এদেশের দাসত্বের সূত্রপাত ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধ নয়, ১১৯২ সালের দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানের পরাজয়ের পর থেকে। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার তেমনই মনে করতেন এবং এই কারণেই তাঁকে স্বাধীনতার পর গঠিত হওয়া ( ভারতের ইতিহাস লেখার) প্যানেল থেকে সুকৌশলে সরিয়ে দেওয়া হয়। নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখলে ব্রিটিশ শাসনের ইতিবাচক দিকগুলিকে অস্বীকার করা যায় না। রাম মোহন রায় থেকে বঙ্কিমচন্দ্র অনেকেই এবিষয়ে পর্যবেক্ষণ রেখেছেন। ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে এদেশের কি অবস্থা হত ( বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সামাজিক অগ্রগতি) তা ইসলামিক রাষ্ট্রগুলির দিকে নজর রাখলেই উপলব্ধি করা যায়।  শাদা চামড়ার প্রভু বলেই তার সব কিছুই নেতিবাচক আর কালো চামড়ার আক্রমণকারী হলেই মধু, এমন ধারণা বাতুলতা মাত্র। স্বাধীনতার পর আমাদের কালো চামড়ার নেতারা দেশের কম সর্বনাশ ঘটায় নি। এবং এই অত্যাচার, দুর্নীতি,  স্বজনপোষণ ব্রিটিশ প্রভুদেরও লজ্জা দেবে। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা অর্জন  প্রকৃতপক্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে আবার আরব সাম্রাজ্যবাদের অধীনে ফিরে আসা। স্বাধীনতা উত্তর বিদেশ নীতি থেকে তথাকথিত মেকি ধর্মনিরপেক্ষতার ( pseudo secularism) অনুশীলন সেদিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করে। অনেক মূল্যায়ন,  পুনর্মূল্যায়নের আবশ্যকতা আছে। শুরুও হয়েছে। এ নিয়ে আমারও কিছু লেখার ইচ্ছে আছে। কেবল নেতাজী সুভাষচন্দ্র নন, অনেক বুদ্ধিজীবী, ঐতিহাসিক, জননেতা, সমাজ কর্মীকে হয় সুপরিকল্পিতভাবে ব্রাত্য করা হয়েছে অথবা তাঁদের মতামত, পর্যবেক্ষণের খণ্ডিত রূপটিই মানুষের সামনে রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বাবা সাহেব আম্বেদকরের ইসলাম সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিটি সুকৌশলে আড়াল করে অবশিষ্ট যা কিছু কাজে লাগানো যায়, সেই প্রচেষ্টাই হয়ে এসেছে। বাকিটা ইতিহাস।