আকবর দ্যা গ্রেট (প্রকৃত ইতিহাস) : [দশম পর্ব]
(শেয়ার অবশ্যই করবেন)
আকবর এবং ইসলামঃ
পূর্বের পর…
…ইহা ছিল স্পষ্টতই এক কুফরী ধর্ম অথচ এই নতুন ধর্মের নাম দেওয়া হলো ”দ্বীন-ই-ইলাহী”।…ইসলামী পুস্তকে কথিত আছে আলফেছানি শায়েখ আহমদ ফারুক সেরহিন্দ-ই আকবরকে আশীর্বাদ করার অছিলায় লাঠি দিয়ে মাথায় সাত বার স্পর্শ করে এবং আকবর অসুস্থ হয়ে মারা যায়।
…[গ্রন্হ সহায়তা-হযরত মোজাদ্দেদ আলফেছানী(রঃ) এর চিঠি পত্রের সংকলন গ্রন্হ “মকতুবাদ শরীফ (১ম খন্ড)” এবং মোঃ মামুনুর রশীদ রচিত “নূরে সেরহিন্দ” গ্রন্হ। প্রকাশক-সেরহিন্দ প্রকাশনী, উয়ারি, ঢাকা।]
…দীন-ই-ইলাহির মূলমন্ত্র ছিল ”লা ইলাহা ইল্লালাহু আকবারু খলিলুল্লাহ”।…যারা আকবরের নুতন ধর্মে দাখিল হত তাদেরকে এরূপ শপথ বাক্য উচ্চারন করতে হতো- ”আমি অমুকের পুত্র অমুক এতদিন বাপ দাদাদের অনুকরনে ইসলাম/হিন্দু ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলাম, এখন সেচ্ছায় ও সজ্ঞানে পূর্ব ধর্ম পরিত্যাগ করে ‘দীন-ই-ইলাহি’ গ্রহন করছি এবং এই ধর্মের জন্য জীবন,সম্পদ ও সম্মান বিসর্জন দিতে প্রস্তুত আছি।”
…দীন-ই-ইলাহির লোকেরা চিঠিপত্রের শিরোনামে ‘আল্লাহ-ও-আকবর’ লিখত এবং পরস্পরের সাক্ষাতের সময় সালামের পরিবর্তে একজন বলত ‘আল্লাহ-ও-আকবর” এবং অপরজন এর জবাবে বলত ‘জাল্লাজালালুহু’।
…বাদশাহ আকবর তাদেরকে শিজরা স্বরূপ তার নিজের একখানি প্রতিকৃতি প্রদান করতেন।…তারা বাদশাহর এই প্রতিকৃতি পরম শ্রদ্ধাভরে নিজ নিজ
পাগড়ীতে বসিয়ে রাখত।
…এই নুতন ধর্মে সুদখোরি ও জুয়া ছিল হালাল।…খাস দরবারে জুয়া খেলার জন্য একটি ঘর নির্মান করা হয় এবং জুয়াড়ীদেরকে রাজকোষ থেকে সুদি কর্জ দেয়া হত।…মদ্যপান করাও এই ধর্মে হালাল সাব্যস্ত করা হয়।…বাদশাহ স্বয়ং দরবারের নিকট একটি শরাবখানা খুলে দেন।…নওরোজ অনুষ্ঠানে অধিকাংশ আলেম,কাজী ও মুফতিগনকে শরাব পান করতে বাধ্য করা হত।…এই সব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন লোকের নামে পেয়ালা নির্বাচিত হত।
…সহবাসের পর স্নান করা ইসলামে ফরজ, কিন্তু সহবাসের আগে নয়।…কিন্তু এই ধর্মে হিন্দুদের ম’ত সহবাসের আগে ও পরে গোসল করা হালাল করা হয়।…এই ধর্মে পতিতাবৃত্তি ছিল হালাল।…তাই পতিতাদের বসতি স্হাপন করে ব্যাভিচারকে আইন সঙ্গত করা হয়।…পতিতালয় গুলির নাম দেয়া হয় ‘শয়তানপুর’।…এই সব স্হানে সৈন্য প্রহরারও ব্যবস্হা করা হয়।
…এই ধর্মের মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এই বিধান জারি করা হয় যে, মৃত্যু হলে তার গলায় কাচা গম ও পাকা ইট বেধে তাকে জলে নিক্ষেপ করতে হবে এবং যেখানে জল পাওয়া যাবে না সেখানে মৃতদেহ জ্বালিয়ে দিতে হবে অথবা পূর্ব দিকে মাথা ও পশ্চিম দিকে পা করে দাফন করতে হবে।
…আকবর তার নিজের বিশ্বাস ‘দীন-ই-ইলাহি’ চালু করেছিলেন যা মূলত নিজেকে মহা পুরুষ রূপে এবং নির্বোধ মতাদর্শ প্রচার করার জন্য।…অবাক হবার কিছুই নেই বীরবল সহ তার তোষামোদ কারীরা তা সানন্দেই গ্রহণ করেছিল।…কিন্তু এই গণ্ডমূর্খের মতাদর্শ তার মৃত্যুর পর পরই হারিয়ে যায়।
…কেন সকলে আকবরের প্রশংসা করেছেন তার কারনটা কারো অজানা নয়।…যেহেতু সে নিজের আত্মঘোরে হিন্দুত্ববাদ ও ইসলামকে নিয়ে মজা করেছে সেহেতু বাইবেলপন্থী এবং সেকুলাররা আকবর ছাড়া আর এমন কাউকে পায়নি যাকে সম্মানের এমন উচ্চ শিখরে বসাবে।…মূলত আকবর ছিলেন সচতুর মুসলিম শাসকদের মধ্যে একজন যিনি হিন্দু, মুসলিম এবং এমনকি খ্রিস্টানদের নিয়েও খেলতে পারতেন এবং নিজেকে পরম পুরুষ বলে দাবী করতে পারতেন।…আপনারা ভিনসেন্ট স্মিথের বইয়ে আরও বৃত্তান্ত পাবেন।

(চলবে)

( – Writankar Das – )