বিজ্ঞান: প্রাচীন ভারতে বিজ্ঞান চর্চার ঐতিহ্য সর্বজন বিদিত। বিজ্ঞান চর্চার জন্য যে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে বা সেকুল হতে হবে, এ ধরণের ধারণা ভূল প্রমাণ করেছে সনাতনী সমাজ। আসুন দেছি প্রচীন ভারতে সনাতনী সমাজ ধর্মর মাঝে কিভাবে বিজ্ঞান চর্চা করত।

. শ্রী সত্যেন্দ্রনাথ বসু : মহাবিশ্ব সৃস্টির রহস্য উন্মুক্তকারী ঈশ্বরকণার আবিস্কারক ছিলেন একজন বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র ছিল গাণিতিক পদার্থবিদ্যা। সত্যেন্দ্রনাথ বসু আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে যৌথভাবে বোসআইনস্টাইন পরিসংখ্যান প্রদান করেন, যা পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বলে বিবেচিত হয়।

. শ্রী জগদীশ চন্দ্র বসু: বেতারযন্ত্রের আবিস্কারক, উদ্ভিদের প্রান আছেতিানই প্রমান করেন। তার গবেষণার প্রধান দিক ছিল উদ্ভিদ তড়িৎ চৌম্বক। তার আবিষ্কারের মধ্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধিমাপক যন্ত্র ক্রেস্কোগ্রাফ, উদ্ভিদের দেহের উত্তেজনার বেগ নিরুপক সমতল তরুলিপি যন্ত্র রিজোনাষ্ট রেকর্ডার অন্যতম।
 

 

বিজ্ঞান: প্রাচীন ভারতে বিজ্ঞান চর্চার ঐতিহ্য সর্বজন বিদিত।
বিজ্ঞান: প্রাচীন ভারতে বিজ্ঞান চর্চার ঐতিহ্য সর্বজন বিদিত।

৩. শ্রী শান্তনু বনিক: স্তন ক্যান্সারের পূর্বাভাস জানার পদ্ধতির আবিস্কারক
৪. শ্রী উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর : কালাজ্বরের ওষুধ ইউরিয়া স্টিবামাইন আবিষ্কারক আবিস্কারক
৫. শ্রী মনি ভেীমিক: চোখের অত্যাধুনিক সার্জারী ল্যাসিক ( LASIK )ও Eximar লেজারের আবিস্কারক

৬. শ্রী মেঘনাদ সাহা: জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের অগ্রদূত , ১৯২০ সালে মেঘনাদ সাহার তাপীয় আয়নায়নের সমীকরণ (আয়নাইজেশান ইকুয়েশান) প্রকাশিত হবার পর থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে যত গবেষণা হয়েছে তাদের প্রায় সবগুলোই সাহার সমীকরণ দ্বারা প্রভাবিত।

৭. শ্রী শুভ রায়ের : কৃত্রিম কিডনি আবিস্কারক
৮. শ্রী সুভাষ মুখোপাধ্যায় (চিকিৎসক) :১৯৬৭ খৃষ্টাব্দে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপক জন লোরেনের সঙ্গে গবেষণা করে লিউটিনাইজিং হরমোনের পরিমাপ নির্ণয়ের এক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, টেস্ট টিউব বেবী আবিস্কারের অগ্রদূত

৯ শ্রী হেমেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় : প্রানঘাতী কলেরা, আমাশয় প্রতিকারক খাবার স্যালাইনের উদ্ভাবক
১০ .শ্রী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় : ন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ । তিনি বেঙ্গল কেমিকালের প্রতিষ্ঠাতা এবং মার্কিউরাস নাইট্রাইট-এর আবিষ্কারক।
১১. শ্রী অশোক সেন, স্ট্রিং থিওরিস্ট

১২. দশমিক পদ্ধতির প্রথম প্রচলন ও ব্যবহার করেন-মহর্ষি আর্যভট্ট 
১৩. প্রথম সাইন(sine) সারণী তৈরী করেন-আর্যভট্ট 
১৪.Continued Fraction আবিষ্কার করেন-ভাস্কর আচার্য্য (Vaskar II) 

১৫. শল্যবিদ্যার জনক (The Father of Surgery) বলা হয়- মহর্ষী শুশ্রুতকে
১৬. ঔষধের জনক (The Father of Medicine) বলা হয়- মহর্ষী চরককে।

১৭.প্রথম পরিপাক(Digestion), বিপাক(Metabolism) (দেহমধ্যে সজীব উত্পাদনের রাসায়নিক পরিবর্তন) ও রোগ প্রতিরোধ(Immunity) এই তিনের ধারনা প্রদান ও ব্যাখ্যা করেন-মহর্ষী চরক।

১৮.পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকার পরমাণু নাম করণ প্রথম করেন-কণাদ।
১৯. পৃথিবীর প্রথম বীজ গণিতের উপর বই রচনা করেন-মহর্ষি আর্যভট্ট.

২০. পাই এর নির্ভুল মান ও পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রথম প্রায় নির্ভুল মাপেন- মহর্ষি আর্যভট্ট
২১. কৃত্রিম জীন আবিস্কারক -হরগোবিন্দ খোরানা

২৩.প্লাস্টিক সার্জারীর জনক – মহর্ষি শুশ্রুত
২৪. শূন্যের (০) ব্যবহার প্রথম চালু করেন আর্য্যভট্ট
২৫. গাছের প্রাণ আছে তা সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন স্যার জগদীশচন্দ্র বসু

 

পৃথিবীর প্রথম ও সর্ব প্রাচীন ২টি বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রাচীন ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ও তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে ততকালে চীন, জাপান, গ্রিস, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরপের নানান অংশ থেকেও ছাত্ররা জ্ঞান অর্জন করতে আসত।
 
এর মধ্যে নালন্দা ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি ধ্বংস করেন এবং তক্ষশিলারও একই পরিণতি হয়। বলাবাহুল্য এই বিশ্ববিদ্যালয় দুটো ধ্বংস না হলে এই উপমহাদেশ এখন ও পৃথিবীতে রাজত্ব করতো।

 

 

 
=> ব্রহ্মগুপ্ত, শ্রিনিবাস রামানুজন, মহাবীর, বৌধ্যায়ন, কাত্যায়ন, মানব, পিঙ্গল, মাধব কর, নাগার্জুন ……… ইত্যাদিরা সকলেই এই ভারত উপমহাদেশের।তারা এই কমকাণ্ড গুলি ধর্মের মধ্যে তেকেই করেছে বা সেকুলা না হয়ে। সুতরাং এটা পরিষ্কার যে বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞান চর্চার জন্য সেকুলার হবার কোন দরকার নাই।

 
সনাতনী সমাজ প্রকৃতিক এবং বিজ্ঞানের সকল বিষয় সাধরে গ্রহন করে এবং উৎস প্রদান করেছে যুগ যুগ ধরে। এতএব এটা সত্য বর্তমান যুগে যারা বিজ্ঞান এবং ধর্মেকে গুলিয়ে ফেলছে তাদের বিজ্ঞানে আদি উৎস সম্পকে জানা উচিৎ।
 
গুটি কয়কে ধর্মে বিজ্ঞানের বিরুধীতা করাকে সকল ধর্মেকে এক কাতারে ফেলা ঠিক হেবে না।