মসলমানদের নামের আগে মোহাম্মদ শব্দ জুড়ে দিতে হয়। হিন্দুদের নামের আগে শ্রী (যদিও হিন্দু সমাজে বতমানে এর উপস্থিতি নাই)। উপমহাদেশর বাইরে পৃথিবীতে আর কথাও এমন বাধ্যাকতা নাই। ইউরোপীয়রা যখন আমাদের উপমহাদেশে এলো তখন তারা খালি হাতে আসেনি। তারা সাথে নিয়ে এসেছিলো মুঠো ভর্তি করে তাদের সংস্কৃতি, আইন, কানুন ও বুদ্ধিমত্তা। ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আমদের চলতে হয়েছে সুদীর্ঘ দুই শত বছর। যদিও বাঙলার হাজার বছরের সভ্যতার কাছে দুইশত বছর খুব বড় ও লম্বা একটা সময় না কিন্তু ব্রিটিশদের অনেক কিছুই আমাদের সমাজ ও মানুষজনের ভিতরে স্থায়ী করে যায়গা করে নিয়েছে।

জমি জমা সংক্রান্ত যে আইনগুলো দেখা যায় তা মূলত ব্রিটিশদেরই করা। হিন্দু মসলমানদের জমি জমা নিয়ে এক ধরণের দ্বিধায় পড়ে যায় ব্রিটিশরা। কেননা তাদের কাছে এই অঞ্চলের সবার নামই সমান। নাম দেখে তারা তো আর ধর্ম চিনতে পারতো না। আর হিন্দু ও মুসলিমদের জমি জমা সংক্রান্ত আইনগুলো ভিন্ন। একজন মসলমান পুরুষ অথবা মহিলা যেভাবে পৈত্রিক ও অন্যান্য জমি-জমার মালিক হয় একজন হিন্দু পুরুষ অথবা মহিলা সেভাবে জমি-জমার মালিক হয়না। অথচ এই দুই দলকেই মধ্যস্থ করতে হত ব্রিটিশদের। তাই তারা অফিস আদালত সহ আলাদা সব কাজ-কর্মে খাতা কলমের কাজের সুবিধার জন্য এই অঞ্চলের মানুষদের নামের প্রথমে শ্রী ও মোহাম্মদ জুড়ে দেয় ধর্মানুযায়ী।
ব্রিটিশরা আজ নেই। তারা চলে গেছে। ফেলে গেছে তাদের সংস্কৃতি, ভাষা, আইন ও কানুন। সময়ের সাথে সাথে এগুলো আমাদের সমাজেরই অংশ হয়ে গেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে আমার অনেক বন্ধু ও বান্ধবীদের নাম, শিমুল, তুষার, আকাশ, পাভেল, অনন্য, তুলি, প্রণতি ইত্যাদি। এরা যখনই তাদের নাম বলুক না কেন সবাই একটু বাঁকা করে তাকিয়ে থাকে। অতি উৎসাহীরা প্রশ্ন করে বসে আপনি মসলমান না হিন্দু? ফেসবুক থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবনে এই অভিজ্ঞতার সাথে কমবেশি সবাই জড়িত আমার ধারণা।