প্রফেট মুসাই শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীকৃষ্ণকে ক্রুশে চাপিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো যীশুর মত, না যীশুর মত না, যীশু আর কৃষ্ণ আসলে একই- মানে এদের সূত্র উৎস সব এক। সবগুলো আর্য ধর্মের কিচ্ছা কল্পনা থেকে সৃষ্টি। আমরা এখন দেখবো দুনিয়ার সমস্ত ধর্মের উৎসকে। কেমন করে জন্ম নিল অবতার আর নবীরা। আর এজন্য যে জাতি ইতিহাসে মহান ও অমর হয়ে আছে সেই আর্য জাতির কাছেই আমাদের যেতে হবে। ইতিহাস বলছে মধ্য এশিয়ায় এই আর্য জাতির বাস ছিল। এরা ভ্রাম্যমান জীবন যাপন করতো। পরে এদের বিভিন্ন শাখা পূব-পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমে পারস্য সাম্রাজ, ইতালিতে রোম সাম্রাজ, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও আরেক দল মধ্য এশিয়া ছেড়ে সমুদ্র পাড়ি দেয়। আর্যদের একটি শক্তিশালী শাখা হিমালয় পাড়ি দিয়ে পাঞ্জাব এসে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতবর্ষে এরাই হলো ‘ব্রাক্ষণ’।

যাযাবররা পদব্রজে বেরিয়ে দেশ থেকে দেশান্তরিত হয়েছে নিজেদের সহায় সম্বল নিয়ে। যেখানেই গিয়েছে তারা সেখানেই তাদের ধর্মগ্রন্থ (লিখিত থাক বা মু্খে মুখে রচিত) সঙ্গে গেছে। এরা মূলত শক্তির পূজারী ছিল। সূর্য ছিল তাদের কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী। সূর্য আলো দিয়ে অন্ধকার দূর করে। ফসল ফলায়।সমস্ত সৃষ্টির মূল্যে সূর্য।একেই সঙ্গে সূর্যের সংহার মূর্তির সঙ্গেও আর্যরা পরিচিত ছিল। তাই সূর্য দেবতার মাঝে তারা ত্রিমূর্তি দেখতে পেয়েছিল।সৃষ্টিকর্তা-পালনকর্তা-শাস্তিদাতা- এ হচ্ছে ত্রিমূর্তি। (আমরা এখন স্মরণ করতে পারি ভারতবর্ষে হিন্দু বিশ্বাস মতে ঈশ্বরের তিন রূপ, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শিব!)

আর্যরা বিশ্বাস করতো সূর্য আকাশের পুত্র।আর সূর্যের মাতা হলেন পৃথিবী।প্রতি বছর ২৫শে ডিসেম্বর যখন সূর্য উত্তর দিকে যাত্রা করতো আর্যরা মনে করতো সেদিন সূর্য তার মাতার গর্ভ থেকে বেরিয়ে পূর্ব দিকে উদয় হচ্ছে।সূর্যের জন্মদিন তাই ২৫ ডিসেম্বর। (খেয়াল রাখুন, যীশুর জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর!) সূর্যের জন্মবার্তা বয়ে আনে সকালের একটি তারকা যা ভোর ও সূর্য উঠার আগে আকাশে দেখা দেয়, মানুষ ভাবতো অন্ধকার ভেদ করে সূর্য উদয় হচ্ছে, এই অন্ধকারকে কালক্রমে পাহাড়ের গুহা, অন্ধকার কারাগার কল্পনা করা হয়েছে কবির কল্পনায়। আমরা এই পর্যায়ে যীশু ও শ্রী কৃষ্ণের জন্ম সময়ের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করতে পারি। বিষ্ণু পুরান অনুযায়ী শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন কিন্তু ২৫ ডিসেম্বর এবং তাকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়!তার জন্ম সময়ের ঘটনা মিলে যায় যীশুর জন্ম সময়ের পরিস্থির সঙ্গে।মিলে যায় মুসা নবীর জন্ম সময়ের ঘটনার সঙ্গে।হিন্দু ধর্মে শক্তিদেবকে বিড়াট এক মাছ গিলে ফেললেও তিনি জীবন্ত বেরিয়ে আসেন, যেমন ইউনুস নবী মাছের পেট থেকে বেরিয়ে আসেন!চন্দ্র দ্বিখন্ডের ঘটনা মোটেই নতুন কোন ঘটনা নয়। মুহাম্মদের ভক্তরা শুনে মনোক্ষুণ্ন হবে মাতঙ্গ নামক এজন বুদ্ধ শিষ্য নাকি আগেই চন্দ্র দ্বিখন্ড করেছিলো!( মনে হচ্ছে চন্দ্র দ্বিখন্ড করা একটা ফ্যাসান ছিল অবতারদের!)।

ইহুদী বলে এখন যারা পরিচিত গৌতম বুদ্ধের সময়কালে তারা তিনটি গোষ্ঠিতে বিভক্ত ছিল- ফারিসিজ, এসেনিজ ও সাদুসিজ। এই সাদুসিজরাই পরে মুসা নবীর কিংবদন্তি অনুসারী হয়। ফারিসিজ ও এনেসিজরা ছিল গৌতম বুদ্ধের অনুসারী। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দিতে সেলুসিড ও টলেমী রাজ্যে যে বুদ্ধবাদ প্রতিষ্ঠিত ছিল তা সম্রাট অশোকের অধ্যাদেশ সম্বলিত শিলাখন্ডে থেকে জানা যায়। বহু প্রমাণ রয়েছে গবেষকদের হাতে এসেনিজ গোষ্ঠিরাই পরে খ্রিস্টান ধর্মের সূচনা করে। বৌদ্ধবাদের যে অহিংস মতবাদ যীশুর চরিত্র নির্মাণে তার ছোঁয়া খুঁজে পাওয়া যায়। তার কুমার জীবন, খ্রিস্টান ফাদার-সিস্টারদের বৈরাগ্য জীবন সবই প্রাচীন এসেনিজদের ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল। এসেনিজরা ফেরেস্তা, বেহস্ত-দোযগ, পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, ক্রুশ বিদ্ধ ঈশ্বর পুত্রের পাপমোচন ইত্যাদিতে বিশ্বাস করত। এসেনিজরা আরো বিশ্বাস করত গৌতম বুদ্ধ ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন তার মৃত্যুর ষোলশো বছর পর একজন অবতার পৃথিবীতে আসবেন। সেই সময়কাল পার হলে এসনিজ ইহুদীরা যারা বুদ্ধিস্ট ছিল তারাই যীশুর আবির্ভাবের ঘোষণা দেন। পরে যীশুর জন্ম কাহিনীটি আর্যদের সূর্য কিংবদন্তির সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয় (Quoted is Higgin’s Anacalypsis, vol ii P.3)।

রাশিচক্রে সূর্য যখন মেষ রাশি অতিক্রম করতো তখন আর্যরা মেষের পূজা করতো।পরবর্তীকালে এটাই হয়ে দাঁড়ায় ঈশ্বরের মেষপালক-এ তো সহজ অনুমান।বেদের আর্যরাও মনে করে রাশিচক্রের শেষ সূর্য দেবতা।ক্রুশ প্যাগনদের কাছে কোন অপরিচিত চিহ্ন ছিল না।যীশুর আজকের যে চেহারা তা স্পষ্ট করে ইউরোপীয়ান মূর্তি।এই যীশু একদিনে গড়ে উঠেনি।মানুষের রূপে সে পূজীত হবার আগে ভেড়ার রূপে অতীতে তাকে স্মরণ করা হয়েছে।চার্চের গোপন নথিতে তার প্রমাণ রয়েছে। আর এই মেষ আর্যদের সূর্য পুরান থেকেই জন্ম নিয়েছিল।

সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে আর্যদের ছিল নিজস্ব ব্যাখা। কেন জগত সৃষ্টি হলো- তার উত্তর দিয়েছিল আর্যরা।কালক্রমে গল্পের চরিত্র বা পটভূমি পাল্টে গিয়েছে কিন্ত মূল থিম একই রয়ে গিয়েছে। আজকের সর্বশেষ ধর্ম বলে দাবীকারী ধর্মও সেই প্রাচীন সূর্য পুরনাকেই গ্রহণ করেছে। বেদ রচিত হয়েছিল খৃষ্টপূর্ব ১৫০০ বছর আগে (আনুমানিক)।হিন্দু ধর্ম সৃষ্টি তত্ত্ব বলছে, শিব, মহেশ্বর ব্রহ্মাকে প্রলোভিত করে স্বর্গ থেকে ডুমুর গাছের একটি ফুল ফেলে দেন। ব্রহ্মা তার স্ত্রী শতরূপার দ্বারা মন্ত্রনা পেয়ে ফুলটি আত্মসাৎ করতে চান এই লোভ চিন্তা করে যে, এর মাধ্যমে সে অমর হতে পারবে।ফুলটি ব্রহ্মা গ্রহণ করলে শিব রেগে যান এবং ব্রহ্মাকে অভিশাপ দেন যাতে সে দু:খ-দুর্দশায় আক্রান্ত হন। (আমরা বোধহয় এবার আদম ও হাওয়ার গন্ধম ফল ভক্ষন ও আল্লার অভিশাপ লাভের গল্পটাকে এখন স্মরণ করতে পারি!)

মানুষের পাপ ও তার ফল ভক্ষনের নতিজা সব সমাজই জোরসে প্রচার করেছে। প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার একমাত্র ব্যাখ্যা ছিল মানুষের পাপ। নূহের মহপ্লাবণ ক্ষুদ্র উপজাতিদের মধ্যেও প্রচলিত ছিল। যেখানে নলখাগড়ার বন মানুষকে বার্তা দেয় মহাপ্লাবণের যেখানে জোড়া জোড়া প্রাণী রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।মহাপ্লাবনের কাহিনী হিন্দু ধর্মেও প্রচলিত আছে।একইভাবে স্বর্গ ভ্রমণ মোটেই চমকে দেয়ার মত কোন ঘটনাই না।বাইবেল বলছে পর্বতের পাথরের উপর দিয়ে স্বর্গে আহরনে কথা।খ্রিস্টানরা এভাবে স্বর্গ ভ্রমণ করে আসলে মুহাম্মদ আর বসে থাকবে কেন? তার ভক্তরা বিশ্বাস করে গাধা বা খচ্চরের পিঠে চড়ে তিনি স্বর্গারোহন করেছিলেন। যেখানে গিয়ে তিনি মুসা, যীশুর মত সূর্য পুরাণ থেকে জন্ম নেয়া কাল্পনিক চরিত্রদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে এসেছিলেন! ভদ্রলোকের অসম্ভব কল্পনা শক্তি ছিলো বলতে হবে…!

এই গোটা লেখাটায় দেখানো হয়েছে আর্যরা এমন এক জাতি যারা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িছিটিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, পুরানকে স্থানীয়দের ধর্ম বিশ্বাসে ও পুরানের সঙ্গে একটা সংমিশ্রন করে।মূল ধর্মীয় কনসেপ্ট, ঈশ্বরের রূপ তাদের সূর্য পুরান অনুযায়ীই এগিয়েছে।