Home Bangla Blog অত্যাচার ছাড়া হিন্দুরা কখনো দেশ ছাড়ে না। যদি ছাড়ে তবে বাধ্য হয়ে...

অত্যাচার ছাড়া হিন্দুরা কখনো দেশ ছাড়ে না। যদি ছাড়ে তবে বাধ্য হয়ে ছাড়ে।

192

দেখুন…
অত্যাচার ছাড়া হিন্দুরা কখনো দেশ ছাড়ে না। যদি ছাড়ে তবে বাধ্য হয়ে ছাড়ে।

ইসলামিক মৌলবাদীদের থেকে বাঁচতে প্রতিদিন কত হিন্দু বাংলাদেশ ছাড়ছে জানেন?

ইসলামিক রাষ্ট্র বাংলাদেশে অমুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও অত্যাচার দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।
আর এই ক্রমাগত অত্যাচার, দমন, পীড়নের প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর থেকে ক্রমশঃ দেশে থাকা সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে। দেশ ছেড়ে সীমান্ত পাড়ি দেয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপদ আশ্রয়ের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত।

আক্রান্ত হিন্দু পরিবার
১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫ দশকে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বি মানুষ বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৬১২ জন হিন্দু নিজেদের প্রাণ এবং মা বোনেদের সন্মান বাঁচাতে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। আর প্রতিদিন দেশ ছেড়েছেন গড়ে ৬৩২ জন হিন্দু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারকাতের ‘বাংলাদেশে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শীর্ষক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দেশ ছাড়ার প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী দু’তিন দশক পরে এদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বি কোনও মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ড. বারকাতের গবেষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়কালে প্রতিদিন গড়ে পলায়ন করা হিন্দুদের সংখ্যা সমান নয়, যেমন- ১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের শেষ ৭ বছরে প্রতিদিন নিরুদ্দেশ হয়েছেন ৭০৫ জন হিন্দু। ১৯৭১ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন নিরুদ্দেশ হয়েছেন ৫২১ জন। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন নিরুদ্দেশ হয়েছেন ৪৩৮ জন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রতিদিন ৭৬৭ জন হিন্দু দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আর ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৬৭৪ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দেশ থেকে নিরুদ্দেশ হয়েছেন।

আক্রান্ত হিন্দুদের সাথে কথা বলছেন সমাজকর্মী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ
এই ব্যাপারে অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেন, এটি একটি ভয়ঙ্কর ব্যাপার যে এই দেশে জন্ম নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া। তিনি বলেন, যেভাবে হিন্দুরা হারিয়ে যাচ্ছে, তাতে এই নিরুদ্দেশ প্রক্রিয়ার প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী দুতিন দশক পরে এদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনও মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। গবেষণায় বলা হয়েছে, অর্পিত সম্পত্তি নামে শত্রু সম্পত্তি আইন কার্যকর থাকার ফলে হিন্দু হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষ অনিচ্ছায় দেশান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছেন।
ড. বারকাতের গবেষণায় বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামন্ত-সেনা শাসকরা জন্ম সূত্রেই ছিলেন বাংলা ভাষা ও বাঙালি বিরোধী। যে কোনও কায়দায় ব্যাপক হিন্দু জনগোষ্ঠীকে সম্পদচ্যুত, ভূমিচ্যুত, দেশচ্যুত করা গেলে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতিকে বিভক্ত করে শাসন করা সোজা হবে। এ ভাবনা থেকেই পাকিস্তানি সেনা শাসকরা ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে শত্রু সম্পত্তি আইন জারি করে।

আবুল বারকাতের গবেষণায় দেখা গেছে, শত্রু সম্পত্তি আইনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মূল মালিকানার ২৬ লাখ একর বেদখল বা ভূমিচ্যুত করা হয়েছে। এই ২৬ লাখ একরের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই কৃষি জমি, ২৯ শতাংশ বসতভিটা, ৪ শতাংশ বাগান, ৩ শতাংশ পতিত, ১ শতাংশ পুকুর ও ১৯ শতাংশ অন্যান্য জমি বেদখল হয়েছে। শত্রু অর্পিত সম্পত্তি আইনে ভূমি-জলা ও স্থানান্তরযোগ্য সম্পদ হারানোর আর্থিক ক্ষতি সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা (২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজার দর হিসাবে)।

ডঃ আবু বরাকত
ড. বারকাত তার গবেষণায় বলেছেন, ‘শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি আইন’ বিষয়টি কোনও অর্থেই হিন্দু বনাম মুসলমান সমস্যা নয়। বরং বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে বলপূর্বক অন্যের সম্পত্তি দখল করার একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া মাত্র। যে প্রক্রিয়ায় লুটপাটের ভাগিদার হয় গুটিকয়েক প্রভাবশালী ব্যাক্তি/শ্রেনি/গোষ্ঠী।

%d bloggers like this: