Saturday, September 25, 2021
Home Bangla Blog হিন্দু চরিত : উপমহাদেশের ধর্মান্তরিত মুসলমানেই চোখে।

হিন্দু চরিত : উপমহাদেশের ধর্মান্তরিত মুসলমানেই চোখে।

হিন্দু চরিত : উপমহাদেশের ধর্মান্তরিত মুসলমানেই চোখে
————————————————————–
উপমহাদেশের ধর্মান্তরিত মুসলমান, তাদের ইসলাম গ্রহণ নিয়ে গর্ব করে বলে, ইসলাম তাদের হিন্দুত্বের বর্ণবাদী সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দিয়েছে । ভারতীয় উপমহাদেশের ধর্মান্তরিত সাচ্চা মুসলমানের চোখে ‘হিন্দু’ শব্দটা উপেক্ষা, অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য এবং এক ধরণের ঘৃণার । আসল গন্ডগোলটা অন্যত্র । ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামী জনসংখ্যার বৃহতাংশ মাদ্রাসা শিক্ষিত মুসলমান এতটাই উচ্চ শিক্ষিত এবং জ্ঞানী, যে তারা এই উপমহাদেশের ইতিহাসকে নিজেদের আঙ্গিকে পাল্টানোর চেষ্টা করেছে, আর্থ-সামাজিক সত্যগুলোকে নিজেদের মত ব্যাখ্যা করে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার অনবরত চেষ্টা বহুকাল আগে থেকেই করে চলেছে । চলুন পাঠক, আজকে এই উপমহাদেশের ধর্মান্তরিত মুসলমানের ‘হিন্দু’ দের নিয়ে একটু কচলাই ।

ভারতের সংবিধানের প্রথম বাক্য বলছে :’India, that is Bharat, will be a Union of States’ । সোজা মানে : যা ইন্ডিয়া, তাই ভারত, যেমন যা ইরান তাই পারস্য বা যা এবিসিনিয়া তাই ইথোপিয়া……..। ভারতীয় সংবিধানের কোথাও ভারতবর্ষের কোনো উল্লেখ নেই, শুধু ভারতই বলা হয়েছে । ১৯৪৭ এর দেশভাগ, ভারতবর্ষ থেকে ভারত আর পাকিস্তান সৃষ্টি দুটো পৃথক ভুখন্ড সৃষ্টি করেছিল । এই বিভাজনকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতেই সেদিন ‘ভারতবর্ষ’ থেকে ‘বর্ষ’ টা কাটা পরেছিলো । পাঠক, সত্য হলো, রাজনৈতিক অর্থে ভারতবর্ষের কোনো অস্তিত্ব নেই, কেবল মাত্র ভৌগোলিক অর্থেই সেটা বেঁচে আছে । একটা সত্য এখানে অস্বীকার করলে চলবেনা । এই ভারতবর্ষ কিন্তু এক অর্থে বিশাল ভাগ্যবান । বিশ্বে সকল দেশের কিন্তু প্রাকৃতিক সীমারেখা নেই যেমনটা ভারতবর্ষের আছে । প্রাকৃতিক সীমারেখা না থাকার ফলে পোল্যান্ডকে অনেক দূর্ভোগ পোয়াতে হয়েছিল । বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতবর্ষ বলতে হিমালয়ের দক্ষিণে সমুদ্র বেষ্টিত ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সমগ্র ভূখণ্ডকেই বোঝায় । উত্তর-পশ্চিমে যার বালুচিস্তান, তার উপরে আফগানিস্তান,ইরান, রাশিয়া । উত্তরে নেপাল, তিব্বত ,পূর্বে মায়ানমার, চীন । বাকি সীমানা সমুদ্র দিয়ে চিহ্নিত । বৃহদাংশ উপমহাদেশের ধর্মান্তরিত মাদ্রাসাছাপ মুসলমানেরা ভারতবর্ষকে ‘হিন্দুস্তান’ উল্লেখ করে । সংক্ষেপে এই উপমহাদেশকে ‘হিন্দ’ বলা হয়েছে কখনো আর ভারতবর্ষের জয় থেকেই উৎপত্তি হয়েছে ‘জয় হিন্দ’ বিজয় ধ্বনির । বাস্তব সত্য হলো, সাম্প্রতিক অতীত বিংশ শতাব্দীতেই ফারসী ‘হিন্দুস্তান’ রূপান্তরিত হয়েছিল হিন্দি হিন্দুস্তানে এবং এই রূপান্তরের ফলে উপমহাদেশের অধিকাংশ ধর্মান্তরিত মাদ্রাসাছাপ মুসলমানেরা এর অর্থ ব্যাখ্যা করলো যে : ‘হিন্দুস্তান’ মানে হিন্দু ধর্মালম্বীদের দেশ । এই মূর্খের দলের এটা বোধের বাইরে যে, ‘হিন্দুস্তান’ শব্দের সাথে হিন্দু ধর্মের কোনো আবশ্যিক সম্পর্ক নেই । ‘হিন্দুস্তান’ বলতে সংকীর্ণ অর্থে উত্তর ভারতকে বোঝায়, যাকে একসময় ‘আর্যাবত’ বলা হতো । ধর্ম নির্বিশেষে এই অঞ্চলের সকলকেই হিন্দুস্তানী বলা হতো । অষ্টাদশ শতাব্দীতে, পরাক্রান্ত মুঘল রাজাদের পরে কে মসনদে বসবে তার ভার এসে পরেছিল সাঈদ ভাতৃদ্বয় আবদুল্লা খান ও হুসেন আলী খানের উপর । এই দুজনেই নিজেদের সগৌরবে হিন্দুস্তানী পরিচয় দিত, অথচ এরা ইসলাম ধর্মালম্বী ছিল । এই হিন্দুস্তানীদের প্রতিপক্ষরা ছিল ভিনদেশী ‘তুরানী’ গোষ্ঠী, যাদের নেতৃত্ব দিতো চীন-কিলিচ-খান, নিজাম-উল মুল্ক । পরবর্তীতে নরপিশাচ নাদীর শাহের অনুসারীদের বলা হতো দুরানী । পাঠক, এটাই অকাট্য প্রমান যে ‘হিন্দুস্তান’ এর কোনো ধর্মীয় তাৎপর্য নেই, আছে কেবল ভৌগোলিক তাৎপর্য ।
উপমহাদেশের অধিকাংশ ধর্মান্তরিত মাদ্রাসাছাপ মুসলমানের উদ্দেশ্যে বলতে হয় হিন্দুস্তান শব্দটির মূল সিন্ধু নদ । তখনের পারস্যবাসী ‘স’ কে ‘হ’ উচ্চারণ করতো আর আরবীরা ‘প’ কে ‘ফ’ । তাই সিন্ধু হলো হিন্দু আর পারসী হলো ফারসী । সর্ব শক্তিমানকে পারসীরা বলতো ‘অহুর মাজদা’ অর্থাৎ সে যেমন বলীয়ান তেমনই বুদ্ধিমান । ভারতীয়ের উচ্চারণে অহুরের ‘হ’ হলো ‘স’, জন্ম নিলো হিন্দুদের অসুর আর এভাবেই সিন্ধু নদের তীরবর্তী বাসিন্দারা হয়ে উঠলো ‘হিন্দু’ । এই উপমহাদেশের ধর্মান্তরিত মুসলমান যখন দ্বিজাতিতত্ত্বের ভাওঁতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে :’হাত মে বিড়ি, মু মে পান , লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ স্লোগান তুলে ধর্মীয় হিংসায় মেতেছিল, তখন এই মাদ্রাসাছাপ ধর্মান্তরিত মুসলমানেই বোধের আওতাতেই আসেনি যে, ভৌগোলিক হিন্দুরা রাজনৈতিক পাকিস্তানী হতে চলেছে ।

পাঠক, এবারে লেখা শেষ করবো কিছু তথ্য তুলে ধরে । অস্টিক, দ্রাবিড়ীয়, আর্য ভাষা গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয় ঘটেছে ভারতীয় সভ্যতায় । এই সমন্বয়ের ফলেই জন্ম হয়েছে ‘হিন্দু’ ধর্মের । হিন্দু ধর্মের বিকাশে সংস্কৃতভাষী আর্যরা নেতৃত্ব দিলেও তারা একাধিপত্ব পায়নি আর তাই ‘হিন্দু’ ধর্মে সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন হয়েছে যা উপমহাদেশের ধর্মান্তরিত মুসলমানের ‘ইসলাম’ এ কল্পনার বাইরে । ধর্ম মানুষের সৃষ্ট একটা ইউটোপিয়া ছাড়া আর কিছুই না, তাই ধর্মান্তরিতরা এর চর্চা থেকে বিরত থাকলেই মানব সমাজের উপকার ।

রেফ : ‘ভারতবর্ষ ও ইসলাম’ – সুরজিত দাশগুপ্ত ।

RELATED ARTICLES

কন্যাদান : হিন্দুমিসিক হিজাবি বলিউড-কর্পোরেটদের দ্বারা কন্যাদানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রচার।

কন্যাদান: হিন্দুমিসিক হিজাবি বলিউড-কর্পোরেটদের দ্বারা কন্যাদানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রচার। হিন্দুমিসিক বলিউড মাফিয়া এবং কর্পোরেটরা নারীর ক্ষমতায়নের আড়ালে হিন্দু ঐতিহ্য, আচার -অনুষ্ঠান এবং উৎসবের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ...

আর্য আক্রমণ তত্ত্ব মিথ্যা এবং আর্য সভ্যতার প্রমাণ সিন্ধু সভ্যতা।-দুর্মর

আর্য আক্রমণ তত্ত্ব মিথ্যা এবং আর্য সভ্যতার প্রমাণ সিন্ধু সভ্যতা। আমাদের দেশের সরকারি বইয়ে আর্যদের আগমনকে 'আর্য আক্রমণ তত্ত্ব' বলা হয়। এই বইগুলিতে আর্যদের...

আজ ভারতীয় হিন্দু সমাজ প্রায় নিশ্চিন্ন মাত্র একটি শব্দের প্রভাবে ।-ডাঃ মৃনাল কান্তি

মাত্র একটি শব্দের প্রভাবে আজ ভারতীয় হিন্দু সমাজ প্রায় নিশ্চিন্ন।-ডাঃ মৃনাল কান্তি আপনি নিশ্চয়ই ভারত মাতা কি জয়, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো শব্দগুলি প্রতিদিন শুনেছেন।...

Most Popular

কন্যাদান : হিন্দুমিসিক হিজাবি বলিউড-কর্পোরেটদের দ্বারা কন্যাদানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রচার।

কন্যাদান: হিন্দুমিসিক হিজাবি বলিউড-কর্পোরেটদের দ্বারা কন্যাদানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রচার। হিন্দুমিসিক বলিউড মাফিয়া এবং কর্পোরেটরা নারীর ক্ষমতায়নের আড়ালে হিন্দু ঐতিহ্য, আচার -অনুষ্ঠান এবং উৎসবের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ...

আর্য আক্রমণ তত্ত্ব মিথ্যা এবং আর্য সভ্যতার প্রমাণ সিন্ধু সভ্যতা।-দুর্মর

আর্য আক্রমণ তত্ত্ব মিথ্যা এবং আর্য সভ্যতার প্রমাণ সিন্ধু সভ্যতা। আমাদের দেশের সরকারি বইয়ে আর্যদের আগমনকে 'আর্য আক্রমণ তত্ত্ব' বলা হয়। এই বইগুলিতে আর্যদের...

আজ ভারতীয় হিন্দু সমাজ প্রায় নিশ্চিন্ন মাত্র একটি শব্দের প্রভাবে ।-ডাঃ মৃনাল কান্তি

মাত্র একটি শব্দের প্রভাবে আজ ভারতীয় হিন্দু সমাজ প্রায় নিশ্চিন্ন।-ডাঃ মৃনাল কান্তি আপনি নিশ্চয়ই ভারত মাতা কি জয়, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো শব্দগুলি প্রতিদিন শুনেছেন।...

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন!

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন! সবচেয়ে বড় কথা হল আইএসআইয়ের এই সম্পূর্ণ...

Recent Comments

%d bloggers like this: