“বৈদিক আফগানিস্তান এবং ইসলামের ভারতবর্ষ দখল “
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

*****(হিন্দুরাজাদের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম- জেহাদ এবং ভারতীয় সমাজ” আমার লেখা বই এর কিছু অংশ)– শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।
                              *********************

বৈদিক যুগে বর্তমান  আফগানিস্তান মুলত তিনিটি অঞ্চলে বিভক্ত ছিলো।

উত্তর পশ্চিমে (বর্তমান হিরাট প্রদেশ) পৌরানিক ‘কেকয় দেশ’, উত্তর পুর্বে কম্বোজ জাতির শাসিত ছোট বড়ো জনপদ, যাদের রাজধানী বর্তমান ‘নুরীস্তান’ (কাফিরিস্তান), দক্ষিনে কাবুল উপত্যকায় গান্ধার রাজ্য, যার রাজধানী তক্ষশীলা।

এই তিন অঞ্চল, সেই রামায়ন মহাভারতের যুগ থেকে রাজনৈতিক এবং সাংষ্কৃতিক দিক দিয়ে মুল ভারত বর্ষের সংগেই যুক্ত ছিলো। কেকয় রাজ্য থেকে রাজা দশরথের এক স্ত্রী কৈকেয়ী এসেছিলেন। তার পুত্র রাজা ভরতের বড়ো ছেলে তক্ষকের নামে তক্ষশীলা। ছোট ছেলে পুষ্কলের নামে ‘পুষ্কলাবতী’ (মধ্য এশিয়ার উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল), যা আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমনে সক্রিয় ভাবে বাধা দিয়েছিলো। মহাভারতেও আমরা দেখতে পাই, কুন্তীর পাচ বোনের বিয়ে হয়েছিলো ওই কেকয় দেশে। তাদের পুত্ররা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেছিলো।

ইসলামের জয়ধ্বজা সাসানিদ সাম্রাজ্য দখল করে আক্রমন করে বর্তমান আফগানিস্তান। কিন্তু ওখানকার হিন্দু/বৌদ্ধিক শাসকেরা প্রবল বিরোধিতা করায়, বিশেষ করে ‘কম্বোজ জাতির’ অনমনীয় বীরত্ব পুর্ন সংগ্রামে না পেরে উঠে চলে যায় বর্তমান তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান ইত্যাদি মধ্য এশিয়ার অঞ্চলে। সেখানকার প্রাক্তন হিন্দুরা (শক জাতির বংশধর) এবং অন্যান্য উপজাতিরা বাধা দিলেও ইসলামের ঘোড় সওয়ারদের হিংস্রতার কাছে এটে উঠতে পারেনি। বিজিত তুর্কি (তুর্কমেনিস্তান) হিন্দু এবং অন্যান্য উপজাতিদের দাস বানানো হলো। পরবর্তিতে এই দাসেরা দখল নিলো সারা আফগানিস্তানের। সেই দাসেরাই পরে দিল্লীতে সুলতানী দাস বংশের রাজত্ব চালু করে। সেই দাসের নাম কুতুবুদ্দিন আইবেক। তার গায়ে কিছুটা হলেও বৈদিক হিন্দু রক্ত ছিলো ।

ইসলামের আফগানিস্তান বিজয়কে তাই ভারতবর্ষে ইসলামী শাসনের থেকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। কারন, একমাত্র মুহাম্মদ বিন কাসিম ছাড়া অন্য কোনো খাটি আরবী ভারতবর্ষে ইসলামী শাসন কায়েম করতে আসেনি। এসেছে, ইসলামের দাসেরা, যাদের মধ্যে আছে সুবুক্তিগীন, তার ছেলে গজনীর মাহমুদ, মুহাম্মদ ঘোরী, আবদালী, করনানি, খলজী, দুরানী, মোঘল বাবুর ইত্যাদি। সবাই এসেছে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার গজনী, ঘুর , সমরখন্দ, ফারগানা, বুখারা থেকে। লুট করে নিয়েছে ভারতের সম্পদ, সেই ভারতীয় সম্পদে বলীয়ান হয়ে সেই রাজ্য গুলি ফুলে ফেপে উঠেছে, নির্মিত হয়েছে অসংখ্য সৌধ, চোখ ধাঁধানো মসজিদ, রাস্তা ঘাট, ফল ফুলের বাগান শোভিত নান্দনিক সব জায়গা।

আরবী ইসলামের কাছে বৈদিক আফগানিস্তানের পরাজয়, ইসলামের ভারতে প্রবেশের পথ সুগম করে দেয়। না হলে, খাইবার গিরিপথ পার হয়ে ভারত বর্ষ বিজয় তাদের অধরাই থেকে যেতো। ঠিক একই ভাবে শকেরা ভারতে এসেছিলো, হুনেরা এসেছিলো, মোগলেরা এসেছিলো।

অন্য জাতিরা ভারতীয় জন জীবনে মিশে  গেছে এবং ভারতীয় বৈদিক ধর্ম এবং সংষ্কৃতি গ্রহন করেছে। করেনি শুধু মধ্য এশিয়া থেকে আগত জাতি গুলি যারা তাদের ধর্ম পরিবর্তন করেছিলো। সেই গজনীর শাসক, ঘুরের শাসক ঘোরী, , খলজী, দুরানী, আবদালী, মোগল বাবুর ভারতবর্ষের প্রত্যন্ত এলাকায় জ্বালিয়েছে ধংসের আগুন।

সেই আগুনে জ্বলে পুড়ে খাঁক হয়ে গেছে হাজার হাজার বছরের জ্ঞান তপস্বীদের জ্ঞান সমৃদ্ধ বৈদিক সভ্যতা। যা পড়ে আছে সেটা এক নিদারুন ভাবে কলুষিত, বিকৃত সভ্যতা। এই বিকৃতির জন্য দ্বায়ী ওই বৈদেশিক বর্বরতা।