আয়াতুল্লাহ খোমেনির ডানহাত ছিলেন যিনি মোনতায়েবী যার খোমেইনির স্থলাভিসিক্ত হওয়ার কথা ছিলো, যিনি খোমনির বিরাগভাজন হোন এবং বিতাড়িত হোন তিনি তার স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন, খোমনির নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী যারা পাশ্চত্য দর্শন পাঠ করে একটা ধর্মবিহিন বস্তুবাদী চিন্তা ধারণ করত, কলেজের দর্শনের অধ্যাপক, বামপন্থি ছাত্রনেতা এরকম ৩ হাজার জনকে হত্যা করা হয়েছিলো। মোনতায়েবী এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলে খোমেনি তাকে জবাব দিয়েছিলো, এই কাজের জন্য সে নিজে আল্লার সঙ্গে কথা বলে নিবে আর তার এই সিদ্ধান্তে যেন মোনতায়েবী নাক না গলায়…।

বামপন্থি মিশেল ফুকো এই খোমেনিকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইরান ছুটে গিয়েছিলেন। কারণ খোমেনি মার্কিন সমর্থিত তখনকার ইরানী সেক্যুলার সরকারকে উচ্ছেদ করে মোল্লাতন্ত্র স্থাপন করেছে এটাই বড় কথা। সাম্রাজ্যবাদের পতন ঘটেছে ইরানে সেটা কোন চোর জোচ্চরের হাতে হয়েছে সেটা নিয়ে বামপন্থিরা চিন্তিত না। তালেবানরা মার্কিনদের বিরোধী কাজেই তা্লেবানদের এখন সমর্থন করতে হবে। আসাদউদ্দিন ওয়াসিস বিজেপি বিরোধী তাই তাকে নিজেদের লোক ভাবতে হবে। ইরানে ইসলামি ফ্যাসিস্ট সরকার জিউয়ে থাকুক কারণ তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী!

হিটলারও কিন্তু বিপ্লবী ছিলো। জার্মানিতে হিটলার সমাজতন্ত্রের জন্য জনগণকে আন্দোলিত করে তুলেছিলো। কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে হিটলার সমাজতন্ত্রী ছিলো না? সেই হিটলার তার বইতে ইহুদী হত্যা সম্পর্কে সাফাই গেয়ে লিখেছিলো, ইহুদীদের দমন করে আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করেছি। এটা হচ্ছে ঈশ্বরের হয়ে আমার যুদ্ধ…। হিটলার তো সাম্রাজ্যবাদী তখনকার ব্রিটিশদের বিরুদ্ধেও ছিলো। তাহলে হিটলারকে সমর্থন দান সকলের উচিত ছিলো? মনে করেন ভারতে একটা মার্কিন সমর্থিত সেক্যুলার সরকারকে উচ্ছেদ করে নরেন্দ মোদি তার হিন্দুত্ববাদী বিপ্লব দিয়ে ভারত দখল করে সমস্ত বিরুদ্ধ মত ও পথকে দমন করে মার্কিন বিরোধীতা জারি রেখে দেশ চালাতে লাগল, আপনি কি মোদীর সেই সরকারকে মেনে নিবেন? তাহলে খোমিনির মোল্লাতন্ত্রকে বিপ্লব বলছেন কেন? সেটাকে ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা, সুলাইমানীর মত জঙ্গিকে চে গুয়েভারার সঙ্গে তুলনা সবটাই মুসলিম ব্রাদারহুড থেকে অনুপ্রাণিত। নিজেকে বামপন্থি, সেক্যুলার, প্রগতিশীল দাবী করেও আরব মিডিলইস্ট দেশগুলোর প্রতি মুমলিম ব্রাদারহুড অনুভব করা ছাড়া এখানে অন্য কোন ব্যাখ্যা খাটে না…