মমতাজ…, মমতাজ…, তোমার তাজমহল যেন…

না, আমি নজরুল গীতি শোনাতে আসি নি। তাজমহল নিয়ে খুব বিতর্ক চলছে তো,  ভাবলাম আগড়ম বাগড়ম আমিও কিছু বলি –

আমরা সবাই ইতিহাসে পড়েছি – মুমতাজের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তৈরী “তাজমহল” হল “ভালবাসার প্রতীক”, “প্রেমের সৌধ”…!!!
আহা, কি অপূর্ব প্রেম – শাহজাহান চাঁদনী রাতে জোৎস্না বিধৌত শ্বেতশুভ্র তাজমহলের দিকে দূর থেকে চেয়ে থাকতেন, আর স্মরণ করতেন প্রিয়তমা মমতাজকে ! আহা, কি রোমান্টিক… !
কি, এমনই তো শিখিয়েছে কমরেড রোমিলা থাপার আর জনাব ইরফান হাবিবেরা?

কিন্তু আমরা কি জানি ……………………………….?

১. শাহজাহানের সাত বিবির মধ্যে মুমতাজ ছিল চতুর্থ।
২. শাহজাহান মুমতাজ কে শাদি করার জন্য মুমতাজের স্বামীকে নৃশংস ভাবে খুন করেন।
৩. চোদ্দো তম সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মুমতাজ মারা যায়।
৪. মুমতাজের মৃত্যুর পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মুমতাজের বোনকে শাদি করে শাহজাহান।

কি, কোথাও খুঁজে পেলেন প্রেম? যাদের হাজারটা বিবির হারেম থাকে তারা নাকি বিবি বিরহে তাজমহল তৈরী করেছিল ! ঠিক আছে, সবার প্রেমের ধরণ এক হবে, এমন তো কোন কথা নেই।

এবার একটু অন্যরকম করে ভেবে দেখি তো –

   ১) মোগলরা নাকি এত স্থাপত্য পারদর্শী, কিন্তু তাদের পিতৃপুরুষের দেশগুলোতে এরকম স্থাপত্য নেই কেন ? ভারতে অনুপ্রবেশের পূর্বে আরব দুনিয়াতে, বা মোঙ্গোলিয়া বা পারস্যতে তাজমহলের মতো এই ধরনের একটাও, হ্যাঁ একটাও স্থাপত্য বানাতে পেরেছিল কি সেখানকার কোরান শিক্ষিত, মাদ্রাসা শিক্ষিত সহী মুছলমানরা থুড়ি সেখানকার “মানুষেরা” …???!!!
কুতুবমিনার, লালকেল্লা, তাজমহল সবই ভারতে এসে বানিয়েছিলো… কি তাই তো…??!! তাহলে কি ভারতের মাটিতে পা দিয়েই এই বর্বর যাযাবর মরু দস্যুদের শিল্প প্রেম জেগে উঠেছিল? ভারতে তারা স্থাপত্য বানিয়েছিল, নাকি তৈরীগুলোতে নিজেদের নাম লিখেছিল?

  ২) আগের বিচ্ছিন্ন লুঠেরা আর দস্যুদের কথা বাদ দিলে  ১২০৬ সাল থেকেই তো মুসলিমদের শাসনকাল পাকাপাকি ভাবে ভারতে শুরু হয়েছিল। আচ্ছা,  তার আগে কি হিন্দু রাজারা নিজেদের জন্য মহল তৈরী করেনি? সেই হিন্দু রাজাদের মহল গুলি সব কোথায় গেল? হিন্দু স্থাপত্য দক্ষিণ ভারতে প্রচুর। কিন্তু উত্তর ভারতে নেই কেন? কখনোই ছিল না, নাকি এখন নেই?

   ৩) এতো আধুনিক প্রযুক্তি থাকতেও আসানসোল থেকে পানাগড় অবধি ৪ লেন রাস্তা তৈরী করতে ৪ বছর সময় লেগে গেল, অথচ ঐ ঐতিহাসিকরা শিখিয়েছে শেরশাহ নাকি (১৫৪০ থেকে ১৫৪৫) এই ৫ বছরের শাসন কালে কলকাতা থেকে কাবুল অবধি জি.টি রোড তৈরী করেছিল ! তাহলে তো বলতে হয়, ভারতে ‘বুলেট ট্রেন’ চালুর আগেই ‘বুলেট রোলার’ চালু হয়েছিল, শের শাহর হাত ধরে !

সব ভুল, আমাদের জানার সবটাই ভুল। এক দীর্ঘকালীন সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অঙ্গ হিসেবেই ভারতের ইতিহাস বিকৃতি। কারন ওরা জানে কোনো জাতিকে ধংস করতে হলে সেই জাতির গৌরবময় আর সম্পদশালী ইতিহাসটা আগে ধংস করা দরকার …।

  ভাবুন, ভাবুন, নতুন করে ভাবার প্র্যাকটিস করুন। ইরফান হাবিব, রোমিলা থাপারের ইতিহাস পড়ে নয়, নিজের বিদ্যা, বুদ্ধি, যুক্তি দিয়ে খোলা মনে ভাবুন…, দেখবেন এতদিন যা জেনে এসেছেন, সব ভুল, সব ভু…… ল !

(সংকলিত)