প্রধানমন্ত্রী মুসলিম বিশ্বকে এক হতে বলেছেন, জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী হতে দেবেন না।
আমার কয়েকজন মুসলিম বন্ধুদের দেখছি তারা বেশ সরব সোস্যাল মিডিয়াতে কিংবা চায়ের টেবিলে। তারা সবাই প্রায় জেরুজালেমকে একমাত্র তাদেরই দাবি করেন এবং ইহুদি কিংবা ইসরাইলিদেরকে উচ্ছেদের নামে-জিহাদের ডাক দিতে চান।
মেনে নিলাম জেরুজালেম মুসলিমদের পবিত্রস্হান, তাই সমগ্র বিশ্বের মুসলিমদের জেরুজালেম বিষয়ে নাক গলাতে হচ্ছে। কিন্তু এখন যদি ভারতে রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুরা আন্দোলনে নামে, ঠিক তখনি বলা হবে বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতের দালাল। মক্কা- মদিনা কিংবা জেরুজালেম রক্ষা করাটা যেমন সমগ্র বিশ্বের মুসলিমদের দায়িত্ব, তদ্রুপ গয়া- কাশী- বৃন্দাবন- অযোধ্যা ইত্যাদি রক্ষা করাটাও বিশ্বের সকল হিন্দুর দায়িত্ব। আপনারা যদি জেরুজালেম রক্ষায় ইহুদিদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন, তবে আমরা কেন রাম মন্দির রক্ষায় রাম মন্দির বিরোধীদের সঙ্গে জিহাদ করতে পারবো না? ধর্মীয় অনুভূতি আপনাদের যেমন আছে, আমাদেরও আছে।
বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে একটা জনশ্রুতি আছে যে- তাদের এক পা বাংলাদেশে, আরেক পা নাকি ভারতে। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের ভারতবর্ষের প্রতি টান কেনো? কেনই বা তারা এক পা ভারতে দিয়ে রেখেছে? কেউ কি এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন?
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়াতে এই অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয় সব শ্রেণীর হিন্দুকেই। কোন এক সময় বাংলাদেশের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হিন্দুদের দেহ বাংলাদেশ আর মন নাকি ভারতে।
বিএনপি ও জামায়েতের অভিযোগ আরও বেশি। দেশ মাতৃকার সম্পত্তি হিন্দুরা নাকি ভারতে পাচার করে দিচ্ছে। হিন্দুরা চাকরি করে বাংলাদেশে, কিন্তু টাকা পাঠায় কলকাতায়। এ জন্যই নির্বাচনে জয়ের পরে তারা প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে হিন্দু তাড়ানোর অভিযান শুরু করে। ১৯৪৭ সালের আগে এই দেশে হিন্দুদের সবকিছুই ছিল। দেশভাগ হওয়ার পরেও যারা এই দেশেই থেকে গিয়েছিল- ভুলটা তারাই করেছিল। ঈশ্বর তাদের দেশপ্রেমের শাস্তি দিয়েছেন অত্যন্ত নির্দয় ভাবে।
যার কারণে আমরা হিন্দুস্তানের তীর্থক্ষেত্র রক্ষায় আন্দোলন করতে পারছি না, আন্দোলন করতে গেলেই আপনি ভারতের দালাল ট্যাগ পাবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে থেকে, বাংলাদেশের খেয়ে আরবের তীর্থস্হান রক্ষায় মুসলিমরা ঠিকই আন্দোলন করতে পারছে।

নয়ন শাহা।