তখনো ‘মুসলিম বিশ্ব’ কান্নাকাটি করে একটা বড় শোরগোল তুলে সহানুভূতি টানতে পেরেছিলো। ভারত চক্রান্ত করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ফাটল ধরাতে পাকিস্তানের পূর্ব অংশ ভাঙ্গতে বিচ্ছিন্নবাদীদের মদদ দিচ্ছে। জেরুজালেম ইজরাইলের রাজধানী করাতে সেরকমই একটা কান্নাকাটি শুরু করেছে। প্রকৃতপক্ষে ফিলিস্তিনী মুসলমানদের উচিত ইজরাইল রাষ্ট্রে যোগ দেয়া। মুসলমান-ইহুদী, আরব-অনারব মিলে এক বৃহৎ ইজরাইল রাষ্ট্র গঠন করা। ফিলিস্তিন এখন হামাসের মত জিহাদী যারা খিলাফতের মত মধ্যযুগীয় রাষ্ট্র চিন্তাধারায় বিশ্বাসী তাদের কব্জায়। অপরদিকে ইজরাইল সাংবিধানিকভাবে ‘ইহুদী রাষ্ট্র’ হলেও সেখানে সকল ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সহ সবাই সম নাগরিক অধিকার ভোগ করে। সৌদি আরব যেখানে অমুসলমানদের কোন নাগরিত্বই রাখেনি সেখানে কথিত এই ‘ইহুদী রাষ্ট্রে’  পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে আরব মুসলমানদের দেখা গেছে। এমনকি মুসলমান মন্ত্রী এবং সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসেবে একজন মুসলমানকে সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরকম বিষয় আরব মুসলিম বিশ্বে কল্পনা করাও কঠিন…।

সৌদি আরবসহ মধ্যপাচ্যের আরো কিছু রাষ্ট্র যেখানে ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের উপসনালয় এবং উপসনা করা নিষিদ্ধ সেখানে ইজরাইল তাদের পার্লামেন্টে মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ পর্যন্ত রেখেছে! ইজরাইলে ১৬ শতাংশ মুসলমান বসবাস করে! ২ শতাংশ খ্রিস্টান এবং ৪ শতাংশ অন্যান্য ধর্মের অনুসারী ইজরাইলে সমান নাগরিকত্ব ভোগ করছে। তাই ঠিক এই মুহূর্তে ফিলিস্তিনীতে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে সে হামাসের চা্ওয়া কোন খিলাফত নয়, ইজরাইলের মত গণতান্ত্রিক পরিবেশে জন্মগ্রহণের অধিকার রাখে। একদিন ইসলামী সাম্রাজ্য এখানে সৃষ্টি হয়েছিলো বলেই এখান থেকে শেষ ইহুদীটি বিতাড়িত হয়েছিলো। কিন্তু একটি ইজরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই (আক্ষরিক অর্থে বর্তমান ইজরাইল রাষ্ট্র নয়) এখানে সর্বধর্মীয় সর্বজাতি সহাবস্থান নিশ্চিত করবে…।