আকবর দ্যা গ্রেট (প্রকৃত ইতিহাস) : [একাদশ পর্ব]
(শেয়ার অবশ্যই করবেন)
আকবর এবং ইসলামঃ
পূর্বের পর…
…আকবর ছিল কথা বার্তায় বেশ পটু।…ভিনসেন্ট স্মিথ আকবরের প্রশংসা করে বলেছে, তার ভাষা অলংকার সমৃদ্ধ হলেও তিনি তার জীবনে যে স্তরের বর্বরতা নিদর্শন রেখেছেন তা ছিল চরম বিপরীত।…স্বঘোষিত নবীর যর্থাত লক্ষণই বটে!…এমনকি আকবর গুজব ছড়িয়ে ছিলেন যে আল্লাহ্‌ তাকে ঐ জলের মধ্যে রোগ উপশম করার ক্ষমতা প্রদান করেছেন।…যে জল তার পা ধোয়ার কাজে ব্যবহার করার হতো।
…এখানে ‘সহি বুখারী’ ও ‘সহি মুসলিম হাদিয়া’র কয়েকটি লাইনের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে নবী মুহাম্মদও একই দাবী করেছেন।…এভাবেই সে লোকদের তার পা ধোয়ার জল পাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন এবং সে জল গ্রহণের জন্য লম্বা লাইনও হয়ে যেত।
…সে যেভাবেই হোক আকবর ইসলামকে ঠিক রাখার জন্য শুধু মাত্র নির্বোধ হিন্দুরের জন্যই এই ব্যবস্থা করেছিলেন কোন মুসলিমদের জন্য নয়।…বীরবল সহ তার সভাসদগণ তাকে খুশী রাখার জন্য বাধ্য হয়ে সেই জল পর্যন্ত খেতেন।…অশিক্ষিত হিন্দু মায়েরা তাদের বাচ্চাদের তার পায়ের নীচে রাখতেন এবং আকবর নিজেকে ফকিরের মত ভান করে তাদের গলায় পা দিয়ে তাদের দোয়া দিতেন।…মূলত এই রঙ্গভঙ্গগুলো ছিল তার সৃষ্ট নতুন ধর্মের বুজরুকি।
মহান আকবর ও জিজিয়া ব্যাবস্থাঃ
…ইসলামিক শরীয়া আইন অনুযায়ী কোরানের ৯:২৯ আয়াতে অমুসলিমদের জন্য কর হিসেবে জিজিয়া করকে বৈধ করেছেন আল্লাহ ওরফে নবী মোহাম্মদ স্বয়ং।…অমুসলিমদের জিজিয়া প্রদান করতে হয় মুসলিমদের হাত থেকে লুট, ধর্ষন এবং হত্যার হাত থেকে বাঁচার জন্য।…জিজিয়া একইসাথে আর্থিক ও সম্মানহানিকর।…বিধর্মীদের দু’দিক দিয়েই কোনঠাসা করে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার জন্যই জিজিয়া করের অবতারণা।
…ঠিক যেমন করে শোলে সিনেমার গব্বর সিং রামগড় থেকে অর্থ ও খাদ্য সংগ্রহ করত।…বলা হয়ে থাকে এই ব্যাবস্থা আকবর রদ করেছিল কিন্তু তার একটিও কোন দালিলিক প্রমাণ নেই।…বিশেষ কারনে এই ব্যবস্থা উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল রণথম্ভোর চুক্তির অন্যতম অংশ হিসেবে যেখানে বলা হয়েছিল, জিজিয়া কর দেবার বদলে তারা নিজেদের রাজপুত মা, বোন, মেয়েদের রাজ হারেমে (বেশ্যালয়) প্রদান করবে।
…বিখ্যাত ইসলামী বিশ্লেষক আল-জামাকশারী জিজিয়া কর প্রদানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
…”তাদের (অমুসলিমদের) নিকট থেকে জিজিয়া নেয়া হবে অবমাননা ও মর্যাদাহানিকরভাবে। জিম্মিকে সশরীরে হেঁটে আসতে হবে, ঘোড়ায় চড়ে নয়।…যখন সে জিজিয়া প্রদান করবে, তখন কর-আদায়কারী বসে থাকবে আর সে থাকবে দাঁড়িয়ে।…আদায়কারী তার ঘাড় ধরে ঝাঁকি দিয়ে বলবে, ‘জিজিয়া পরিশোধ কর।’…এবং জিজিয়া পরিশোধের পর আদায়কারী ঘাড়ের পিছনে একটা চাটি মেরে তাকে তাড়িয়ে দেবে।
…ভারতে ইসলামের শুরু থেকেই ভারতের ইসলামী পণ্ডিতরাও একই পন্থা অবলম্বন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
…হযরত মোজাদ্দেদ আলফেছানী(রঃ) সিরহিন্দী সম্রাট আকবরকে তার পাঠানো চিঠিতে লেখেন- “ইসলামের সম্মান ‘কুফরী’ (অবিশ্বাস) ও ‘কাফির’ (অবিশ্বাসী) কে অপমান করার মধ্যে নিহিত।…যে কাফিরকে সম্মান দেয় সে মুসলিমকে অমর্যাদা করে।…তাদের উপর জিজিয়া আরোপের উদ্দেশ্য হলো, এমন করে তাদেরকে অবমানিত করা যাতে তারা ভাল পোশাক পরতে বা জাঁকজমকের সাথে বাস না করতে পারে।…তারা ভীতসন্ত্রস্ত ও কম্পমান থাকে।’
(চলবে)

( – Writankar Das – )