রাঙ্গামাটি আনসার ক্যাম্প সড়কের পাশে গাছের সারিতে ‘বিসমিল্লাহ, মাশাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সোবাহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ’ লেখা লেমেনেটিং করা কাগজ পেরেক দিয়ে সাঁটানো দেখে হুমায়ূন পুত্র নুহাশদের শ্রেণীরা আশ্বস্ত হতে পারবে যে তারা বাংলাদেশেই আছে!
একে তো পাহাড়ীরা বাঙালী নয়, তাও ধর্মে বৌদ্ধ নয়ত খ্রিস্টান। কাজেই মঠ আর চার্চ দেখা গেলেও তালেবর এলেম গোল টুপিঅলাদের তৌহদী উপস্থিতি না দেখে ঠিক কেমন জানি চিরচেনা ‘মুসলিম বাংলা’ মনে হয় না।

একটা পর্যট্রন গ্রুপে একজন পোস্ট দিয়েছে ‘সাজেকে নামাজ পড়ার পর্যাপ্ত জায়গা আছে কিনা’! পার্বত্য এলাকাগুলোতে মাদ্রাসা মসজিদ দিয়ে ঘেরাও করার প্রচেষ্টা, প্রবলভাবে ইসলামিকরণ করে ফেলার প্রচেষ্টা বহুদিনের। কিছু দিন আগে হুমায়ূন পুত্র নুহাশ এড বানিয়েছিলো সাজেকে মসজিদ নেই তাই একটা নওমুসলিম পাহাড়ী ছেলে সবাইকে আজানের সময় ডেকে ডেকে জানিয়ে যায়…।
উইঘুরদের নিয়ে ভিডিও বানিয়ে মার্কিন কিশোরী টিকটক সেলিব্রেটি ফিরোজা আজিজকে ব্যান করেছে খোদ টিকটক কর্তৃপক্ষ। 
কারণ উইঘুরদের জন্য কান্নাকাটি করা এই কিশোরী অতিতে ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখিন হয়েছিলো। ঘটনাটা উল্লেখ করার কারণ যারা গাছে জিকির লিখে রাখছে আর যারা সাজেকে কিংবা পার্বত্য অঞ্চলে মসজিদ মাদ্রাসার অভাব বোধ করছে তাদের মাঝে আর জঙ্গিদের মাঝে কিন্তু এক সুতার তফাত। মুসলিমদের মধ্যে উইঘুর কিংবা ফিলিস্তিনি কিংবা রোহিঙ্গাদের প্রকাশ্য প্রেমিকদের ৯৯ ভাগই লাদেন আইএস তালেবানদের সঙ্গে গোপন পরকিয়া চলে!
হুমায়ূন পুত্রের মসজিদের অভাববোধ বা টিকটক সেলিব্রেটি ফিরোজা আজিজ আর যারা জিকির লিখে রেখে জনগণকে ইসলাম চর্চা করাচ্ছে এদের দুটো শ্রেণীতে ফেলা যায়। হুমায়ূন পুত্রের মত ধনী ইংরেজি শিক্ষিত শ্রেণীরা হচ্ছে সমর্থক আর যারা জিকির লিখে গাছে সেঁটে দিচ্ছে তারা এক্টিভ। রাঙামাটিতে যারা গাছের গায়ে জিকির লিখে রাখছে তাদের সংগঠনের নাম ‘মুসলিম যুব সমাজ’। 
এরকম নামে প্রায় সব পাড়া মহল্লায় ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

গোটা দেশে এরকম যুব সমাজের উত্থানে আপনি কখনোই আমাদের বামপন্থিদের চিন্তিত হতে দেখেছেন? দেশের তথাকথিত প্রগতিশীলদের কখনই এসব নিয়ে দুলাইন লিখতে দেখেছেন? কিংবা উপরের যে সোসাইটির তরুণ তরুণীদের কথা বললাম তাদের কোন এক্টিভিটি? সবাই ভারতের হিন্দুত্ববাদ নিয়ে লুঙ্গি খুলে বলতে পারলেও নিজের দেশে এই অশনি সংকেত নিয়ে সবাই নির্বিকার! কেন?