প্রাচীন ভারতীয় সমাজে নারীদের স্থান……………………………………।।।

Spread the love
প্রাচীন ভারতীয় সমাজে বলতেই বৈদকি সমাজের কথা চলে আসে। বৈদ্যিক সমাজে যতগুলি শাস্ত্রীয় গ্রন্থ আছে তাদের মধ্যে
সবচেয়ে বিতর্কিত হলো মনু স্মৃতি। এর কারন বিবিধ তবে সারমর্মে বলা যায়
তথাকথিত ধর্ম ব্যাবসায়ী ও যবনদের দ্বারা বিকৃত ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য
নিজের মত করে অপব্যাখ্যা সৃষ্টি করাই এর প্রধান কারন। সেই সত্য আমি আমার
পরবর্তীতে প্রতিটি লেখাতে তুলে ধরার চেষ্টা করবো প্রকৃত মনু স্মৃতির
আলোকে।
আজ আলোচনা করবো নারী সম্পর্কে মনু স্মৃতির ভাবনা। অনেক অপপ্রচার
কথিত আছে যে মনু ছিলেন নারী বিদ্বেষী এবং বিভিন্ন ভাবে নারীদের হেয়
করেছেন। তাহলে আমরা দেখে নেই কিভাবে মিথ্যা ভণ্ড প্রচারকরা মনু স্মৃতিকে
হেয় করেছে।

যদি আমরা প্রকৃত অবিকৃত মনু স্মৃতি পর্যালোচনা করি
তাহলে যে কেউই গর্বের সাথে বলতে পারবে যে পৃথিবীর অন্য যে কোন ধর্মীয়
শাস্ত্রের চাইতে (অবশ্যই বেদের পরে) মনু স্মৃতিতে নারীকে অধিকতর উঁচু
মর্যাদা দিয়েছে। এমনকি আধুনিক যুগে নারীবাদীদের গ্রন্থগুলোকে পুনঃ সংকলন
করার প্রয়োজন পরে যাবে মনু স্মৃতির সমকক্ষ হওয়ার জন্য।

মনু স্মৃতিতে দ্ব্যার্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করে যে নারী সমাজের কল্যানের ভিত্তি গড়ে দেয়।
৩.৫৬ যে সমাজ নারীকে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন
করে সে সমাজ মর্যাদা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি লাভ করবে। এবং যে সমাজ নারীকে এই
রূপ উঁচু স্তম্ভমূলে আসন দেয়নি সে সমাজ যতই উদার ও মহান কর্ম করুক না
কেন সে সমাজকে দুঃখ, দূর্দশা ও ব্যার্থতার সম্মুখীন হতেই হবে।

এটা নারীজাতির জন্য তোষামোদি কোন বক্তব্য নয়। এটা
চিরন্তন সত্য আর এই সত্য তাদের জন্য কঠোর ও ঝাঁঝালো হবে যারা নারীদের
হেয় প্রতিপন্ন করে। কিন্তু যারা মাতৃ শক্তিকে স্তুতি করে, গুন কীর্তিন
করে, পূজা করে তাদের জন্য তা সুমিষ্ট অমৃত। প্রকৃতির এই নিয়ম প্রতিটি
পরিবার, সমাজ, সম্প্রদায়, দেশ, জাতি অথবা পুরো মানব সমাজের জন্য
প্রযোজ্য।আমাদের প্রচুর ধন সম্পত্তি, শক্তি, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও আমরা
দাসে পরিণত হব যদি আমরা মহা ঋষির এই উপদেশকে উপেক্ষা করি। শত্রুদের
আক্রমণের পরে শতাব্দীর পর শতাব্দী তাঁর উপদেশ আমরা অমান্য করেছি এবং
সেজন্য আমাদের অবস্থা মন্দ থেকে মন্দতর হয়েছিল। উনিশ শতকের শেষে এসে
আমরা বৈদিক বার্তাটিকে গভীর ভাবে চিন্তা করতে শুরু করি এবং সেই কারনে
আমরা অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখতে পারছি। সেজন্য রাজা রাম মোহন রায়,
ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, এবং স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মত সমাজ
সংস্কারকদের তাদের প্রচেষ্টার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ ও প্রণাম জানাই।

আজও অনেক রক্ষণশীল ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোতে নারীদের
অর্ধ বুদ্ধিদীপ্ত সম্পন্ন এবং পুরুষের সম অধিকার পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে
বিবেচনা করে। সেজন্য সে রাষ্ট্রগুলো নরকের চাইতেও অধিক দূর্দশাগ্রস্থ।
অতীতে ইউরোপেও যুগের পর যুগ নারী সম্পর্কিত হাস্যকর ও ক্ষতিকারক
বাইবেলীয় মতবাদ অনুসরণ করেছিল এবং সেজন্যই পৃথিবীর সব চেয়ে
কুসংস্কারপূর্ন স্থান গুলোর মধ্যে ইউরোপ ছিল। পরবর্তীতে অবস্থার
পরিবর্তন ঘটে এবং কঠোর ভাবে বাইবেলকে থামানো হয় সেজন্য ধন্যবাদ সংস্কার
যুগকে। এর ফল স্বরূপ দ্রুত অগ্রসর হতে পেরেছিল তারা। কিন্তু এখন নারী
বলতে সেই ধরা বাঁধা ভোগের সামগ্রী ইন্দ্রিয় সুখের উপকরণ হিসেবে দেখা
হয় সম্মানপূর্ন মাতৃ শক্তি রূপে দেখা হয় না। এবং সেজন্য বৈষয়িক
বিষয়ে তারা অনেক অধিকতর ও ব্যাপক উন্নতি লাভ করার পরেও পশ্চিমা বিশ্ব
আজ অনিরাপত্তা এবং মনের শান্তির অভাব দ্বারা আক্রান্ত।

আসুন মনু স্মৃতির আরও কিছু শ্লোক পর্যালোচনা করি এবং আমাদের সমাজে সেগুলোকে প্রয়োগ করার উদ্যোগ নেইঃ
সুখী নারীর গুরুত্বঃ
৩.৫৫ পিতা, ভ্রাতা, স্বামী অবশ্যই তাদের কন্যা,
ভগ্নি, স্ত্রী অথবা পরিবারের অন্যন্যা নারী সদস্যকে সুখে শান্তিতে রাখবে
এবং মিষ্ট বাক্য, সম্মানসূচক আচরণ, উপহার ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের খুশী
করবে। যারা পরিবারের সমৃদ্ধি ও সুখ শান্তি প্রত্যাশী তাদেরকে অবশ্যই
পরিবারের নারী সদস্যদের সুখ শান্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং তারা যেন কোন
দুঃখ দুর্দশাগ্রস্থের মুখোমুখি না হয়।

৩.৫৭ যে পরিবারে পুরুষের অপকর্মের জন্য নারীরা
অসুখী হয় সেই পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে বাধ্য। এবং যে পরিবারে নারী
সদস্যরা সুখী সে পরিবারের সবর্দা সুখ ও সমৃদ্ধি হতে বাধ্য।

৩.৫৮ একটি পরিবারে যেখানে নারী সদস্যদের অপমান
অথবা অধিকার বঞ্চিত করা হয় এবং তারা পুরুষ সদস্যদের উপর অভিসম্পাত করে
সেই পরিবার ধ্বংস হতে বাধ্য ঠিক যেমন করে বিষ মিশ্রিত খাদ্য এর
ভক্ষনকারীকে মেরে ফেলে ঠিক সেই ভাবে।

৩.৫৯ যে গৌরব কামনা করে তাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে
হবে যে তার পরিবারে সে সকল নারী সদস্যদের শ্রদ্ধার আসনে রেখেছে এবং
গহনা, গুনগত পোষাক, সুখাদ্য দ্বারা তাদের সুখী ও আনন্দে রাখতে পেরেছে।
যেকোনো পরিস্থিতিতে নারীদের সর্বদা সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

৩.৬২ যে ব্যাক্তি তার স্ত্রীকে সুখী রাখতে পারে
না সে পুরো পরিবারের জন্য দুঃখ দুর্দশার কারন হয়। এবং যদি স্ত্রী সুখী
থাকে তাহলে পুরো পরিবার সুখী পরিবার রূপে আবির্ভূত হয়।

৯.২৬ নারী পরবর্তী প্রজন্মকে জন্ম দেয়। তারা
ঘরকে আলোকিত করে। তারা সৌভাগ্য ও পরম সুখ বয়ে আনে। সেজন্য নারীকুল সুখ
সমৃদ্ধির সমার্থক।

এই শ্লোকের উপর ভিত্তি করেই বলা হয় যে নারী হচ্ছে ঘরের লক্ষী অর্থাৎ ঘরের সৌভাগ্যের দেবী। তা আজও পর্যন্ত মানা হয়।

৯.২৮ নারী হচ্ছে সকল যুগের সকল প্রকার সুখের মূল
উৎস- সেটা হতে পারে শিশু জন্মদানের মাধ্যমে অথবা কোন মহৎ উদার কর্মের
মাধ্যমে অথবা দাম্পত্য সুখের মধ্যে দিয়ে অথবা বড় বয়োজেষ্ঠ্যদের সেবার
মধ্য দিয়ে। কথাটা অন্যভাবে বলা যায় যে নারী হচ্ছে সকল সুখের মূল কখন
মা হিসেবে, কখনো কন্যা, কখনো স্ত্রী আবার কখনো আধ্যাত্মিক তপস্যার
সঙ্গিনী হিসেবে। তার মানে হচ্ছে যে কোন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মে
নারীদের অংশ গ্রহন অবশ্যিক।

৯.৯৬ নারী ও পুরুষের একে অপরের বিনা অসম্পূর্ন। তাই প্রাথমিক ধর্মীয় দ্বায়িত পালনে উভয়কেই অংশ গ্রহন করতে হবে।

তাই যারা নারীদের বেদ অথবা বৈদিক যজ্ঞ পালনে নারীদের দূরে রাখে তারা সনাতন ও মানবতা বিরোধী।

৪.১৮০ যিনি জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যাক্তি তিনি কখনই মা, কন্যা এবং স্ত্রী সহ পরিবারের কোন সদস্যদের সাথে লড়াই ও ঝগড়া করবে না।

৯.৪ যে পিতা তার কন্যাকে সুপাত্রে পাত্রস্থ করতে
ব্যার্থ হবে সে নিন্দার যোগ্য। যে স্বামী তার স্ত্রী নূন্যতম চাহিদা
পূরণ করবে না সে নিন্দার যোগ্য। যে পুত্র তার বিধবা মায়ের সেবা করবে না
সে নিন্দার যোগ্য।
বহু বিবাহ হচ্ছে পাপঃ
৯.১০১ স্বামী ও স্ত্রীকে মৃত্যু অবধি এক সঙ্গে
থাকা উচিত। তারা অন্য সঙ্গীর সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা করবে না এবং কোন
অসদাচার যৌনাচার করবে না। সার কথা হচ্ছে এটাই মানব জাতির ধর্ম।

তাই যে সকল সমাজ ও সম্প্রদায় বহু বিবাহ, যৌনদাসী
এবং খন্ড কালীন ( temporary marriage) বিবাহকে সমর্থন করে তারা দুঃখ
দূর্দশায় জর্জরিত হবেই কারন তারা ধর্মের অন্তঃসার মতবাদকে উপেক্ষা করেছে,
অস্বীকার করেছে, অসমর্থন করেছে।

নারীর স্বায়ত্তশাসনের অধিকারঃ
৯.১১ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়, স্বাস্থ্যবিধি
ব্যবস্থাপনায়, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন, পুষ্টি এবং গৃহের
সকল প্রকার ব্যবস্থাপনায় নারীদের স্বায়ত্তশাসন ও কর্তৃত্ব প্রদান করতে
হবে।

এই শ্লোকের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে
গেছে যে যারা মনে করত যে কোন বৈদিক ধর্মকর্ম নারীরা করতে পারবে না তা্রা
সম্পূর্ণ ভুল ও মিথ্যা ধারণা পোষণ কারী। উপরন্তু নারী পুরুষ উভয়কেই
এই ধর্মীয়নুষ্ঠান পালন করতে হবে। তাই যারা দাবী করে অথবা পরামর্শ দেয়
যে নারীদের বেদ অধ্যায়ন ও চর্চা করার অধিকার নেই তারা মনু ও বেদ
বিরোধী। এই ধরনের অন্ধ গোঁড়ারা জাতীর দুঃখ দূর্দশার কারন। তাই আমরা এই
ধরনের মনোভাবকে কখনোই প্রশয় দেব না যা নারীদের হেয় করে।

৯.১২ পুরুষদের দ্বারা ( পিতা, স্বামী, পুত্র)
নারীকে গৃহে আবদ্ধ করে রাখা হলেও সে সুরক্ষিত নয়। নারীদের আবদ্ধ করে
রাখা হচ্ছে বৃথা নিরর্থক। নারীদের নিরাপত্তা শুধুমাত্র তার নিজের ক্ষমতা
এবং মনোভাবের মধ্য দিয়ে আসে।

এই শ্লোকে ব্যাখ্যা করেছে যে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার
জন্য নারীদের গৃহে বন্দী করে রাখার প্রচেষ্টা বৃথা, অনর্থক এবং অসমর্থন
যোগ্য। বরং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাকে যথাযথ প্রশিক্ষণ
প্রদান করতে হবে যাতে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারে এবং অসৎ সঙ্গ দ্বারা
ভ্রান্ত হওয়াকে (Mislead) উপেক্ষা বা এড়িয়ে যেতে পারে। তাই ছোট্ট
গৃহে নারীকুলকে আবদ্ধ করে রাখার প্রচলিত ধারণা হচ্ছে মনু স্মৃতি বিরোধী।

নারীর নিরাপত্তাঃ

 ৯.৬ এমনকি দূর্বল স্বামীকেও তার স্ত্রীকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে হবে।

৯.৫ নারী সর্বদা সকল প্রকার অসচ্চরিত্রতা,
অনৈতিকতা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবে। কারন নারী যখন চরিত্র হারায়
তখন পুরো সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়।

৫.১৪৯ একজন নারীকে সর্বদা নিশ্চিত হতে হবে যে সে
নিরাপদে আছে। তাকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদান করার দ্বায়িত তার পিতা,
স্বামী ও পুত্রের উপর বর্তায়।
লক্ষ্য করে দেখুন এখানে নিরাপত্তা বলতে কিন্তু
বন্দী বা চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ করে রাখার কথা বলা হচ্ছে না।

৯.১২
শ্লোকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে ইংগিত দিয়েছে। যে সমাজ লম্পট,
দুষ্কৃতিকারীদের হাত থাকে তাদের নারীকূলকে রক্ষা পারে না তারা নিজের
হাতে তাদের ধ্বংস হয়ে যাবার নির্মম ভাগ্য রচনা করছে।

এই অনুপ্রেরণার ফলে অনেক অনেক সাহসী যোদ্ধা
পশ্চিমা ও আরবের বর্বরদের হাত থেকে তাদের নারীকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের
জীবন দিয়েছিল। আলহা উদাল ও বীর যোদ্ধা মহারানা প্রতাপের আত্মত্যাগ
আমাদের রক্তে আজও গৌরব ও অহংকারের ফিনকি বয়ে আনে।

এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয় যে আমাদের গৌরবের
এমন ইতিহাসের ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও আমাদের নারীরা চার দেয়ালের মাঝে
অত্যাচারিত হয় নয়ত লম্পটের লালসার স্বীকার হয়। আমরা যদি আমাদের মা
বোনদের সম্ভ্রম রক্ষার দ্বায়িত নেবার পরিবর্তে আমরাই যদি নারীদের উপর
ঝাঁপিয়ে পড়ি অথবা আক্রমণ কারীদের প্রতিহত না করি তাহলে আমাদের কে
সাহায্য করতে আসবে!

৯.৯৮ কোন অযোগ্য ব্যক্তির কাছে জোর পূর্বক বিবাহ না দিয়ে বরং কন্যাকে অবিবাহিত রাখাই শ্রেয়।

৯.৯০-৯১ প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পরে নারী তার নিজের
জীবন সঙ্গী নিজে পছন্দ করে বেছে নিতে পারবে। যদি তার পিতা মাতা তার
জন্য যোগ্য পাত্র সন্ধানে ব্যার্থ হয় তাহলে সে নিজেই নিজের পাত্র বেছে
নেবে।

তাই কন্যার জীবন সঙ্গী নির্ধারন করবে তার পিতামাতা
এই ধারণা মনু বিরুদ্ধ, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর পূর্ন অধিকার রয়েছে
তার জীবন সঙ্গী বেছে নেবার। পিতামাতা বিবাহের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে
কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী নয়।

নারীর সম্পত্তির আধিকারঃ
৯.১৩০ একজন কন্যা একজন পুত্রের সমতুল্য। তার
বর্তমানে কিভাবে সম্পত্তির উপর তার অধিকার
কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে।

৯.১৩১ মায়ের ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর কেবল শুধুমাত্র কন্যারই অধিকার আছে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে মনুর মতে একজন কন্যার পিতার
সম্পত্তির উপর তার ভাইয়ের মত সমান অধিকার আছে এবং তার মায়ের
সম্পত্তির উপর শুধুমাত্র তারই অধিকার আছে অন্য কারো নয়।

নারীর প্রতি এই
বিশেষ ব্যাবস্থার কারন হচ্ছে যাতে করে নারী কোন অবস্থায় অন্যের উপর
নির্ভর করতে না হয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সুখী আলোকিত নারীকুলই সুখী
সমাজের ভিত্তি গড়ে দেয়।

৯.২১২-২১৩ যদি কোন ব্যাক্তির স্ত্রী অথবা সন্তান
না থাকে তাহলে তার সম্পত্তি তার ভাই-বোনদের মাঝে সমান ভাগে ভাগ করে
দেবে। যদি জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা তার ভাই বোনদের মাঝে প্রাপ্য অংশ প্রদান করতে
অস্বীকৃত জানায় তাহলে আইন অনুযায়ী সে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

নারীর সুরক্ষা বিধান নিশ্চিত করার জন্য মনু আরও
কঠোরতর শাস্তি বিধানের পরামর্শ দিয়েছেন তাদের উপর যারা নারীর সম্পত্তি
হনন করার চেষ্টা করবে , এমনিকি সে তাহার নিকট আত্নীয় হলেও তাকে শাস্তির
আওতায় আনা হবে।

৮.২৮-২৯ যদি কোন নারী একা হয় কারন তার কোন
সন্তান নেই অথবা তার পরিবারে কোন পুরুষ সদস্য নেই যে তাকে রক্ষা করবে
অথবা সে বিধবা অথবা তার স্বামী বিদেশ গমন করেছে অথবা সে অসুস্থ,
সেক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দ্বায়িত সরকার ও রাষ্ট্রের। যদি
তার সম্পত্তি তার আত্মীয় বা বন্ধু হরন করে তাহলে সরকার দোষীদের কঠোর
থেকে কঠোরতর শাস্তি প্রদান করবে এবং তার সম্পত্তি পুনুরুদ্ধার করে তাকে
ফিরেয়ে দেবে।

নিষিদ্ধ পণ প্রথাঃ

৩.৫২ যে আত্মীয়সকল নারী অথবা তার পরিবারের ধন
সম্পত্তি, জায়গা জমি, যান বাহন অথবা পোশাক পরিচ্ছদ ছিনিয়ে নেয় বা দখল
করে তারা হচ্ছে অতিশয় বন্য প্রকৃতির মানুষ। ( বন্য প্রাণী বলতে আমরা
ইতর শ্রেণীকেই বুঝি)

এইভাবেই মনুর পরামর্শ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের পণের
প্রতি তীব্রভাবে না না সূচক বলা হয়েছে। তাই কেউ যেন নারীর ধন সম্পত্তি
গ্রাস করার সাহস না করে।

ঠিক পরে শ্লোকে এই ধারণাটিকে আরও গভীরতর ভাবে
প্রকাশ করেছে যে এমনকি শরীরী যে কোন বস্তুর (Tangible items) সামান্যতম
বিনিময় ক্রয়/বিক্রয় বলে গণ্যএবং যা আর্দশ বিবাহের নৈতিক বিরুদ্ধ।
এখানে মনু পন/যৌতুক নিয়ে বিয়ে করাকে অসুরী বিবাহ বলে উল্লেখ করেছে।
(অসুরী বিবাহ হচ্ছে নিকৃষ্টতম বিবাহ)

নারী ক্ষতিসাধন করা হলে কঠোর শাস্তি

 

৮.৩২৩ যারা নারী অপহরণ করবে তাদেরকে মৃত্যু দণ্ডে দণ্ডিত করতে হবে।

৯.২৩২ যারা নারী, শিশু অথবা জ্ঞানী তপস্যিদের হত্যা করবে তাদের কঠিনতম শাস্তি প্রদান করতে হবে।

৮.৩৫২ যারা নারী ধর্ষন অথবা উৎপীড়ন করবে অথবা
যৌন হয়রানি করবে তাদেরকে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে যা দেখে অন্যদের মাঝে
ভয় জন্মাবে এবং এমন অপরাধ করার চিন্তাও করবে না।

বর্তমানে ভারতের বিচার বিভাগ আশংকা জনক ভাবে
বর্ধিত ধর্ষনের হার প্রতিরোধে সব চেয়ে উপযুক্ত শাস্তি হিসেবে খোজাকরনের
পরামার্শ দিয়েছে।
Refer
http://timesofindia.indiatimes.com/india/Castrate-child-rapists-Delhi-judge-suggests/articleshow/8130553.cms

আমরা এই রকম আইনের সমর্থন করি।

৮.২৭৫ যদি কেউ মা, স্ত্রী অথবা কন্যার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনে তাহলে তাকে শাস্তি প্রদান করতে হবে।

৮.৩৮৯ যারা কোন যুক্তি সঙ্গত কারন ছাড়াই তাদের মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের পরিত্যাগ করে তাহলে কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে।

নারী সর্বাগ্রে ( Ladies First):
সবার আগে নারী বা Ladies First এই ধারণা মনু স্মৃতি থেকেই এসেছে।

২.১৩৮ কোন যানবাহনে এক জন পুরুষ বৃদ্ধ মানুষ,
অসুস্থ ব্যাক্তি, বোঝা বহনকারী, বর, রাজা, ছাত্র এবং নারীকে তার জায়গা
ছেড়ে দিবে।

৩.১১৪ নববধু, কন্যা, এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীর খাওয়ার পরে কেউ খাদ্য গ্রহন করবে এমনি মেহমানদের আগেও।

এবার দেখা যাক বেদে নারী সম্পকে কি বলেছে………………………………

অথর্ববেদঃ

১। Girls should train themselves to become complete scholars and youthful through Brahmcharya and then enter married life.

Atharva 11.5.18

ব্রহ্মচারী
সুক্তের এই মন্ত্র বলে মেয়েদের শিক্ষা লাভের পর স্বামী গৃহে প্রবেশের
কথা। এই মন্ত্র নারীদের নির্দেশ দেয় ছেলেদের মত একই শিক্ষা গ্রহনের।

২। Atharva 14.1.6

Parents
should gift their daughter intellectuality and power of knowledge when
she leaves for husband’s home. They should give her a dowry of
knowledge.

এখানে উপঢৌকন হিসেবে জ্ঞান দানের কথা বলা হয়েছে।

৩। Atharva 14.1.20 Oh wife! Give us discourse of knowledge

এখানে স্ত্রীর কাছে জ্ঞান চাওয়া হয়েছে।

৪। Atharva 7.46.3

Protector
of children, having definite knowledge, worth thousands of prayers and
impressing all directions, O women, you accept prosperity. O wife of
desrving husband, teach your husband to enhance wealth.

স্ত্রী কে বলা হয়েছে স্বামীকে সহায়তা করতে যাতে পরিবারে সুখ সমৃদ্ধি, অর্থ বৈভব আসে।

৫।

Atharva 7.47.1

Oh woman! You are the keeper of knowledge of all types of actions (karma).

মহিলাদের জ্ঞানের ধারক বলা হয়েছে।

৬। Atharva 7.47.2

Oh woman! You know everything. Please provide us strength of prosperity and wealth

নারীই শিশুদের প্রথম জ্ঞানদাতা । তিনিই শিশুদের জগত সংসারে যুদ্ধের উপযুক্ত করে পাঠান। মন্ত্রে তাই বলা হয়েছে।

৭। Atharva 7.48.2

Oh woman! Please provide us with wealth through your intellect

৮। Atharva 14.1.64

Oh woman! Utilize your vedic intellect in all directions of our home!

নারীকে মঙ্গলময়ী লক্ষ্মী সেই বৈদিক যুগ থেকেই বলা হয়।

৯। Atharva 2:36:5

Oh bride! Step into the boat of prosperity and take your husband beyond the ocean of worldy troubles into realms of success

অর্ধেক তার করিয়াছে নারীনজরুল কাব্যে নারী

তারুণ্য
দীপ্ত যৌবনে উজ্জল কবি নজরুল। বাংলার নারী সমাজকে জাগাতে এবং অনুপ্রাণিত
করতে তিনি তাদের আন্তরিকতার সাথে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তাই তো কবি কবিতায় লিখেছেন,

জাগো নারী জাগো বহ্নি শিখা

কবি আরও লিখেছেন

সাম্যের গান গাই

আমার চক্ষে পুরুষ রমণী

কোন ভেদাভেদ নাই

নারীরে প্রথমে দিয়েছি মুক্তি

নয় সম অধিকার

মানুষ গড়া প্রাচীর ভঙ্গিয়া

করিয়াছি একাকার

কবি ভাবতেন নারীর জন্য পুরুষ তন্ত্রের বিভেদ ও অসাম্য সৃষ্টির কথা।

নারীর
স্বাতন্ত্রবোধ কেড়ে নিয়ে তার জন্য পুরুষ তৈরি করেছে অসংখ্য শক্ত শেকল।
সাংসারিক জীবনে পুরুষের মনোরঞ্জনের সুবিধার্থে নারীকে করেছে ভিন্ন শিক্ষায়
শিক্ষিত। নামিয়ে এনেছে দাসীর পর্যায়ে। কবি চেয়েছেন এ অবস্থা থেকে নারীর
মুক্তি। নারীর মানুষ হিসেবে গণ্য করার অধিকার।

কবির এই কথাই শত সহস্র বছর আগে ধ্বনিত হয় অথর্ব বেদের মন্ত্রে। নারীই তার স্বামীকে সংসারের কঠিন সময়ে আশার আলো দেন পাশে থেকে।

১০। Atharva 1.14.3

Oh groom! This bride will protect your entire family

কোথায় এখন মহাপণ্ডিতরা?

১১। Atharva 2.36.3

May this bride become the queen of the house of her husband and enlighten all.

১২। Atharva 11.1.17

These women are pure, sacred and yajniya (as respected as yajna); they provide us with subjects, animals and food

১৩। Atharva 12.1.25

Oh motherland! Give us that aura which is present in girls

১৪। Atharva 12.2.31

Ensure that these women never weep out of sorrow. Keep them free from all diseases and give them ornaments and jewels to wear.

এখানে নারীর দুঃখ কষ্ট যাতে না হয় সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।

১৫। Atharva 14.1.20

Hey wife! Become the queen and manager of everyone in the family of your husband.

১৬। Atharva 14.1.50

Hey wife! I am holding your hand for prosperity

১৭। Atharva 14.1.61

Hey bride! You shall bring bliss to all and direct our homes towards our purpose of living

১৮। Atharva 14.2.71

Hey wife! I am knowledgeable and you are also knowledgeable. If I am Samved then you are Rigved.

১৯। Atharva 14.2.74

This bride is illuminating. She has conquered everyone’s hearts!

২০। Atharva 7.38.4 and 12.3.52

Women should take part in the legislative chambers and put their views on forefront.

এবার আসি ঋগ্বেদের কথা।


১। Rig 10.85.7


Parents should gift their daughter intellectuality and power of
knowledge when she leaves for husband’s home. They should give her a
dowry of knowledge.


২। Rig 3.31.1


The right is equal in the fathers property for both son and daughter


৩। Rig 10.159


A women speaks after waking up in morning, “My destiny is as glorious as
the rising sun. I am the flag of my home and society. I am also their
head. I can give impressive discourses. My sons conquer enemies. My
daughter illuminates the whole world. I myself am winner of enemies. My
husband has infinite glory. I have made those sacrifices which make a
king successful. I have also been successful. I have destroyed my
enemies.”


৪। Rig ved 1.164.41


One ved, two ved, or four ved along with ayurved, dhanurved, gandharved,
aarthved etc in addition with education, kalp, grammar, nirukt,
astrology, meters i.e the six vedaang should be attained by the
clear-minded woman, which is equivalent to the crystal-clear water and
spread this diversified knowledge among the people.


৫। Rig ved 10.85.46


Like wise in so many other mantras a woman has been presented to play an
essential role in family and as wife. Similarly she has been given the
lead stage in society works, in governmental organizations, and for
ruling the nation is also mentioned in Vedas.


পণ্ডিত শ্রীপাদ দামোদর সাতবালেকারের Simple Translation of Rigveda (Rigved ka subodh bhashya)” বইএর পৃষ্ঠা ১২১১৪৭ ঋগ্বেদের সকল মন্ত্রেরসারমর্ম।


সেখান থেকে তুলে ধরছিঃ


১। নারীদের সাহসী হতে হবে। পৃষ্ঠা ১২২,১২৮


২। নারীদের বিভিন্ন কাজে অভিজ্ঞ হতে হবে। পৃষ্ঠা ১২২


৩। নারীদের যশ অর্জন করতে হবে। পৃষ্ঠা ১২৩


৪। নারীদের রথে(যানবাহনে) উঠা শিখতে হবে। পৃষ্ঠা ১২৩


৫। নারিদের মেধাবী হতে হবে। পৃষ্ঠা ১২৩


৬। নারীদের বিত্তবান ও উন্নতির কথা ভাবতে হবে। পৃষ্ঠা ১২৫


৭। নারীদের বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী হতে হবে। পৃষ্ঠা ১২৬


৮। নারীরা সংসার ও সমাজ রক্ষা করবেন ও সেনাবাহিনীতে অংশ হবেন। পৃষ্ঠা ১৩৪,১৩৬


৯। নারীদের আলোকিত হতে হবে। পৃষ্ঠা ১৩৭


১০। নারীরা বিত্ত,খাবার ও উন্নতির বাহক হবেন। পৃষ্ঠা ১৪১১৪৬

যজুর্বেদ এর কথায় আসা যাকঃ

১। Yajur 20.9


There are equal rights for men and women to get appointed as ruler.


যারা বলেন নারীরা শাসন করতে পারে না তারা আসলে মানুশকে বোকা বানাতে চান।উপযুক্ত শিক্ষা ও দক্ষতা থাকলে নারীরা দক্ষ প্রশাসক হতে পারেন।

ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭১ এ পাকিস্তানকেযুদ্ধে তিনি শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকাছিল অসাধারণ।

ইসরাইলের গোল্ডআ মায়ার মাত্র ৬ দিনের যুদ্ধে মিসর,সিরিয়া ও জর্ডানকে পরাজিত করেন ১৯৬৭ তে।

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপের যুদ্ধে মারগারেট থেচারের নেতৃতে ব্রিটেন আর্জেন্টিনার বাহিনীকে পরাস্ত করে।

যজুর্বেদ তাই বলে।

২। Yajur 16.44


There should me a women army. Let the women be encouraged to participate in war.


৩। Yajur ved 10.26


In this mantra it is enforced that the wife of ruler should give
education of politics to the others. Likewise the king do justice for
the people, the queen should also justify her role.

নারী সম্পর্কে বেদ সোজাসাপটা কথা বলেছে। নারী আমাদের সমাজের ভিত্তি। একটি সমাজকে ধ্বংস করতে চান তাহলে নারীকে শিক্ষার দুয়ারে পাঠাবেন না, তার
আত্তসম্মান ধ্বংস করে দিন তাহলে সেই নারী তার সন্তানকে ওই পৈশাচিক
মতাদর্শে বড় করে তুলবে। সমাজের পতনের গতি কেউ আটকাতে পারবে না।

১০০০
বছরের দাসত্ব শেষে আমরা আজ নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যাবহার করি। বিজ্ঞাপনে বা
সংবাদ পাঠে সুন্দরী নারী না থাকলে আমাদের চলে না। বিবাহপূর্বক যৌন সম্পর্ক
আর পরকীয়াতে সমাজ ছেয়ে গেছে। বেদের শিক্ষা উপেক্ষা করার ফল ভয়াবহ। আমরা
কত বোকা। ধর্মের নামে আমরা মেয়েকে বেদপাঠ করতে দিচ্ছি না। এই মেয়েই পরে
অন্য ধর্মের ছেলের হাত ধরে ধর্মান্তরিত হচ্ছে।

নারী ও যজ্ঞ ঃ

Rigveda 1.146.3: The Yajamaan (performer of Yajna) and his wife are two cows and the fire of Yajna is the calf.


Rigveda 1.72.5: Scholars perform Yajna with their wives and achieve bliss.


Rigveda 2.6.5: If mother and sister perform Yajna together, that brings bliss.


Rigveda 7.1.6: The young woman approaches the fire with Havi


Atharvaveda 3.28.6: O wife, you have entered the world of Yajna.


Atharvaveda 3.30.6: All the members of family should perform Yajna.


Atharvaveda 14.2.18: O woman, you should perform Yajna in Grihastha Ashram.


Atharvaveda 14.2.25: O woman, perform Yajna with bliss.


বেদে একটি মন্ত্রও নেই যেটি বলে নারীরা যজ্ঞ করতে পারবে না।

জেনে রাখুন বেদে যজ্ঞ বলতে শুধু অগ্নিহোত্র বা হোম বোঝায় না বরং সব ধরনের মহ কাজ বোঝায়।

নারীশিক্ষাঃ


Rigveda 6.44.18: The government should ensure that all boys and girls
get good education, follow Brahmacharya and strengthen the society.


Yajurveda 10.7: Government should put special efforts to make all women into scholars.


Rigveda 3.1.23: Smart people should ensure that all boys and girls become scholars.


Rigveda 2.41.16: All girls should receive education from scholarly women.


Yajurveda 11.36: Parents should ensure good education of children – boys
and girls – and then send them to scholars for a long period so that
their enlighten the families and nation like sun.


Rigveda 1.152.6: The way mother nourishes her children with milk, scholars should nourish girls and boys with knowledge.


Yajurveda 6.14: Teachers should ensure that they inculcate noble
qualities in their students (girls and boys) through dissemination of
knowledge of Vedas.


Rigveda 2.41.17: All scholars should instruct their scholarly wives to educate all girls.


Yajurveda 34.40: The way dawn brings happiness among human beings, scholarly woman should bring happiness by educating girls.


Yajurveda 20.85: Scholarly woman should ensure that she educates other women and makes them also scholars.


Rigveda 1.117.24: Teachers should ensure that they train boys and girls
with highest levels of noble values and educate them and then return
them to their respective parents.


Rigveda 1.164.41: The woman who masters and teaches all the Vedas brings bliss in entire society.


Rigveda 7.40.7: Scholarly woman that possess noble qualities should educate all women and bring happiness everywhere.


কে বলে হিন্দু ধর্ম নারীশিক্ষা বিরোধী?

শিক্ষিত নারীর গুণঃ

একজন শিক্ষিত ও বিধুসি নারী ইতিহাসের গতি পাল্টে দিতে পারেন।

রেডিয়ামের আবিস্কারক মাদাম কুরির কথা ভুলে যাবেন না।

দেখুন বেদ কি বলে?


Yajurveda 20.84: The scholarly woman purifies our lives with her
intellect. Through her actions, she purifies our actions. Through her
knowledge and action, she promotes virtue and efficient management of
society.


Yajurveda 20.85: Scholarly woman inspires us towards knowledge. She promotes conduct of noble acts in society.


Yajurveda 20.86: Scholarly woman rushes an exhilaration within us that
comes only through knowledge. She enlightens our knowledge, applications
and actions.


Rigveda 1.164.49: O scholarly woman, your knowledge provides us peace
and bliss. You lead us to inculcate noble virtues. You provide us
prosperity through your knowledge. May we obey your inspiration that you
provide as a mother. A scholarly woman is mother of entire society.


Rigveda 2.41.16: O provider of great knowledge, O my mother through the
nourishment of knowledge that you have provided, our life is scattered
without you. Please provide us direction.


Rigveda 2.41.17: A scholarly woman, the entire life of society depends
upon you. You provide us the right knowledge. May you bring knowledge to
all segments of society.


Rigveda 6.49.7: O scholarly woman, you purify our character. You have
noble characteristics. You conduct noble actions. You have noble habits.
We bow to your greatness that provides bliss to all.


Rigveda 6.61.2: O scholarly woman, the way a river breaks away mightiest
of hills and rocks, the scholarly woman destroys myths and hypes
through her intellect alone. May we bow to women through our polite
words and noble actions.


Rigveda 6.61.3: O scholarly woman, destroy the evil inside us through
your knowledge and character. Gift us with knowledge of Vedas. O
performer of noble actions, you provide us stream of knowledge in same
manner as a river provides stream of water.


Rigveda 7.96.3: O scholarly noble woman brings only happiness in
society. She makes us knowledgeable and alert. She guides us like the
mantras in Yajna and teaches us use of everything in world.


Rigveda 10.17.7: Those who desire the society to become noble and
powerful, they respect woman and please her. Those who desire virtues
respect woman and please her. Those who respect woman obtain bliss,
knowledge and happiness.


Atharvaveda 7.57.1: Whenever I am hurt by meanness of world or
misunderstanding with others, a scholarly woman heals my wounds.
(Because women possess the soft skills and emotional intelligence that
is not naturally and easily available to men.)

   আরো দেখুৃন