প্রাচীন ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ, ভারতীয় উপমহাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস। পৃথিবীর অনেক দেশই চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখন যতটা উন্নত, ভারতীয় উপমহাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞান ঠিক যে তার সমতুল্য, তা কিন্তু নয়। অথচ, একটা সময় কিন্তু ব্যপারটা আনেকটা উল্টোই ছিল!!! ভারতীয় উপমহাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস সেটাই বলে। প্রাচীন আমলে ভারতীয় উপমহাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছিল ২টি ধারা, যার একটি আয়ুর্বেদ অপরটি সিদ্ধা। আয়ুর্বেদ পুরো ভারত উপমহাদেশ ব্যাপি ছড়িয়ে থাকলেও সিদ্ধা ছিল শুধুমাত্র দক্ষিণ ভারতীয় তামিলভাষীদের ভেতর সীমাবদ্ধ।

 

আয়ুর্বেদ অর্থ কি??

‘আয়ু’ শব্দের অর্থ ‘জীবন’ এবং ‘বেদ’ শব্দের অর্থ ‘জ্ঞান বা বিদ্যা’। ‘আয়ুর্বেদ’ শব্দের অর্থ ‘জীবনের জন্য যে বিদ্যা’। যে জ্ঞানের মাধ্যমে জীবনকে দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হয়, সেটাই আয়ুর্বেদ। আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “রোগের ত্রিদশা তত্ত্ব”-এর উপর ভিত্তি করে। ৩ টি দশার মধ্যে রয়েছে বায়ু, পিত্ত এবং কফ। বলা হয়, এই তিনটি দশার একটিতেও গড়মিল হলে রোগের জন্ম ঘটবে। ভারতীয় উপমহাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে রয়েছে কিছু ব্যক্তি, যাদের ভেতর রয়েছেন আত্রেয়া, চরক এবং শুশ্রুতা এবং তাদের কর্ম।

 

 

আত্রেয়াকে (৮০০ খ্রীস্টপূর্ব) বলা হয় ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম চিকিৎসক। চরক (২০০ খ্রীস্টাব্দ) ছিলেন বৌদ্ধ রাজা কানিস্কার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, যিনি “চরক সংহিতা”-র রচয়িতা। “চরক সংহিতা” গ্রন্থে তিনি ৫০০ ঔষধের বর্ননা দিয়েছেন। শুশ্রুতাকে (১২০০ খ্রীস্টপূর্ব) বলা হয় ভারতীয় শল্য চিকিৎসার জনক (father of indian surgery) । তিনি রচনা করেছেন “শুশ্রুতা সংহিতা”। ভারতীয় শল্য চিকিৎসা বেশ উন্নত ছিল কিন্তু বৌদ্ধদের রাজত্বকালে এটি তেমন বিকাশ লাভ করেনি কারন ছিল বৌদ্ধদের অহিংস নীতি। উল্লেখযোগ্য ব্যপার এই যে ভারতীয় শল্য চিকিৎসকদের কাছ থেকেই বৃটিশরা Rhinoplasty operation শিখেছিল।

 

লেখক- রানা মাইতি