হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহ ও রাত্রিকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি? কেমন সমাজ, হিন্দু সমাজ ? যে সমাজে জীবন্ত মানুষদের পুড়িয়ে মারা হতো ? মুসলমানদের এই প্রশ্নের মুখে পড়েন নি, এমন শিক্ষিত হিন্দু, হিন্দুসমাজে খু্ব কমই আছে।

সত্যিই তো, সতীদাহ একটি নৃশংস প্রথা। তাই মুসলমানদের এই প্রশ্নের জবাবে হিন্দুদের মাথা নত করে থাকা ছাড়া, অন্য কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু, সত্যিই কি সতীদাহ হিন্দু সমাজের প্রথা ? রামায়ণ, মহাভারতে কি সতীদাহের কোনো উল্লেখ আছে বা এই ধরণের কোনো ঘটনা আছে ?

ধর্মীয় বিষয় নিয়ে চুলকানো মুসলমানদের স্বভাব| এই চুলকাতে গিয়ে মুসলমানরা নানা প্রশ্ন করে আপনাকে ক্ষতবিক্ষত করবে, আপনি যদি ঠিকঠাক জবাব দিতে না পারেন, মুসলমানদের কাছে আপনি হেয় হবেন এবং এই সুযোগে বস্তাপচা ইসলামকে তারা শ্রেষ্ঠধর্ম হিসেবে তুলে ধরবে।

কুশিক্ষিত মুসলমানদের অনেকগুলো প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্ন হলো সতীদাহ প্রথা সংক্রান্ত। তাই মুসলমানদের প্রশ্নবান থেকে আপনাদের রক্ষা করার জন্য, এই পোস্টে দিলাম, সতীদাহ প্রথার আদ্যোপ্রান্ত; এর সাথে আরো জানতে পারবেন, হিন্দু সমাজে- বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহ কোথা থেকে, কিভাবে অনুপ্রবেশ করলো, সে সম্পর্কে।

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা ? নেহেরু মার্কা ইতিহাস, যে ইতিহাসের মূলকথা হলো, মুসলমানদের সম্পর্কে কিছু খারাপ লেখা যাবে না, সেই ইতিহাসের অকল্যানে আমরা প্রায় সবাই এটাই জানি যে, হ্যাঁ, সতীদাহ হিন্দু সমাজের প্রথা; এতে জীবন্ত হিন্দু বিধবাদের পুড়িয়ে মারা হতো। কিন্তু প্রকৃতসত্য কি তাই ?

জঙ্গলে বাস করলে যেমন কিছুটা জংলীপনা আপনাকে বরণ করতেই হবে, সভ্য হয়ে আপনি জঙ্গলে বাস করতে পারবেন না; তেমনি মুসলিম শাসনে ব মুসলমানদের সাথে বসবাস করতে গেলেও আপনার জীবনাচরণে কিছু না কিছু মৌলিক পরিবর্তন বাধ্য হয়ে আপনাকে আনতেই হবে। সতীদাহ, বাল্য বিবাহ এবং রাত্রীকালীন বিবাহ এই ধরণের ঘটনা এবং তা ভারতে মুসলিম দুঃশাসনের কুফল।

৭১১ খিষ্টাব্দে, মুহম্মদ বিন কাশিমের কাছে সিন্ধুর হিন্দু রাজা দাহির পরাজিত হলে, রাজপরিবারের মেয়েরা সম্মান বাঁচাতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এমন সময় তাদের এক মন্ত্রী, রাণীকে জানায়, মুসলিম সৈন্যরা খুবই নৃশংস এবং অমানবিক হয়, এমনকি তারা মৃত মেয়েদেরকেও ধর্ষণ করতে ছাড়ে না।

এই কথা শুনে মৃত্যুর পর দেহের পবিত্রতা রক্ষার্থে রাণী আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্তঃপুরের সব মেয়েরা ঐভাবেই আত্মাহুতি দেয়। এই হলো ভারতবর্ষে সতী হয়ে মরার জন্য সতীদাহ প্রথার শুরু।

এরপর যখনই কোনো হিন্দু রাজা মুসলমানদের কাছে পরাজিত হয়ে রাজ্য হারিয়েছে, তখনই সেখানকার নারীরা সিন্ধুর রাজপরিবারের নারীদের দৃষ্টান্তকে অনুসরণ করে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে নিজেদের শেষ করে দিয়েছে।

যেহেতু হিন্দুসমাজে বিধবা বিবাহের প্রচলন ছিলো না, সেহেতু প্রথমত যোদ্ধা পুরুষদের বিধবা স্ত্রীরা এবং পরে সকল ধরণের বিধবারাই এভাবে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করে আগুনে আত্মাহুতি দিতে শুরু করে এবং এটা ছিলো সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়|

হিন্দু সমাজকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নারীদের এই আত্মবিসর্জন, কালক্রমে হিন্দু সমাজে খুব শ্রদ্ধার বিষয় হয়ে উঠে এবং যেহেতু সতী হিসেবেই এবং সতীত্ব রক্ষার জন্য তারা নিজেদেরকে দাহ করছে, তাই এর নাম হয়ে উঠে সতীদাহ এবং শত শত বছর ধরে চলার ফলে এটা এক সময় হিন্দু সমাজের অঙ্গ হয়ে উঠে।

আমার এই তথ্যগুলো অনেকের কাছেই বানানো গল্প মনে হতে পারে; তাদের জন্য মহাভারত থেকে কিছু দৃষ্টান্ত দিচ্ছি। এগুলো পড়ার সাথে সাথে এটা মাথায় রাখবেন যে, রামায়ণ-মহাভারতে যেগুলি নেই, সেগুলো হিন্দু ধর্ম ও সমাজের কোনো প্রথা নয়।

মহাভারতের গল্প যার থেকে শুরু, সেই রাজা শান্তনু, শেষ বয়সের দিকে মৎস্য রাজার কন্যা সত্যবতীকে বিয়ে করে। অতঃপর সত্যবতীর দুই পুত্র জন্মানোর পর রাজা শান্তনু মারা যায়।

প্রতিশ্রুতি মোতাবেক, রাজা শান্তুনুর জ্যেষ্ঠপুত্র ভীষ্ম, রাজা না হওয়ায়, রাজাবিহীন হস্তিনাপুর রাজ্যকে ভীষ্ম ও সত্যবতী মিলে ততদিন পর্যন্ত শাসন করে, যতদিন না সত্যবতীর পৌত্র পাণ্ডুর রাজ্যভিষেক হয়। পরে পাণ্ডু, রাজ্য ছেড়ে বনে চলে গেলে,

অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রকে কার্যনিবাহী রাজা নিযুক্ত করা হয় এবং ধৃতরাষ্ট্র কর্তৃক অপমান সইতে না পেরে সত্যবতী বনের এক আশ্রমে চলে যায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়- কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কিছু বছর আগে। এখানে খেয়াল করুন, জীবিত সত্যবতীকে কিন্তু রাজা শান্তনুর মৃতদেহের সাথে দাহ করা হয় নি।

পরে, মহাভারতের আরেক ঘটনায়, বনে, পাণ্ডুর মৃতদেহের সাথে, পাণ্ডুর দ্বিতীয় স্ত্রী মাদ্রির মৃতদেহকে এক সাথে দাহ করা হয়। এই ঘটনাকে কেউ সহমরণের দৃষ্টান্ত হিসেবে ভুল করতে পারেন, তাই এই ঘটনাটা বিস্তারিত তুলে ধরছি: পাণ্ডু যেদিন কুন্তীকে বিয়ে করে, সেইদিন রাতেই পাণ্ডুকে যুদ্ধের জন্য যাত্রা করতে হয়।

কিন্তু যুদ্ধ জয় করে ফেরার পথে, মন্দ্র রাজ, তার পালিত মেয়ে মাদ্রির সাথে পাণ্ডুর বিয়ে দিয়ে দেয়, ফলে মাদ্রীকে নিয়ে পাণ্ডু হস্তিনাপুর ফিরে আসে। এরপর মাদ্রীর জেদের ফলে পাণ্ডু দুই স্ত্রীকে নিয়ে বনে বেড়াতে যায় এবং সেখানে মাদ্রীর ইচ্ছাকে পূরণ করার জন্যই হরিণ রূপে সহবাস রত এক ঋষি ও তার স্ত্রীকে পাণ্ডু তীর মেরে হত্যা করে বসে।

ঋষি মারা যাওয়ার পূর্বে স্বরূপে পাণ্ডুকে দেখা দেয় এবং এই অভিশাপ দেয় যে, পাণ্ডু যখনই তার কোনো স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে, তারপরই সে মারা যাবে।

এরপর পাণ্ডু প্রাসাদে ফিরে আসে এবং সবাইকে জানায় যে তার মাধ্যমে এক ঋষি হত্যা হয়েছে। এর প্রায়শ্চিত্য করার জন্য সে রাজ্যের দায়িত্ব ছেড়ে স্থায়ীভাবে বনে চলে যেতে চায় এবং চলেও যায়। এরপর বনেই চলছিলো পাণ্ডু ও তার দুই স্ত্রীর দিন।

এই ফাঁকে দেবতাদের আশীর্বাদে কুন্তীর সন্তান লাভের বরের কথা জানতে পেরে পাণ্ডুর অনুমতি নিয়ে কুন্তী তিন পুত্র এবং মাদ্রী দুই পুত্র লাভ করে। এই তিন ও দুই মিলেই হয় পাঁচ পাণ্ডব। এর বেশ কয়েক বছর পর, হঠাৎ, পাণ্ডু একদিন মাদ্রীর প্ররোচনায়, তার উপরে থাকা অভিশাপের কথা ভুলে গিয়ে মাদ্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয় এবং সহবাস শেষে মারা যায় ।

মাদ্রীর কারণেই যে পাণ্ডুকে বনের জীবন বেছে নিতে হয়েছিলো এবং তার কারণেই আবার পাণ্ডুর প্রাণ গেলো, এসব ভেবে এবং স্বামীর শোক সইতে না পেরে মাদ্রী আকস্মিকভাবে প্রাণ ত্যাগ করে এবং স্বামী স্ত্রী দুইজনকেই এক সাথে দাহ করা হয়।

মুসলিম বা ইংরেজ আমলের সতীদাহের যে রূপকে আমরা জানি, এই ঘটনা সেরকম কিছু নয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, পাণ্ডুর সাথে তার জীবিত স্ত্রী কুন্তীকে কিন্তু দাহ করা হয় নি। কুন্তী, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরও বেঁচে ছিলো।

সুতরাং মহাভারতের যুগে সতীদাহের কোনো ঘটনা ই ঘটে নি। আর যেহেতু রামায়ণ, মহাভারতেরও আগের কাহিনী, সেহেতু রামায়ণে সতীদাহের কোনো ঘটনা থাকাই সম্ভব নয়। রামায়ণ, মহাভারতের শুধু আগের কাহিনী ব’লে নয়, বাস্তবেও রামায়নে, রাজা দশরথ মারা গেলে তার তিন স্ত্রীকে তার সাথে দাহ করা হয় নি।

রামায়ন, মহাভারতের এই ঘটনাগুলি থেকে এটা স্পষ্ট যে, হিন্দুধর্মের যেসব প্রামান্য গ্রন্থ সেগুলোতে সতীদাহের মতো কোনো ঘটনার উল্লেখ নেই, তাই সতীদাহ হিন্দুধর্মের কোনো সার্টিফায়েড প্রথা নয়। তাহলে মধ্যযুগে সতীদাহপ্রথা এলো কোথা থেকে ?

এই প্রশ্নের জবাব ভাবুন, আর আমার উপরে বর্ণনা করা সিন্ধুর রাজপরিবারের মেয়েদের আগুনে আত্মবিসর্জন দেওয়ার ঘটনার বিষয়গুলোকে মিলিয়ে দেখুন, দুয়ে দুয়ে চার এমনিতেই মিলে যাবে।

এরপরও অনেকেই মনে করতে পারেন, সিন্ধুর রাজ পরিবারের মেয়েদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে, পরবর্তীতে পরাজিত রাজ পরিবারের মেয়েরা আগুনে ঝাঁপ দেবে এবং কালক্রমে এটা একটা প্রথা হয়ে দাঁড়াবে, এটা কোনো কথা হলো ?

প্রথা যে কত শক্তিশালী একটা ব্যাপার, সেটা বোঝানোর জন্য আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার একটা ঘটনা বলছি: সব হিন্দু পরিবারে ভাইফোঁটার উৎসব থাকলেও, আমার খুব ঘনিষ্ঠ একটি হিন্দু পরিবারে কোনো ভাই ফোঁটা উৎসব নেই।

এর কারণ খঁজুতে গিয়ে জানতে পারলাম, দুই পুরুষ আগের কোনো এক ভাই ফোঁটা উৎসবের পরের দিন, যে ভাইকে ফোঁটা দেওয়া হয়েছিলো, সেই ভাই ই মারা যায়। এর পর ওই পরিবারে এই বিশ্বাস ঢুকে যায় যে, তাদের জন্য ভাইফোঁটা অশুভ। তার পর থেকেই তারা এই উৎসব বাদ দেয় এবং এখনও প্রায় ১০০ বছর পরও পারিবারিক প্রথাকে মেনে তারা ভাইফোঁটা পালন করে না।

প্রথা এমনই শক্তিশালী একটা ব্যাপার, যখনই তা কোনো কারণে বন্ধ হয়, তা যেমন বন্ধই থাকে, তেমনি যখনই কোনো প্রথা, কোথাও থেকে শুরু হয়, সেটাও চলতেই থাকে। তাই যখনই কোনো হিন্দু রাজার রাজ্যের উপর মুসলমান শাসকদের দৃষ্টি পড়েছে এবং ওই হিন্দু রাজারা যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হয়েছে, তখনই মুসলমান সৈন্যদের ধর্ষণ এমনকি মৃতদেহকেও ধর্ষণের কবল থেকে রক্ষা করার জন্যই পূর্বসুরী সিন্ধু রাজপরিবারের মেয়েদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে পরবর্তী রাজ পরিবারের মেয়েদের এরকমটা ঘটানো অসম্ভব কিছু নয়,

যেহেতু পরাজিতদের মেয়েদেরকে মুসলমান সৈন্যরা নির্বিচারে ধর্ষণ করতো, কোরান হাদিসেও যার অসংখ্য উদাহরণ আছে, এবং আছে মুসলমানদের ইতিহাসেও। সেহেতু সতীদাহ প্রথার উৎপত্তির ব্যাপারে আমার অনুসন্ধান ও জানাকে আমি ১০০% সঠিক ও সত্য বলে মনে করি।

রাজা রামমোহন রায়, তার বাল্যকালে তার বৌদিকে সতী হতে দেখেন; এই বিষয়টি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। পরে তিনি ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর, বৃটিশ সরকারের ভাইসরয়, “উইলিয়াম বেন্টিংক” এর সহায়তায় সতীদাহ বন্ধে একটি আইন পাশ করাতে সমর্থ হন। এভাবেই ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয় সতীদাহ প্রথা।

কিন্তু এই সতীদাহ প্রথা বন্ধেও মুসলমানরা খুঁজে পায় মুসলিম শাসকদের অবদান। এই সব মূর্খদের উদ্দেশ্যে বলছি, মুসলমান শাসকরা সতীদাহ বন্ধ করতে উদ্যোগী হলে এটার জন্য রাম মোহন রায়কে এত ফাইট করতে হতো না, আর এটা ১৮২৯ সালের পর, ইংরেজ আমলে বন্ধ না হয়ে ১৭৫৭ সালের আগে হতো।

মুসলমানদের এ এক সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র; মুসলিম শাসকদের অত্যাচারের কারণেই যে ভারতে সতীদাহ প্রথার উদ্ভব হয়েছে, এই ইতিহাসকে চাপা দিতেই তাদের এই অপপ্রচার। কিন্তু সত্য চাপা থাকে না, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশ হয় ই এবং তা প্রকাশিত হয়েছে।

এবার আসি বাল্য বিবাহের কথায়। আমরা সবাই জানি বা শুনেছি যে, হিন্দু রাজারা, মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার জন্য স্বয়ংবর সভার আয়োজন করতো; সেখানে প্রাপ্ত বয়স্ক সাবালিকা মেয়েরা নিজেদের পছন্দ মতো বর পছন্দ করে নিতে পারতো বলেই, ওই অনুষ্ঠানের নাম স্বয়ংবর সভা।

তাহলে হিন্দু ঐতিহ্যে বাল্য বিবাহের ব্যাপারটা এলো কোথা থেকে ? এই প্রশ্নের জবাব একটু পরই পেয়ে যাবেন, পড়তে থাকুন এই প্রবন্ধটি।

স্বয়ংবর সভাতে বেশিরভাগ সময়ই নানা রকম শক্তির প্রতিযোগিতা রাখা হতো এবং তাতে যারা জয়লাভ করতো, তারাই ওই রাজকন্যাকে বিয়ে করতে পারতো। মহাভারতে কমপক্ষে এরকম ঘটনা আছে দুটি। প্রথমটি ঘটে কাহিনীর শুরুর দিকেই।

মহামহিম ভীষ্ম, তার সৎ ভাই বিচিত্রবীর্যের বিয়ের জন্য এক স্বয়ংবর সভায় শক্তির প্রতিযোগিতায় জিতে ওই রাজার তিন মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে আসে।এর মধ্যে তিন বোনের দুই জন বিচিত্রবীর্যকে বিয়ে করতে রাজী হয়, কিন্তু অপর বোন অম্বার বক্তব্য হচ্ছে, ভীষ্মকেই সে বিয়ে করবে, যেহেতু ভীষ্ম তাকে জয় করেছে। কিন্তু ভীষ্মের তো প্রতিজ্ঞা আছে বিয়ে করবে না ব’লে।

আমরা যে মাঝে মাঝেই ভীষ্মের প্রতিজ্ঞার কথা বলি, এই হলো সেই প্রতিজ্ঞা, বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা। এই প্রতিজ্ঞার ফলে ভীষ্ম, অম্বাকে বিয়ে না করতে চাওয়ায়, নানা ভাবে অম্বা, ভীষ্মের উপর প্রতিশোধ নিতে ব্যর্থ হয়ে, পরের জন্মে যোদ্ধা হয়ে জন্ম নেবে, এই প্রত্যাশা নিয়ে,

আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে এবং পরে ঠিকই সে পাঞ্চালের রাজা ধ্রুপদ এর কন্যা হিসেবে শিখণ্ডি নাম নিয়ে জন্ম নেয় এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তার তীরেই ভীষ্মের মৃত্যুর কারণ হয়।

মহাভারতে দ্বিতীয় স্বয়ংবর সভার ঘটনা ঘটে পাঞ্চালি বা দ্রৌপদীর বিয়ের সময়। এই স্বয়ংবর সভা থেকেই অর্জুন পাঞ্চালিকে জয় করে।

মহাভারতের এসব স্বয়ংবর সভার অর্থ হলো রামায়ণ মহাভারতের যুগে কোনো বাল্য বিয়ে ছিলো না; কারণ, বালিকাদের নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার কোনো ক্ষমতা থাকে না। তাহলে বাল্য বিবাহ হিন্দু সমাজে কখন শুরু হলো ? এর কারণও সেই জঙ্গল রাজ অর্থাৎ মুসলিম দুঃশাসন।

কোরান-হাদিস অনুসারে, ইসলামিক দেশে বসবাসরত সকল অমুসলিমরা কাফের, তাই তারা হত্যা যোগ্য। যদি কোনো কারণে তাদেরকে হত্যা করা না হয়, তাহলে তারা জিম্মী; এই জিম্মীদেরকে জিজিয়া কর দিয়ে তাদের প্রাণ বাঁচাতে হবে এবং ইসলামিক দেশে বসবাস করতে হবে। আর কাফেরদের সকল সম্পত্তি গনিমতে মাল।

মুসলমানরা চাইলেই সেই গনিমতে মাল যেভাবে খুশি সেভাবে, যখন তখন ভোগ-দখল করতে পারে। হিন্দু মেয়েরাও এই গনিমতে মালের মধ্যে পড়ে। তো মুসলিম শাসকরা যখন ভারত দখল করতে আসে, তখন তো তারা আর সৌদি আফগানিস্তান থেকে তাদের বউ-মেয়েদের সঙ্গে করে আনতো না বা আনে নি। তাহলে মুসলমানরা তাদের অসীম যৌন কামনা মেটাতো কিভাবে ? হিন্দু মেয়েরা হতো মুসলমানদের এই যৌন-কামনার বলি।

রাজ্য দখল করার সময় সবক্ষেত্রেই শুধু হিন্দু পুরুষদের হত্যা করা হতো, আর বাঁচিয়ে রাখা হতো সকল মেয়েদের।

সম্মান রক্ষার জন্য যেসব মেয়ে আত্মহত্যা করতো, তারা তো মরতোই, জীবিতদের মধ্যে সুন্দরীগুলোকে বন্দী করে সোজা পাঠানো হতো মুসলিম শাসকের হারেমে। তারা ভোগে লাগতো রাজা বাদশার। আর অন্য যুবতী মেয়েদেরকে ভোগ করতো এবং পরে জোরপূর্বক মুসলমান বানিয়ে বিয়ে করে নিতো সাধারণ সৈনিক থেকে শুরু করে অন্য মুসলমানরা। এখানে দুইটি বিশেষ তথ্য দিয়ে রাখি, ভারতের মুসলমানরা,

তারা ধর্মান্তরিত হোক বা বহিরাগত, কেউ কোনো চাষবাস বা ব্যবসা-বানিণজ্যের সাথে যুক্ত ছিলো না, সবাই ছিলো শাসন কার্য আর লুঠপাটের সাথে যুক্ত এবং মুসলমান শাসকদের হারেমে যত মেয়ে ছিলো সবাই ছিলো হিন্দু পরিবারের। কারণ, ইসলামের তলোয়ারের সামনে ভারতের যে সব হিন্দু, মুসলমান হয়েছে; ধর্মীয় নির্দেশ- মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই,

এই সূত্র অনুসারেই মুসলমান শাসকরা তাদেরকে যতটা সম্ভব সুযোগ সুবিধা দিয়ে শাসনকার্যের সাথে যুক্ত করেছে এবং তাদের উপর কোনো রকম নির্যাতন করে নি। তাই মুসলমান মেয়েদের হারেমে থাকার কোনো প্রশ্নই নেই।

তো প্রথম ধাক্কাতেই কিছু হিন্দু মেয়ের স্থান হারেমে এবং বাকিদের স্থান মুসলমানদের বাড়িতে হলেও, জন্ম তো আর থেমে থাকে নি।

তাই যখনই কোনো হিন্দু পরিবারে কোনো মেয়ের জন্ম হয়েছে আর যখনই তারা একটু বড় হয়েছে, তখনই মুসলমানরা এসে তাদের ধর্ষণ করেছে এবং উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য হিন্দু সমাজপতিরা একটা উপায় বের করে, তা হলো, জন্মের পর মেয়েদেরকে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখা এবং যত কম বয়সে সম্ভব মেয়েদের বিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেওয়া।

বিশেষ করে মেয়েদের স্তন উদগত হওয়ার আগেই। কারণ, যৌন বিজ্ঞানের মত হলো, স্তন উগদত হওয়ার আগে কোনো মেয়েই কারোরই তেমন চোখে পড়ে না। একটা মেয়ের স্তন যত বড় হয়, সে তত সুন্দরী আর আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তাই কারো চোখে না পড়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী বয়স হলো আট। কারণ, এরপর থেকেই মেয়েদের স্তনের বৃদ্ধি শুরু হয়।

এই আট বছর বয়সে মেয়ের বিয়ে দেওয়াকে হিন্দু সমাজে এক সময় শ্রেষ্ঠ মনে কর হতো, আর এর নাম ছিলো গৌরী দান। কিন্তু হিন্দু বিয়ে তো আর চুপ চুপ করে কবুল বলে হয় না। এর থাকে নানা আয়োজন।

বর্তমানেও একটি হিন্দু বিবাহের সকল রীতি শেষ করতে মোটামুটি তিন দিন লাগে, অতীতেও কম লাগতো না। ভারতে মুসলমানরা আসার আগে বিয়ে হতো দিনের বেলায়। ভারতের যেসব এলাকায় মুসলিম শাসনের ছোঁয়া লাগে নি, এখনও সেসব এলাকাতে বিয়ে হয় দিনের বেলায় , বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।

তো দিনের বেলাতে মেয়েদের বিয়ে দেওয়াও মুসলমানদের অত্যাচারে একসময় অসম্ভব হয়ে উঠলো। কারণ, বাড়িতে লুকিয়ে রাখার ফলে এবং বয়স বেশি না হওয়ায় মুসলমানদের চোখে মেয়েরা না পরলেও, যখন তাদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন মুসলমানরা ঠিকই বুঝে যাচ্ছিলো যে, এ বাড়িতে মেয়ে আছে আর সে, নাবালিকা নয়, সাবালিকা; তাই সে ভোগযোগ্য।

আট বছর বয়সেও মেয়েদের বিয়ে দিতে গিয়ে যখন হিন্দুরা সমস্যায় পড়লো; তখন হিন্দু সমাজপতিরা আবারও সমাধান বের করলো, গোপনে চুপি চুপি চোরের মতো রাতের বেলায় বিয়ে দিয়ে মেয়েকে বিদায় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। আর এ জন্য জ্যোতিষীরাও রাতের বেলায় শুভলগ্ন খুঁজে বের করে বিয়ের জন্য শুভ দিন বের করে ফেললো। এভাবেই শুরু হয়েছিলো, আট বছর বয়সে গৌরী দান অর্থাৎ বাল্য বিবাহ এবং রাতের বেলায় সাত পাক ঘোরানোর নিয়ম।

খেয়াল করুন, মুসলমানদের বিয়ে কিন্তু এখনও দিনের বেলাতেই হয়, যেহেতু তাদেরকে ওই রকম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় নি এবং হিন্দু ছাড়া সম্ভবত আর কোনো জাতির বিবাহ রাতের বেলায় হয় না। অথচ হিন্দু বিয়ে এক প্রকার যজ্ঞ এবং হিন্দু শাস্ত্রে রাতের বেলা কোনো প্রকার যজ্ঞ করার নিয়ম নেই। একমাত্র বিবাহের যজ্ঞ ছাড়া, অন্যান্য ধর্মীয় যজ্ঞগুলো এখনও দিনের বেলা করা হয়।

উপরে প্রথার শক্তির কথা বলেছি, এই প্রথা যে কত শক্তিশালী হতে পারে, তার আরও কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। মুসলমানদের দুঃশাসনের ফলে হিন্দু বিয়েতে বাল্য বিয়ের যে আবির্ভাব ঘটলো, মুসলিম শাসন শেষ হওয়ার ১০০ বছর পরও সেই প্রথা থেকে হিন্দুরা মুক্ত হতে পারছিলো না।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ইতিহাস ভিত্তিক উপন্যাস “সেই সময়” পড়লে দেখতে পাবেন, ১৮৫০/৬০ সালেও ৮/১০ বছর বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেয়া হচ্ছে, যে বয়সে মেয়েরা পুতুল খেলাই ছাড়ে না, বিয়ে কী বস্তু সেটা বুঝে উঠা অনেক দূরের ব্যাপার। অথচ “সেই সময়” উপন্যাসের সেই সময়ে হিন্দুরা কিন্তু মোটেই অনিরাপদ নয়; কিন্তু প্রথা বলে কথা, তাই সহজে তা সমাজ থেকে দূর হয় না।

হিন্দুরা সব সময়েই খুব আধুনিক এবং প্রগতিশীল। সময়ের সাথে সাথে এখন আর গৌরীদান প্রথা নেই। কিন্তু বর্তমানে আলোকসজ্জা সহ অন্যান্য কিছু সুযোগ-সুবিধা, বিশেষ করে কর্মব্যস্ত দিন শেষে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার সুবিধার কারণে রাত্রীকালীন বিবাহ হিন্দু সমাজে এখনও বহাল তবিয়তে টিকে আছে এবং মনে হয় ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে।

সেই সাথে হিন্দুরা এই ইতিহাসও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে নিয়ে যাবে যে, কেনো হিন্দুদের বিবাহ রাতের বেলায় হয় ; অবশ্য নেহেরু মার্কা ইতিহাসের বেড়াজাল ভেদ করে যদি সকল হিন্দুকে তা জানানো যায় বা আমরা তা জানাতে পারি।

প্রাচীন হিন্দু সমাজের জন্য ব্যবহৃত অসূর্যস্পর্শ্যা বলে একটা শব্দ আছে। এর অর্থ হলো- সুর্যের আলোও যাকে স্পর্শ করে নি। এখন আপনার মনে হবে, এটা কেমন কথা, পৃথিবীতে সৃষ্ট কোনো কিছুকে সূর্যের আলো স্পর্শ করবে না, বাস্তবে এটা কি সম্ভব ? কিন্তু এই অসম্ভবকেও মুসলিম শাসনামলে হিন্দুদেরকে সম্ভব করতে হয়েছিলো, মেয়েদেরকে রক্ষা করার জন্য।

কোনো বাড়িতে কোনো হিন্দু মেয়ের জন্ম হয়েছে কিনা, এই খোঁজ নেওয়ার জন্য মুসলিম শাসকরা গোয়েন্দা লগিয়ে রাখতো, এদেরকে বলা হতো সিন্ধুকী।

এই সিন্ধুকীদের হাত থেকে মেয়েদেরকে রক্ষা করার জন্য তাদেরকে একেবারে ঘরের বাইরে বেরই করা হতো না। তো যে ঘরের বাইরে বেরই হয় না, তার গায়ে সূর্যের আলো লাগবে কোথা থেকে ? এ থেকেই উৎপত্তি হয় অসূর্যস্পর্শ্যা নামক শব্দের। শুধু তাই নয়, হিন্দু মেয়েদের ক্ষেত্রে এই অসূর্যস্পশ্যা নীতি সারাজীবনেও ঘুচতো না।

গোপনে চুরি করে রাতের বেলায় বিয়ে দেওয়ার পরও, তাদেরকে কাপড়ে ঘেরা পালকিতে করে শ্বশুর ও বাপের বাড়ি আনা নেওয়া করা হতো, ফলে তখনও সূর্যের আলো তাদের গায়ে লাগতো না, আর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও তাদেরকে অন্তঃপুরেই বন্দী থাকতে হতো। কারণ, বউ বেশি সুন্দরী হলে আর তারা সিন্ধুকীদের নজরে কোনো রকমে পড়ে গেলে মুসলমান শাসকদের হাত থেকে বিবাহিত মেয়েদেরও রক্ষা ছিলো না।

হিন্দু বধূরা মুসলিম শাসনের আগে কোনো দিন ঘোমটা কাকে বলে জানতো না, স্টার জলসায় যে মহাভারত দেখালো, সেখানে নিশ্চয় অনেকেই দেখেছেন, কোনো বধূকে কখনো ঘোমটা দেওয়া অবস্থায় দেখা যায় নি।

মুসলমানদের নজর এড়ানোর জন্যই হিন্দু বউয়েরা এত বড় ঘোমটা দেওয়া শুরু করে যে, কোনোভাবেই তাদের মুখের যেন কোনো কিছুই দেখা না যায়। বাংলায় এই ধরণের ঘোমটা এখন আর কেউ দেয় না বা বলতে গেলে ঘোমটার প্রচলন প্রায় উঠেই গেছে, কিন্তু ভারতের অনেক স্থানে মেয়েরা এমন ঘোমটা এখনও দেয়।

শৌচালয় নিয়ে করা দীপিকা পাড়ুকোন বা বিদ্যা বালান এর একটি বিজ্ঞাপন নিশ্চয় অনেকে দেখেছেন, সেখানে নববিবাহিতা মেয়েটিকে যেরকমটা এক হাত লম্বা ঘোমটা পরা অবস্থায় দেখেছেন, মুসলিম শাসন আমলে হিন্দু পরিবারের বউদের ঘোমটা ছিলো ঠিক সেরকম।

পৃথিবীর সকল ধর্মের বিবাহ শুধু মাত্র একটি যৌন চুক্তি হলেও হিন্দুদের বিবাহ একটা ব্রত বা ধর্মানুষ্ঠান, এজন্যই বিয়ের দিন বর ও কনেকে উপবাস রেখে বিয়ে করতে হয়। কিন্তু এই বিয়ে নিয়ে মুসলমানদের লেটেস্ট ষড়যন্ত্র হলো, হিন্দু বিয়েতে নাকি পুরোহিত, বর ও কনের কানে কানে কোরানের সূরা বলে, আর সেই কারণেই নাকি ঢাক ঢোল বাজানো হয়, যাতে সেই সূরা অন্য কেউ শুনতে না পায়!

এই সব সিলগালা মানসিক প্রতিবন্ধী মুসলমানদেরকে কোন ভাষায় গালি দেবো, সেটাই তো বুঝতে পারছি না। অবশ্য গালি মানুষকেই দেওয়া যায়, জানোয়ারদেরকে গালি দিয়ে লাভ কী ? মুসলমানরা এই সব কথা বলে আবার অবিবাহিত হিন্দুদের, যেহেতু তারা বিয়ে করে নি, তাই তাদের সঠিক তথ্য জানা থাকে না, তাই তারা এর সঠিক জবাবটা দিতে পারে না এবং এভাবে মুসলমানদের ষড়যন্ত্রের কাছে হিন্দু ছেলে মেয়েরা হেয় হয় বা হচ্ছে।

যদি কোনো মুসলমান আপনাদেরকে এই কথা বলে, তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তোর কোরান কত দিন হলো পৃথিবীতে আছে ? ১৪০০ বছর ? আর হিন্দু বিবিাহের রীতি পৃথিবীতে কত দিন হলো আছে জানিস, প্রায় ৮/১০ হাজার বছর। হিন্দুদের বিয়েতে যদি বর ও কনের কানে কানে কোরানের সূরা বলার নিয়ম থেকে থাকে, তাহলে কোরান নাজিল হওয়ার আগে হিন্দু বিয়েগুলো কিভাবে পড়ানো হতো ?

আরো বলবেন, যখন বিয়ের মন্ত্রগুলো উচ্চারণ করে বিয়ে পড়ানো হয়, তখন ঢাকঢোল বাজানো হয় না; আর ঢাক-ঢোল, বিয়েতে বাজাতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নাই, ঢাক ঢোল বাজানো হয় বিয়েটাকে একটা উৎসবের রূপ দেওয়ার জন্য এবং পাড়া প্রতিবেশি বা বিয়ে যে পথ দিয়ে যাবে বা আসবে তার আশেপাশের লোকজনদেরকে জানানোর জন্য যে একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে,

যেন তারা সেই বিয়েত উপস্থিত হয়ে বা না হয়ে, নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করে। ঢাক-ঢোলের এই ভাবনা তুলনামূলক আধুনিক কালের, যখন ভারত বর্ষ থেকে মুসলিম দুঃশাসন দূর হয়েছে এবং এটা শুরু হয় ইংরেজ শাসনামলে জমিদারদের ছেলে মেয়েদের বিয়ে থেকে।

রাত্রিকালীন বিবাহে যে ঢাক-ঢোল বাজানোর যে কোনো নিয়ম ছিলো না, তার প্রমান হচ্ছে, হিন্দুদের বিবাহ দিনের বেলা থেকে রাতের বেলা স্থানান্তরিতই হয় মুসলমানদের হাত থেকে মেয়েদেরকে বাঁচানোর জন্য চুপি চুপি বিয়ে দেওয়ার জন্য, তাহলে সেখানে ঢাক ঢোল বাজিয়ে সবাইকে সেই বিয়ের কথা সেই সময়ের হিন্দুরা জানাতে যাবে কেনো ?

হিন্দু বিয়েতে কোরানের সূরার কথা উঠলেই আর একটা জোর গলায় বলবেন যে, যখন বিয়ের মন্ত্রগুলো উচ্চারণ করা হয়, তখন তা জোরে জোরে করা হয়, যাতে সবাই তা শুনতে পায় এবং এখানে কানে কানে পুরোহিত কাউকে কিছু বলে না এবং সেই সময় ঢাক ঢোল বাজানোও বন্ধ থাকে,

সুতরাং তোরা সংখ্যায় বেশি বলে গায়ের জোরে যা খুশি বলার প্রবণতা বাদ দে, তা না হলে মুখের উপর কিছু‌ বলতে না পারলেও ফেক আইডি দিয়ে ফেসবুকে এমন গালি দেবো যে তা সহ্য করতে না পেরে দাঁত কিড়মিড় করে মরবি।

যা হোক, ফিরে যাই মধ্যযুগের গল্পে, সবচেয়ে আশ্চর্য হবেন এই তথ্য জানলে যে, সুফী দরবেশদেরকে, অনেকেই বেশ ভালো এবং উদার মুসলমান বলে মনে করেন, কিন্তু এই সুফী -দরবেশরাই মুসলিম শাসকদের গোয়েন্দা বা সিন্ধুকী হিসেবে কাজ করতো, এবং কোন হিন্দু পরিবারে কয়টা মেয়ে আছে, সেই খোঁজ নবাব-সুলতান-বাদশাদের এরাই দিতো। কারণ, সাধারণ মুসলিম সৈন্যদের হিন্দু বাড়িতে ঢোকায় কিছুটা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সুফী-দরবেশদের এই সমস্যা ছিলো তুলনামূলক কম ।

এই রকম চরম অনিশ্চয়তা ও বিপদের মধ্যে জিজিয়া কর দিয়ে কোনোরকমে আত্মরক্ষা করে টিকে থাকতে হয়েছে আমাদের পূর্বপুরুষদের। এসব ইতিহাস আমাদের ভোলা উচিত নয়, কাউকে ভুলতে দেওয়াও উচিত নয়। কারণ, শত্রুকে চিনতে ভুল হলে বা তাকে চিনিয়ে না দিলে আমাদের আগামী প্রজন্ম তাদের দ্বারা বারবার ক্ষতির শিকার হবে।

এজন্য আমাদের প্রত্যেকের উচিত একটি জ্ঞানভিত্তিক ও শক্তিচর্চাভিত্তিক হিন্দু সমাজ নির্মানে, যে যেখানে আছে, সেখান থেকেই কাজ করা। তাহলেই কেবল আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে পারবো এবং আমাদেরকে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুখে, নেহেরু-গান্ধীকে বর্তমানে আমরা যেমন গালি দিচ্ছি, সেরকম গালি খেতে হবে না।

আরো পড়ুন….