Sunday, September 19, 2021
Home Bangla Blog বাংলাদেশ ঠিক আফগানিস্তানের পথেই হাটছে!

বাংলাদেশ ঠিক আফগানিস্তানের পথেই হাটছে!

বাংলাদেশ ঠিক আফগানিস্তানের পথেই হাটছে! এবং আফগানদের ইতিহাসের সাথে এক দুই তিন চার করে মিলে যাচ্ছে!!! কুষ্টিয়াতে মসজিদ থেকে নারীদের মাঠে গিয়ে কৃষিকাজ করতে নিষেধ করার খবর পাওয়ার পর আপনাদের নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে হয়েছে এ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?

এমন না ইসলাম মহিলাদের মাঠে গিয়ে কৃষিকাজ করতে নিষেধ করেছে, ইসলাম বলেছে মহিলারা এমন জায়গায় কাজ করতে যেতে পারবে না যেখানে পরপুরুষের অবস্থান রয়েছে। হাদিসে আছে, ‘রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, নারীরা হচ্ছে চাদর এবং যদি সে গৃহের বাইরে যায় তবে শয়তান খুশি হয় (তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে বলে)।

সে (নারী) আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না যতটা সে গৃহে থেকে করতে পারতো’ (ইবনে হিব্বান ও ইবনে আবী খুযাইমাহ, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলা আস সহীহাহ ২৬৮৮)। স্পষ্টত তাই কুষ্টিয়ার মসজিদের ফতোয়াকে গ্রাম্য কাঠমোল্লাদের বানানো কিছু মনে করার অবকাশ নেই।

এ হচ্ছে কলির সন্ধ্যে! আস্তে আস্তে দিকে দিকে নারীর কর্মক্ষেত্রকে ইসলাম দিয়ে প্রতিবন্ধক করা হবে। রাষ্ট্র যখন ইসলাম এবং ইসলামিস্টদের পৃষ্ঠপোষক তখন মাথা পিছু আয় বেড়ে গেলেও নারী হবে অবরোধবাসিনী। সেটাই ঘটছে চারদিকে…।

কৃষিকাজ নিয়ে কিন্তু ইসলামে বেশ ঘাপলা আছে জানেন? গাছপালা সম্পর্কে ইসলাম বেশ পজটিভ এমন হাদিস যেমন আছে তেমন কৃষ্টিকাজের বিরোধী হাদিসও আছে! যেমন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমাদের আদম (আ.) সম্পর্কে বলব। তিনি কৃষিকাজ করতেন। ’ (মুসতাদরাক হাকেম, হাদিস : ৪১৬৫)। আবার অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘এটা (কৃষি যন্ত্রপাতি) যে জাতির ঘরে প্রবেশ করে আল্লাহ সেখানে হীনতা ও নীচতা ঢুকিয়ে দেন (বুখারী-২১৫৩)।

কৃষিকাজের উপর নবীর এই বিরূপতা সৃষ্টি মদিনা যাবার পর। মদিনায় নবী তার অনুসারীদের নিয়ে একটা যুদ্ধবাজ দল বানিয়ে ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। কিন্তু কৃষিজীবী মদিনাবাসী চাষবাস বাদ দিয়ে জিহাদ করতে যুদ্ধের ময়দানে যেতে অনেচ্ছুক ছিলো। নবী ফতোয়া দিলেন, ‘জিহাদ পরিত্যাগ করে কৃষিকাজে নিমগ্ন থাকলে আল্লাহ তাকে অপমান করবেন’ (দাউদ-৩৪২৬)।

কৃষি সামগ্রির উপর নাশকতা করাকে যে কোন মানুষই নিন্দা করে। প্রতিবেশীর সঙ্গে দা-কুমড়া সম্পর্ক, শত্রুতা করে তার ফলে ভরা গাছটা কুপিয়ে কেটে ফেললেন- এরচেয়ে ঘৃণ্য মানসিকতা আর কি হতে পারে? সারা দুনিয়ার মানুষ আপনাকে ছিঃ ছিঃ করবে। ইসলামের নবীও এ ধরণের নাশকতাকে, ফসল ও গাছের উপর যে কোন ক্ষতিসাধণকে অত্যন্ত খারাপ কাজ বলে সব সময় বলতেন।

কিন্তু মদিনায় যাবার পর বদলে গিয়েছিলেন তিনি। বনি নাযির ইহুদীদের অবরোধ করে তিনি ইহুদীদের খেজুরে ভরা বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। ইহুদীরা এর তীব্র নিন্দা করে মুহাম্মদের কাছে বলেছিলো, আপনি না এসব কাজকে খারাপ বলতেন আর এখন নিজেই সেই কাজ করলেন!

মহান আল্লাহতালা তার নবীর সব অপকর্মকে জায়েজ করতে সদা প্রস্তুত থাকতেন। এক্ষেত্রেও তার বেতিক্রম ঘটেনি। নাযিল হলো সুরা হাশরের ৫ নম্বর আয়াত, ‘তোমরা যে খেজুর বৃক্ষগুলো কর্তন করেছ এবং যেগুলো কান্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে এবং যাতে তিনি পাপাচারীদেরকে লাঞ্ছিত করেন’ (সুরা হাশর-৫)। এই ঘটনার কথা ইবনে হিশামেও স্বীকার করা হয়েছ (ইবনে হিশাম, ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৯০)। হাদিসেও (বোখারী-২৭৯৯, তিরমিযী-১৪৯৪) এই ঘটনার কথা স্পষ্ট করে লেখা আছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় জামাত শিবিরের হাতে দেশের বৃক্ষসম্পদ ধ্বংস হবার সময় লোকজন বলত, এরা কিসের ইসলামী রাজনীতি করে গাছপালা ধ্বংস করে…। জ্বি, তারা ইসলামী রাজনীতিই করে, এ কারণেই তারা জানে বনি নাযিরের ফলের বাগানে আগুন লাগানোর ঘটনা…।

“হিজাব করে মহিলারা পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারবে”
     – একটি বহুল প্রচলিত শয়তানি ধোঁকা। 

অতঃপর নারী জাতির সেই পুরনো উক্তি “মেয়েরা কি পড়াশোনা করছে ঘরে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকার জন্য”, “হিজাব করে মেয়েরা কেন বাহিরে কাজ করতে পারবে না?” ইত্যাদি। অবশ্যই নারী ডাক্তার, নার্স, নারী টিচার প্রয়োজন নারীদের জন্যই। এইজন্য নারী শিক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন।

কিন্তু আমাদের সিস্টেমটা এমন যে নারী সারাজীবন শিক্ষা অর্জন করার তাকে এমন পরিবেশে চাকরি করতে হয় যে পরিবেশকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। যেখানে পুরুষ সহকর্মী পাশে বসা থাকে ওই পরিবেশে হিজাব করে চাকরি করার কথা বলা লেইম জোকস ছাড়া কিছুই না। হইত আপনি হিজাবের সংজ্ঞা বুঝেন না, আর না হয় শয়তানি ধোঁকায় আপনি আক্রান্ত। এই বিষয়ে বিস্তারীত জানতে ইসলামী এই সাইটি দেখুন। 

RELATED ARTICLES

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন!

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন! সবচেয়ে বড় কথা হল আইএসআইয়ের এই সম্পূর্ণ...

আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।

শরণার্থী : আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে ইসলামী মৌলবাদিদের জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।নিউজিল্যান্ড ইসলামী জিহাদিদের ছুরি হামলা, হামলাকারী একজন শ্রীলংকান মুসলিম শরণার্থী। অন্য দিকে জার্মানিতে...

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে।

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে। কেরালার হিন্দুদের কাছ থেকে ভারতের অনেক কিছু শেখার আছে। কাশ্মীরি...

Most Popular

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন!

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন! সবচেয়ে বড় কথা হল আইএসআইয়ের এই সম্পূর্ণ...

আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।

শরণার্থী : আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে ইসলামী মৌলবাদিদের জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।নিউজিল্যান্ড ইসলামী জিহাদিদের ছুরি হামলা, হামলাকারী একজন শ্রীলংকান মুসলিম শরণার্থী। অন্য দিকে জার্মানিতে...

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে।

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে। কেরালার হিন্দুদের কাছ থেকে ভারতের অনেক কিছু শেখার আছে। কাশ্মীরি...

মন্দির-মসজিদ সহাবস্থান যতগুলি ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিজ্ঞাপন দেখেন তার সবগুলিই মন্দির আগে প্রতিষ্ঠা হয়েছে তারপর মসজিদ।

মন্দির-মসজিদ সহাবস্থান যতগুলি ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিজ্ঞাপন দেখেন তার সবগুলিই মন্দির আগে প্রতিষ্ঠা হয়েছে তারপর মসজিদ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একজন মুসলিম যুবক চন্দ্রনাথ ধামে...

Recent Comments

%d bloggers like this: