নরক বানিয়ে স্বর্গ খোঁজার নাম ধৰ্ম,এটা কেমন বিশ্বাস? গত বছর রোজায় বেশ জমকালো একটা খবর ছিলো ঢাকার বৌদ্ধ মন্দির ও ইসকনের মন্দিরের ইফতার বিতরনী৷ বিভিন্ন পেইজ, মিডিয়া এবং ফেবুতে বিভিন্ন ফেইসবুকারের ছিল মৈত্রী বানী৷ কিন্তু বড় বড় মৌলবী, হুজুর ইমামদের বক্তব্য ছিল বিধৰ্মীদের ইফতার গ্রহণ হারাম৷ কেউ বলেছিলো এগুলো বাৰ্মা আর ভারতের চক্রান্ত৷ পরবৰ্তীতে সেই বৌদ্ধ মন্দিরের মৈত্রীর বিনিময়ে তাদের ফাঁসাতে কিংবা হামলার উদ্দেশ্যে হয়তো মন্দিরের পাশে পাওয়া গেল বস্তা বস্তা অস্ত্র এবং ইসকনের মৈত্রীর পেঁয়াজি বেগুনির বিনিময়ে বড় পাথর ঢিল সহ ইসকন মন্দিরে হামলা৷

ক্ষুধা বুঝেনা কে হিন্দু কে ইসলাম৷ কিন্তু যারা পরের খায় তাদের বয়ানে হারাম হালাল স্বাভাবিক৷ জাত বেজাত স্বাভাবিক৷ কেউ একজন এক জড়াজীর্ণ লোককে জিজ্ঞাস করেছিল আপনি হিন্দু না মুসলিম৷ উনি উত্তর দিয়েছিলেন আমি ক্ষুধাৰ্ত৷ এজন্যই ক্ষুধা দারীদ্রতা মানুষকে সবচাইতে প্রকৃত শিক্ষাটি দেয় আর ধৰ্ম পুঁজিরা দেয় ধিক্কারের বয়ান৷

হারামের জন্য রাস্তায় মিছিল হয়, সমাবেশ হয়, হুমকি হয় তদুপরি মৃত্যু হয় কিন্তু হারাম কিসে হয় সেটা আর বুঝানো হয়না৷ আরবিতে হারাম বলা হয় খারাপকে৷ আপনি গরু খান, উনি পাঁঠা খান, তারা শূকর খায়৷ কেউ কিন্তু খাবার জন্য মরেনি বা  কারো পেট খারাপ হয়নি৷ তবুও হারাম কিংবা খারাপ৷ যদি খারাপের কথা চিন্তা করি প্রত্যেকটা মাংসই প্রোটিনের অভাব পূরণ করলেও মানব শরীরের জন্য অনুপযোগী৷

ঢাকার বৌদ্ধ মন্দির ও ইসকনের মন্দিরের ইফতার বিতরনী৷
ঢাকার বৌদ্ধ মন্দির ও ইসকনের মন্দিরের ইফতার বিতরনী৷

আপনি মিছিল করেন হাইকোর্টে ভাস্কর্য্য কেন বসালো? আপনি মিছিল করেন শিক্ষাগুরুর পক্ষে মানুষ কেন দাড়াবে? আপনার মিছিল হয় নাস্তিককে হুশিয়ারী করতে, হত্যা করতে৷ রোজায় হলি আৰ্টিজনে হামলায় আপনাদের রাস্তায় নামতে দেখা যায়না৷ রোজায় ইফতারের দাওয়াত দিয়ে আট বছরের শিশুর যোনি ফাটলে আপনাদের ফাটেনা,

মিছিল হয়না৷ খাদিজার মাথা আট দশভাগ হলেও তার একভাগ মায়াও আপনাদের মনে আসেনা অন্যতায় কোপানোর জন্য বাহবা দেন৷ তনু আপনার মেয়ে হলে হা হুতাশ করতেন কিন্তু পরের মেয়ে বলে প্রতিবাদ দূরের কথা হিজাব করে কি করেনা তার সন্ধান করেন৷ পাঁচ বছরের শিশু কন্যা পূজা মৃত্যুর সঙ্গে লড়লেও আপনাদের হারাম হালালের মিছিল কিংবা প্রতিবাদ সমাবেশে দেখা যায়না৷

কোন ধর্ষন হলেই আপনাদের মুখ থেকে বেড়ই যদি দেশ কোরআনের আইনে চলত তাহলে পাথর মেরে গলা কেটে ধৰ্ষকের শাস্তি হত৷ তাহলে আর ধর্ষন হতনা৷ কিন্তু যখন মাদ্রাসায় কোন শিশুকে কিংবা ছাত্রীকে ধর্ষন করা হয় আজ পৰ্যন্ত কোরআনের নিয়মে চলা মাদ্রাসাগুলোর কোরআন সম্মত বিচার করতে দেখিনি৷ অন্যতায় ধৰ্মের বদনাম হবে তাই চুপ থাকেন৷ দামাচাপা দিয়ে প্রতিবাদ করেননি৷

রাষ্ট্যধর্ম ইসলামের করার জন্য শ্লোগান
রাষ্ট্যধর্ম ইসলামের করার জন্য শ্লোগান

রাষ্ট্যধর্ম ইসলামের করার জন্য শ্লোগান, স্টিকার আরো কত কি হুমকি ধামকি ছিল আপনারা যেমন জানেন আমরাও জানি৷ অথচ রাষ্ট্য কোন ধর্ম পালন করেনা করে মানুষ৷ একটা সাৰ্বজনীন কোৰ্টে হিন্দুদের দেবী থাকতে পারেনা যদিও থেমিস নামে হিন্দুদের কোন দেবী/প্রতিমা আছে বলে জানা নেই৷  তাহলে একটা সাৰ্বজনীন দেশে ইসলাম রাষ্ট্যধর্ম হয় কি করে,

আপনার বিবেক দিয়ে আপনি ভাবুন৷ বলতে পারেন ৯৫% মুসলমানের দেশ তাইনা? যদি তাই মনে করেন তবে বলেন কিভাবে যে যারা ঘর পোড়ায় তারা মুসলমান না, যারা মন্দির, মূর্তি ভাঙ্গে তারা মুসলমান না, যারা গলা কাটে, হত্যা করে, রোজার দিনে ধর্ষন করে তারা মুসলমান না? তাহলেত বাংলাদেশে মুসলমানই নেই৷ তো ৯৫% মুসলমান পেলেন কোথায়? আপনি বলতে পারেন যে কিছু মানুষের জন্য পুরো ইসলামকে দোষারোপ করতে পারেন না৷ এই কিছু মানুষের জন্য যারা চুপ থাকে, সংখ্যালগুর বেলায় হৈ হৈ করে সমর্থন করে৷ একটা মূর্তি নিয়ে এত কিছু করে তখন কিছু মানুষটা আর থাকে কোথায়?

রোজার সময় দোকান বন্ধ করতে পারেন, রোজা না রাখলে শাস্তি দিতে পারেন, রোজায় শরিয়ত হারাম হালালের বয়ানের বানে ভাষাতে পারেন আর রোজায় ইফতারের কথা বলে ধর্ষন করলে তার কিছু করতে পারেন না৷ এই হলো হিম্মত? আবার রোজার আগে হুমকি দেন ঈদের পরে বড় আন্দোলন করা হবে৷ তবে কি বুঝান যে রোজা থেকে ঈদ পৰ্যন্ত সব অন্যায়ের প্রতিবাদ হারাম নাকি অন্যায় হারাম?

যদি প্রতিবাদ হারাম হয় তবে বছরের কালো মাসটাকে বলেন সংযম আবার মানুষের পেটে লাতি মেরে দোকান ভাঙ্গেন কেন৷ ন্যায় অন্যায়ের ও মাস আছে? ঈদে আপনি যতটা খুশি আমিও খুশি৷ হাসবেন উৎসব করবেন আনন্দে ভাসবেন, ভাসাবেন৷ ঈদ সীমিত নয় চাইলে সারা বছরই করা যায় কিন্তু আপনার বুকে বুক মিলিয়ে কোলাকুলিতো দূরে থাক আপনার পাঞ্জাবী টুপি দেখলেইত ভয় লাগে৷ কেন লাগে তা আপনি ভাবুন৷

এ আতংকের সৃষ্টিতো আপনার৷ আগে নারায়ে তাকবির শুনলে মনে হত জয়োধ্বনি আর এখন তা ভয়োধ্বনি৷ শান্তির ধর্ম বলেন আবার রোজার পরের জন্য হুশিয়ারী দেন৷ মনে হয় রোজায় জনে জনে করেন আর রোজার পরে একসাথে করবেন এরকম অবস্থা বৰ্তমানে৷ শান্তি আবার মুখে বলতে হয়? শান্তিতো কাজে কর্মে মানুষ এমনিতে পায়৷

জানি ধুমপান শরীরের পক্ষে হানিকর৷ কিছু আরব দেশ ব্যতিত অন্য সবগুলোতে খাবারের দোকান সহ সব খোলা থাকে৷ রাস্তায় মানুষ ধুমপান করে৷ যারা রোজা রাখে তাদের সমস্যা হয়না কিন্তু আপনাদের হয়৷ রোজা রাখা অবস্থায় ইফতারি বানাতে তার বাষ্প নাক দিয়ে ঢুকতে পারবে কিন্তু ধুমপানের ধোঁয়া ঢুকতে পারবে না৷

রাস্তায় চলাচল কালে বালি ঢুকতে পারবে৷ এসব জুলুম নাকি নিয়ম? ধৰ্ম করেন ভালো কথা৷ ধৰ্ম কি আপনার মনে থাকে না বাইরের লোকের কাছে বৰ্গা থাকে? ধৰ্মীয় রীতি-নীতি মানেন, আপনার বিশ্বাস আপনি পালন করেন সমস্যা নেই তাই বলে অন্যের স্বাধীনতা মারবেন এ কেমন শান্তির ধৰ্ম৷ আপনি যদি সত্যিই জোর জুলুম না করতেন তাহলে আপনাকে বলতে হতনা, আমি নিজেই আপনাকে সম্মান দিতাম৷ নরক বানিয়ে স্বর্গ খোঁজার নাম ধৰ্ম এটা কেমন বিশ্বাস?

কবরের উপর মসজিদ করলে নামাজ পড়লে হয়না শুনেছি৷ তা হিন্দুর জমি দখল করে মসজিদ করলে সে নামাজ হয়তো? আর পুরো বাংলাদেশইতো একটা কবর৷

আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দান করুক আপনাদের মুখে অনেক শুনেছি৷ তিনি আপনাদের যা দিলেন তাতে মানুষ অতিষ্ঠ৷ আজ ফেরত দিয়ে বলি হেদায়েত নয় যেন আপনাদের প্রকৃত জ্ঞানটুকু দেন৷

আরো পড়ুন…