Home Bangla Blog "পুর্ব বংগের উদ্বাস্তু রা কেনো বামপন্থী হলো?"

"পুর্ব বংগের উদ্বাস্তু রা কেনো বামপন্থী হলো?"

199

“পুর্ব বংগের উদ্বাস্তু রা কেনো বামপন্থী হলো?”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

আমার ত্রিপুরা কেন্দ্রিক পোষ্ট টা পড়ে আমার এক গুনগ্রাহী এই কমেন্ট টা করেন। আমি এই উত্তরটা দিলাম। কাউকে আঘাত করার ইচ্ছা আমার নেই। আমি যা মনে করি, সেটা সর্বৈব সত্য এই দাবীও আমি করতে পারি না। তবে কিছুটা হলেও বাস্তব। কারো মনে, বিশ্বাসে বা অভিমানে আঘাত লাগলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।

Sir apnar pray sab lekhai ami pare thaki ar khub bhalo lage. Khub ananda lagche je Tripura giye ei katha gulo bolechen. Kintu eta bollen na je oi Beraltapashi gulo sune ki bollo ba apnar GITA path er pare ki holo. Tripurake amio khanikta chini ar okankar lokjan sammandhe bhalo dharona ache. Apni ki bhabe neben jani na . Kintu ageo bolechi ar bar bar bolbo jara opar bangla theke Musalman der lathi juto kheye epare eseche tara beshi Hindu birodhi ar musalman daradi. Sei janna ajkal Bangladesh er Bangali Hinduder janna khub beshi tan anubhab kori na. Karan ami jani je Bangladesh theke mar kheye Bharat e chole ese abar sekularism er katha AURABE ar Hindu birodhi katha bolbe.
JAY SRI RAM
JAY SRI GITA
JAY HINDUSTHAN BANDEMATARAM
Like
• Reply • 4 hrs
Manage

Mrinal Kanti Debnath  সত্যি কথাটা বলি। প্রথম দিন আমি ঐ সব কথা বলেছিলাম। দ্বিতীয় দিন নিখাদ গীতা প্রবচন। প্রথম দিন আমার কথা শুনে ওই দুই সি পি এম নেতা দল বল নিয়ে চলে যায়, আর আসেনি। পরে শুনে ছিলাম ওরা বলেছে, “ঐ ডাক্তার বাবুকে আর আনিস না। সেদিন আমাদের খুব লজ্জায় ফেলে দিয়েছিলো। ওর কথার বিরোধিতা ও করতে পারবো না আর এই জন্মে সি পি এম ছাড়তেও পারবো না”।

হ্যা, তুমি যা বলেছো সেটা ঠিক। কেনো পুর্ব বংগ আগত হিন্দুদের (আমি নিজেও একজন) এই হয়েছে জানো?

সঠিক লিখলে ওপার বাংলা থেকে যারা এসেছে তারা সবাই আমার শত্রু হয়ে যাবে, গাল পাড়বে। আমার যা ধারনা অকপটে তাই বলছি।

দেশ ভাগ পুর্ব পাকিস্তানের হিন্দুরা মেনে নেয়নি মন থেকে। দেশ ভাগের পর পরই অনেকেই (যাদের দুরদৃষ্টি ছিলো) স্বইচ্ছায় ভারতে চলে আসে। যাদের দূর দৃষ্টির অভাব ছিলো, মানসিকতা ছিলো নিজস্ব সম্পত্তি এবং ব্যাবসার প্রতি টান এবং সেই সংগে লোভ এবং পুর্ব পুরুষের ভিটে মাটি ছাড়বার প্রতি অনৈচ্ছুক ‘মোহে’ আকৃষ্ট ছিলো তারা আসেনি।

যেমন আমার বাবা (ছোট জমিদার), শশুর মশায় (ব্যাবসাদার)। আমি অনেকবার জিজ্জাষা করেছি, ওনারা বলেছেন “বুঝতে পারি নি এমন হবে”। আসলে বোঝবার চেষ্টাই করেন নি এরা। যা কিনা বর্তমানে ওদেশে পড়ে থাকা হিন্দুরা করছে। ঐ হিন্দুরা (যার মধ্যে আমার অসংখ্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আছে)  আজো বোঝে না, ঐ দেশটা গান্ধী নেহেরু মিলে দিয়ে দিয়েছে চিরতরে এবং ওখানে কিছুতেই  থাকা যাবে না। কোনো লীগ হিন্দুদের বাচাবে না।

যারা বুদ্ধিমান এবং দূর দৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন তারা দেশ ভাগের আগেই এদেশে চলে আসার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

এরা এদেশে এসে কংগ্রেস বিরোধিতা করার নামে বামপন্থী আন্দোলনে সামিল হয়ে পড়ে। সত্যিকারের সর্বহারা হয়ে সর্বহারাদের জন্য মায়া কান্না করা নেতাদের শিকার হয়ে পড়ে। তখন তো ঐ বামপন্থী দল ছাড়া অন্য কংগ্রেস বিরোধি দল ছিলো না। শ্যামাপ্রসাদ মারা যাবার পর হিন্দুদের হয়ে বলার আর কেউ ছিলো না।  পশ্চিম বংগের রাজনীতিতে চিত্তরঞ্জন দাশ মারা যাবার পর এবং নেতাজী নিরুদ্দেশ হবার পর আর এমন কেউ আসেন নি যারা দেশ ভাগ পুর্ববর্তি, দিল্লী কেন্দ্রিক রাজনীতিকে সামাল দিতে পারেন।

চতুর জ্যোতি বসু এই খাটী সত্যটা বুঝেছিলেন। পুর্ব বংগ আগত কম দুরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ গুলো, সর্বহারা হয়ে এই ‘নকলি সর্বহারা’ র দরদীর প্রেমে পড়ে যায়। আর অভ্যাস একবার হলে মরলেও যায় না। বর্তমানে যারা বামপন্থী আন্দোলনে যুক্ত, তাদের কিছু করে পুরানো অভ্যেসে, ‘বাবা করতেন তাই আমি করি’ এই গোছের। আর একদল সম্পুর্ন দিক ভ্রান্ত।

এই ভ্রান্তির এক মুল কারন এদের সামনে কোনো অন্য আদর্শ নেই। সত্যিকারের হিন্দুত্ব, হিন্দু দর্শন এবং ধর্ম নিয়ে কেউ এদের সামনে এগিয়ে আসেনি। হিন্দু ধর্মের সংঘটনগুলি যেমন রামকৃষ্ণ মিশন , ভারত সেবাশ্রম সংঘ (হিন্দু মিলন মন্দিরে আজ আর কেউ আসে না বা সাধু মহারাজেরা আনেন না) সেই ভাবে হিন্দুদের এক করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। মহারাজেরা একদিকে মিশন চালিয়েছেন অন্য দিকে “আমরা হিন্দু নই” রামকৃষ্ণাইটস এই দাবী করে আদালতে গিয়ে হিন্দুদের চরম সর্বনাশ করেছেন। এরা কোনোদিন বোঝেন নি যে ” যত মত ততো পথ” কথাটার আসল সত্যটা কি? নিজেদের অস্বিত্ব ধুলায় লুটিয়ে আর যাই হোক “অধার্মিক আগ্রাসন বন্ধ করা যায় না”। সেই জন্যই আজ রামকৃষ্ণ মিশনের সাধুকে গাছে পিট মোড়া দিয়ে পিটিয়েছে, আর স্বামী বিবেকানন্দের দ্বারা যে মিশনের সৃষ্টি, সেই মিশন কিছুই করতে পারছে না। এই দোষ আজ প্রায় প্রতিটা হিন্দু ধর্মীয় সংঘটনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এমনকি, কৃষ্ণ ভক্ত ‘ঈসকন’ আজো বিদেশী পরিচালিত হয়ে অন্তরে অন্তরে হিন্দুদের আর এগুতে দিচ্ছে না। ওদের ‘রথ যাত্রা’র উদবোধন তাই তাকে দিয়েই হয় যিনি প্রকাশ্যে ঘোষনা করেন,”আমি গরুর মাংস খাই আরো খাবো”।আমি এই সব সংঘটনের অন্দরে ঢুকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। আজ তাই আমি একা।

এই বিশ্বে একটি মাত্র জাতি আছে যারা নিজের ভালো কি সেটা বোঝে না। আজো ‘ভ্রান্ত হিন্দু চিন্তা’ (আসলটাকে বাদ দিয়ে,কারন সেটা জানতে হয়) — দুর্বার টান অহিংসার প্রতি ( এরা ফোঁস করতেও ভুলে গেছে, অথচ মুখে রামকৃষ্ণ দেবকে আওড়ায়), লোভ, অসুয়া, খেয়ো খেয়িতে আপাংগ অভ্যস্ত।। সেই জাতি হিন্দু জাতি। এর মধ্যে বাঙ্গালী হিন্দুরা শধু নাম মাত্র হিন্দু, এদের কোনো মেরুদন্ড নেই, আর এরা ‘নিজের পায়ে নিজে কুড়াল দিতে আতীব ওস্তাদ’।

%d bloggers like this: