপরীত মরুর বিশ্বাস। বৈদিক ভারত শান্তি, অহিংসা, সবাইকে নিয়ে চলার মতে বিশ্বাসী, আরবী “জেহাদ” এর মুল মন্ত্র, “তুই হয় আমার নয় শত্রু, তোকে কোতল করবো”—এর মাঝা মাঝি কিছু নেই।
******
কিন্তু, গোল টা বেধেছে কোথায়? বালুচিরা আজো ‘সনাতন দর্শনের পথিক’, স্বাধীনতা চায়, আরবীদের সঙ্গে থাকতে চায় না। একই দশা, রাজা জয়দ্রথ (দুর্য্যোধনের ভগ্নীপতি), রাজা দাহিরের সিন্ধুদেশ । উত্তর পশিম সীমান্ত প্রদেশ ( রাজা রামের ভাই, রাজা ভরতের দুই ছেলে- তক্সক এবং পুষ্কলের রাজ্য)  কোনো দিন পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে চায় নি। একমাত্র পশ্চিম পাঞ্জাব ( যা পাকিস্তানের শাসক শ্রেনীর মুল বাসস্তান) পাকিস্তান শাসন করছে। পুর্ব পাকিস্তান আগেই আলাদা হয়ে গেছে, কিন্তু ওই বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠরা স্বাভাবিক ভাবেই “হিন্দু বিদ্বেষী’ হয়ে আছে।

তো, এখন এই এক অস্বাভাবিক ভাবে তৈরী “পাকিস্তান” এর কি হবে। পাক= পবিত্র। এটা মোটেই পাক নয়, এবার সেটা ‘নাপাক’ হবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।

ভারতের বর্তমান “ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা” তার জীবনের ১২ টি বছর ওই বালুচিস্তানে রিক্সা চালিয়ে (গোয়েন্দা গিরি করে) যে কাজের সুচনা করে দিয়ে এসেছিলেন, সেই কাজ কি অধরা রয়ে যাবে?? মোটেই না।

একজন, বালুচিস্তানে জন্ম , নরওয়েতে লেখাপড়া করা মহিলা এবং পরবর্তিতে বালুচ স্বাধীনতা আন্দোলনের পরোক্ষ মাথা, তিনি বেশ কয়েকবার ভারতে এসেছেন এবং আমাদের দেশের অতি উচ্চ পর্য্যায়ের ‘গোয়েন্দা দের’ সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো। সোসাল মিডিয়া সুত্রে আমার সঙ্গেও বহু মত বিনিময় হয়েছিলো। ফোনেও কথা হয়েছিলো। অনেক খবর তার কাছ থেকে পেয়েও ছিলাম। আমার লেখা “জেহাদ ও উদবাস্তু ছেলে” বই টি (তার স্বামী বাঙ্গালী ছিলেন) তিনি ইংরেজীতে প্রকাশ ও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তাকে ,তার স্বামীকে পাকিস্তানী গুপ্তচর ইরানে মেরে দিয়েছে (তিনি তার গোয়েন্দা কর্ম সুত্রে ইরানে বাস করতেন)।

আজ তার লেখনী বন্ধ, তিনি নেই। কিন্তু তার কাজ চলছে।

পাকিস্তান আজ প্রায় ভিখারী দেশে পরিনত হয়েছে। ভারত তার “প্রথম পরমানু অস্ত্র না প্রয়োগ নীতি থেকে সরে আসছে, কাশ্মীরে আর সন্ত্রাসী কাজ চালানো যাবে না। সারা পৃথিবীতে “নাপাকস্তান” আজ ব্রাত্য।

আমি আমার চিন্তা ভাবনা দিয়ে দেখতে পাচ্ছি, পাকিস্তান চার টূকরো হচ্ছে। একটি “না- পাকস্তান” ভেঙ্গে যাচ্ছে। বালুচিস্তান, সিন্ধ, উত্তরপশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ স্বাধীন হবে। পড়ে থাকবে “পশ্চিম পাঞ্জাব নিয়ে একটি “নাপাকস্তান”।

কবে?????? খুব বেশীদিন দেরী নেই। আমি