“ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং টি এম সি, সিপিএম, কংগ্রেস”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ
গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে চলছে এক চরম নৈরাজ্য। কারন “নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন”।
এর বিরুদ্ধে, এমনকি এই সংশোধনী পাশ হয়ে আইন হওয়ার আগে থেকেই প্রতিবআদে রাস্তায় নেমে পড়েছে তিনিটি দল—- টি এম সি (কংগ্রেস থেকে উদ্ভুত), কংগ্রেস ( এখন আর এটি জাতীয় কংগ্রেস নেই, পারিবারিক কংগ্রেস নাম দেওয়া উচিত) এবং সিপিএম, সেই সংগে কিছু বিকৃত মস্তিষ্ক বামপন্থী সংগঠন। এদের কাছে আমার এক এক করে প্রশ্ন—– 

১) টি এম সি—- প্রতিবাদ টা ঠিক কিসের বিরুদ্ধে বা কার বিরুদ্ধে? আপনারা ক্ষমতায় আছেন, রাজ্য শাসন করছেন। কেন্দ্রীয় আইন সভায় একটি আইন পাশ হলে তা প্র্যয়োগ করতে আপনাদের দল, নেতারা বাধ্য। এর থেকে পরিত্রান পাবেন না। আর এতে ,মানে এই আইনে অসুবিধা কোথায়?
বলুন তো, এই আইনে কোথায় বলা আছে যে ভারতের প্রকৃত নাগরিকদের, সে যে ধর্মের ই হোক না কেন দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে? কোথাও নেই। 
বরং বলা আছে, দেশভাগ হবার ফলে পাকিস্তানে (অবিভক্ত) যে সব মানুষ সংখ্যা লঘু হয়ে পড়েছেন, তারা “উদ্বাস্তু” হয়ে ভারতে এসেছেন নিজেদের জীবন মান সম্ভ্রম বাচাতে। তাদের মধ্যে অনেকেরই নাগরিকত্ব নেই। নাগরিকত্ব বিহীন হয়ে এক দেশ থাকা কি বিষম যন্ত্রনা তা দেখে আসুন ইউরোপের “রোমা” জিপসী দের—সংখ্যায় তারা ১২ মিলিয়ন।
এই দেশভাগের বলি “উদ্বাস্তুদের” নাগরিকত্ব দেওয়া ছাড়া কারো নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা কোথাও লেখা নেই। আপনারা তো লেখা পড়া জানেন, না সব ভুলে গেছেন? একবার ভালো করে পড়ে দেখুন।
ও হ্যাঁ, আপনাদের নেত্রী ২০০৫ সালে লোকসভায় কি করেছিলেন? এই উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেবার জন্য এবং যারা অন্য উদ্দেশ্যে “অনুপ্রবেশ” করেছে , যার সংখ্যা প্রায় দু কোটী, তাদের দেশ থেকে তাড়াতে বলেছিলেন। রেগে মেগে লোকসভার “অধ্যক্ষ” র দিকে হাতের কাগজ ছুড়ে দিয়েছিলেন যা কোণো দ্বায়িত্ব শীল বা ভব্য ব্যাবহারের মধ্যে পড়ে না। বোধ হয় তিনি তখন বুঝতে পারেন নি যে, একদিন তিনিই পশ্চিমবঙ্গের শাসক হবেন এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগীতার বদলে বিরোধীতা করতে হবে। তিনি জানেন, এই “অনুপ্রবেশকারী” হলো বাংলাদেশ আগত ‘সংখ্যাগুরু শ্রেনী’, আর তারাই পশ্চিম বংগে ভোট দেয়, ভোট করায়, মারপিট , ছাপ্পা ভোট ইত্যদি করে। তাই এদের এখন টি এম সি র খুব প্রয়োজন।
২) সিপি এম এবং অন্যান্য বামপন্থী দল,- আপনাদের নিয়ে যতো কম বলা যায় ততোই ভালো। আপনারা চান ভারতকে “টুকরো “ করতে- ১৭ টুকরো এবং সেখানে বসে মদ,মাংস, বেলেল্লাপনার রাজত্ব করতে। আপনাদের মতাবলম্বী বেশ কিছু দেশে গিয়ে দেখে এসেছি ‘আপনারা কি বস্তু’। যদি চান একদিন আমার সামনাসামনি বসুন (আপনাদের বিকৃত মস্তিষ্ক গাজাখোর চেলেমেয়ে গুলোকে নিয়ে আসবেন না , আমার সংগেও কেউ যাবে না, ড্রাইভার ও না, আমি নিজেই গাড়ি চালিয়ে যাবো), আসুন আপনাদের মত এবং পথ নিয়ে বাকযুদ্ধ হোক। 

আপনারা ৩৪ বছর এই রাজ্য শাসন করেছেন। আপনাদের ই এক মন্ত্রী ,যিনি খিদির পুরে থাকতেন তার উপর দ্বায়িত্ব দেওয়া ছিলো “পুর্ব পাকিস্তান, অধুনা বাংলাদেশ আগত মুসলিমদের এদেশে থাকার ব্যাবস্থা করা। আপনাদের নেতা বলেছিলেন “এরা ইকোনমিক মাইগ্রেন্ট”। তা মাইগ্রেশানের কতকগুলো মিয়ম কানুন থাকে তা কি করা হয়েছিলো না শুধু ভোটার কার্ড করা হয়েছিলো। আমি সেই সব জানি এবং মনে আছে কারন তখন আমি সদ্য যুবক মেডিকেল কলেজে পড়ি।
পশ্চিমবঙ্গে আপনাদের পায়ের তলায় আর মাটি নেই। গর্ত আপনারা নিজেরাই খুড়েছেন, বাকি শুধু সেই গর্তে আপনারা ঢুকে গেলে ওপর থেকে মাটী দেওয়া। 

৩) কংগ্রেস—নামটা শুনলেই হাসি পায়। আজ যে সমস্যাটা তৈরী হয়েছে, কয়েক কোটী মানুষ উদ্বাস্তু, কয়েক কোটী ‘অনুপ্রবেশকারী= ঘুসপেটি’ এগুলো তো আপনাদের ই সৃষ্টি। সারা পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও দেখতে পাবেন না, বিনা কারনে, শুধুমাত্র একটি লোকের প্রধানমন্ত্রী হবার বাসনা, একটি লোকের সুপ্ত ইংরেজপ্রীতির জন্য একটি সুপ্রাচীন দেশ কে তিন টুকরো করা হয়েছিলো।
‘কংগ্রেস’ কোনো রাজনৈতিক দল ই নয়। এর সুচনা করেছিলেন এক ইংরেজ অফিসার , নাম এলান অক্টভিয়ান হিউম।
After retiring from the civil services and towards the end of Lord Lytton’s rule, Hume observed that the people of India had a sense of hopelessness and wanted to do something, noting “a sudden violent outbreak of sporadic crime, murders of obnoxious persons, robbery of bankers and looting of bazaars, acts really of lawlessness which by a due coalescence of forces might any day develop into a National Revolt.”
The Indian National Congress conducted its first session in Bombay from 28–31 December 1885 at the initiative of retired Civil Service officer Allan Octavian Hume. In 1883, Hume had outlined his idea for a body representing Indian interests in an open letter to graduates of the University of Calcutta Its aim was to obtain a greater share in government for educated Indians, and to create a platform for civic and political dialogue between them and the British Raj.
Hume organised the first meeting in Bombay with the approval of the Viceroy Lord Dufferin. 
Notable representatives included Scottish ICS officer William Wedderburn, Dadabhai Naoroji, Pherozeshah Mehta of the Bombay Presidency Association, Ganesh Vasudeo Joshi of the Poona Sarvajanik Sabha, social reformer and newspaper editor Gopal Ganesh Agarkar, Justice K. T. Telang, N. G. Chandavarkar, Dinshaw Wacha, Behramji Malabari, journalist and activist Gooty Kesava Pillai, and P. Rangaiah Naidu of the Madras Mahajana Sabha This small elite group, unrepresentative of the Indian masses  functioned more as a stage for elite Indian ambitions than a political party for the first decade of its existence.

এই লাইনগুলো পড়ে দেখবেন, কেনো “কংগ্রেস” নামক প্লাটফর্মটা বানানো হয়েছিলো। আমার মতে, ১৮৫৭ সালের “সিপাহী বিদ্রোহ” এর আতঙ্ক ইংরেজদের মাথা থেকে তখনো যায় নি। তাছাড়া, “জাতীরতাবাদী স্বদেশী আন্দোলন” যা মুলত মধ্যবিত্ত হিন্দু সমাজ থেকে শুরু হচ্ছিলো, সেই স্বদেশী কাজ কর্ম যাতে ইংরেজদের কোনো অসুবিধা না করতে পারে সেই জন্য তৈরী হয়েছিলো।
হিউম অতি ধুর্ততার সংগে সেই আমলের ‘এলিট শ্রেনী’(= বর্তমানের বুদ্ধিজিবী শ্রেনী ) কে নিয়ে এলেন “ইংরেজদের স্বার্থ রক্ষার জন্য’ তৈরী কংগ্রেসে। স্যার উমেশ চন্দ্র ব্যানার্জী হন তার প্রথম সভাপতি, কিন্তু হিউম রয়ে যান তার জেনারেল সেক্রেটারী হিসাবে। সুরেন্দ্র নাথ ব্যানার্জী ভারতসভা হলে তার ব্রিটিশ বিরোধী আলোচনা বন্ধ করে ঢুকে গেলেন কংগ্রেসে। জাল তৈরী, শুধু মাছ ধরা বাকি। একে একে প্রায় সব বুদ্ধিজিবী এই ‘এলিট ক্লাবে’ ঢূকে গেলেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গ ভঙ্গ  আন্দোলনে বাঙ্গালী মধ্য বিত্ত শ্রেনী জ্বলে উঠলো। 
১৯০৬ সালে সেই আগুনে লর্ড কার্জন বঙ্গ ভঙ্গ রোধ করলেন ঠিকই, কিন্তু তারপর পরই নিয়ে আসা হলো করম চাঁদ গান্ধী নামক এক “অহিংস আন্দোলন কারীকে। চিত্ত রঞ্জন দাশ সরে গেলেন কংগ্রেস থেকে। মতিলান নেহেরুর ছেলে, যে ‘I am a British by education, Muslim by Culture and a Hindu by the accident of birth” বলে আত্মগর্ব করতো, তাকে সামনে রেখে ‘ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম’ শুরু হলো। ফলশ্রুতি “আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে ভারত ভাগ হবে’ বলা লোকটিই দেশ ভাগের সনদে প্রথম সাক্ষর করলো। 

এই তো কংগ্রেস দল? একটি গনতান্ত্রিক দেশে মাত্র একটি পরিবার মৌরুষী পাত্তা নিয়ে শাসন করলো দীর্ঘদিন ধরে। ১৯৭১ সালে, এই কংগ্রেস ই “ইন্দিরা মুজিব চুক্তি’ করে বাংলাদেশের হিন্দুদের দুর্দশার সৃষ্টি করেছে। এরাই এই বর্তমান “উদ্বাস্তু’ সমস্যা তৈরী করেছে এবং অনুপ্রবেশকারী ‘দের এদেশ ৫৫ বছর ধরে ঠাই দিয়েছে।তার সঙ্গে উপযুক্ত সঙ্গত দিয়েছে ‘জ্যোতি বসু’ , আর বর্তমান টি এম সি নামে এক কা কা চি চি করা দল।

এই সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছেন গালাগাল আর সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে এই কংগ্রেস, সি পি এম আর টি এম সি।
নীচের ছবি দুটি দেখে কি মনে হয় এরা ভারতের সাধারন মানুষের মনের ভাষা বোঝেন???
*****(গতকাল সন্ধ্যায় হাবড়াতে একটি পথ সভায় এদের খুব করে দিয়েছি।)****